মান্দায় স্কুলের অদূরে ইটভাটা এ ধরনের ইটভাটা অনুমতি পায় কীভাবে?

আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০১৯, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

পরিবেশ দুষণের সাথে ইটভাটা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এন্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত এই ইস্যুটি সবসমই উপেক্ষিত থেকেছে। ইটভাটা তৈরির জন্য সরকারের যে নিয়ম-নীতি বা প্রচলিত যে আইন তা পরিপূরক পালন হয় না বললেই চলে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইটভাটার অবস্থান খুবই ঝুঁকি পূর্ণ স্থানে হয়ে থাকে। তাতে শস্যখেত, ফলের বাগান এমনকি জনস্বাস্থ্যকে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তদুপরি অজ্ঞাত কারণে ওইসব ইটভাটার মালিকেরা ঠিকই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তেমনি একটি ইটভাটা বিষয়ে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ভাটার মাত্র ২৫০ মিটারের মধ্যে রয়েছে একরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একরুখী উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়াও রয়েছে দুটি আমবাগান ও আবাসিক এলাকা। ভাটায় ইট পোড়ানো শুরু হলেই এ দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মাঝে মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এবারও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে ওই দুটি স্কুলের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই ফিক্সড চিমনির সাহায্যে দীর্ঘদিন ধরে এ ভাটায় ইট পোড়ানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। ১৩ নভেম্বর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ভাটাটি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান ব্রজেন্দ্রনাথ সাহা। যদিও এসব অভিযোগ থোড়াই কেয়ার করেন ভাটা মালিক। যদিও তিনি দাবি করেছেন পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিয়েই ভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ভাটামালিক ইতোমধ্যেই ইট পোড়ানোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন। জ্বালানি হিসেবে ভাটা চত্বরে ইতোমধ্যেই বিপুল পরিমাণ কাঠের মজুদ গড়ে তুলেছেন। যদিও ভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ আছে।
ইট প্রস্তুত ও পোড়ানো পরিবেশ অধিদপ্তর আইনে (২০১৩ এর সংশোধনী) উল্লেখ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাগান ও আবাসিক এলাকার ১ কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। তা হলে মাত্র ২৫০ মিটারের মধ্যে দুটি স্কুল বিদ্যমান থাকার পরেও কীভাবে ইট পোড়ানোর কাজ চলতে পারে? এ প্রশ্ন এলকাবাসীর। তারা কীভাবে লাইসেন্স পাচ্ছে কিংবা ছাড়পত্র পেয়ে যাচ্ছে- সেটাও একটা বড় প্রশ্ন।
রাজশাহী অঞ্চলের ইট ভাটাগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করলে আমরা দেখবো যে এগুলোও ঘনবসতিপূর্ণ এবং গাছ-গাছালি সমৃদ্ধ এলাকায় অবস্থিত। অনায়াসেই এসব ভাটা ফলজবৃক্ষ ও জনস্বাস্ব্যের ক্ষতি করে চলেছে। অথচ এসব কিছু নিয়ে প্রশাসনের কোনো মাথা ব্যথা আছে বলে মনে হয় না।
এসব ইটভাটা যে মানুষ ও বৃক্ষের ক্ষতি করে চলেছে তা জানার জন্য এখন আর বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ তাদের অভিজ্ঞতা দিয়েই উপলব্ধি করছেন যে, ইটভাটা স্বাস্থ্য ও ফসলের ক্ষতি করে চলেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহীর চারঘাটে ইট ভাটার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করেই ক্ষান্ত হননি বিষয়টি মামলা মোকাকদ্দমা পর্যন্ত গড়িয়েছে। কৃষক তার অভিজ্ঞতা দিয়েই উপলব্ধি করেছেন গাছের আম কীভাবে ছোট হয়ে যাচ্ছে বা কী কারণে আমে কালো দাগ পড়ে যাচ্ছে। এরপরই তারা প্রতিবাদ করছে।
শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে কোনো কাজকে কারোরই সমর্থনযোগ্য নয়। মান্দা উপজেলায় দুটি স্কুলের অদূরের ইটভাটাটি বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন পদক্ষেপ নিবেন- এটা আমাদেরও প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ