মান্দায় র‌্যাবের নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি


নিহত জিএস’র স্বজনদের অহাজারি। (ইনসেটে) নিহত জিএস-সোনার দেশ

নওগাঁর মান্দায় র‌্যাব হেফাজতে মোজাহারুল ইসলাম জিএস (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। র‌্যাবের দাবি, ওই যুবক ছিল অস্ত্র ব্যবসায়ী। গত শুক্রবার রাতে ছয় রাউন্ড গুলিসহ তাকে আটকের পর অভিযানের সময় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জিএসকে মৃত ঘোষণা করে বলে জানান র‌্যাব-৫ এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সৈয়দ মুরাদুল ইসলাম।
মৃত জিএস নওগাঁর মান্দা উপজেলার কৈবর্ত্যপাড়া গ্রামের আনিসুর রহমান মন্ডলের ছেলে। আনিসুর রহমানের দাবি, মিথ্যা অভিযোগে ধরে নিয়ে র‌্যাব প্রকাশ্যে তার ছেলেকে নির্যাতন করে। এতে তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মোজাহারুল ইসলাম এলাকায় জিএস নামেই পরিচিত। র‌্যাব-৫’র জয়পুরহাট ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সৈয়দ মুরাদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাতে ৬ রাউন্ড গুলিসহ জিএসকে আটক করা হয়। এর মধ্যে তিন রাউন্ড বন্দুকের গুলি এবং তিন রাউন্ড ছিল পিস্তলের গুলি। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে জিএস জানায় তার হেফাজতে আরো তিনটি অস্ত্র আছে। ওই অস্ত্র উদ্ধারে তাকে নিয়ে অভিযানের সময় গাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়ে জিএস। জিএসকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
জিএসের বড় ভাই আজাহারুল ইসলাম জিএম, ভাবি নাহিদা আক্তার, প্রতিবেশী মারুফ আহমেদসহ আরো অনেকে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিংগীবাজারের অদূরে পচার মোড় থেকে সাদা পোশাকে র‌্যাব জিএসকে আটক করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। মেজর মুরাদের নেতৃত্বে ৮-১০ জন র‌্যাব সদস্য জিএসকে দোতালায় তার কক্ষে নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী বেদম মারপিট করে। এরপর অস্ত্র উদ্ধারের নামে রাত ৯টার দিকে তাকে নিয়ে গ্রামের কবরস্থান, আমবাগান, কলাবাগানসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় র‌্যাব। রাত সাড়ে ১২টার দিকে আবার জিএসকে নিয়ে বাড়িতে আসে। এসময় গ্রামের দুইজন লোককে ডেকে নিয়ে তার কাছ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে বলে র‌্যাব সদস্যরা জানায়। এরপর জিএসকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে র‌্যাব সদস্যরা। সকালে খবর পাওয়া যায় জিএসের লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, অস্ত্র উদ্ধারের নামে জিএসকে পিটিয়ে হত্যা করেছে র‌্যাব।
জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুজ্জামান জানান, জিএসকে মৃত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। কিন্তু মৃত্যুর কারণ সর্ম্পকে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি।
এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান জানান, র‌্যাব কিংবা নিহত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয় নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ