মান্দায় হালকা শীতে ভোটের আমেজ

আপডেট: নভেম্বর ১, ২০২১, ৯:২৮ অপরাহ্ণ


মান্দা প্রতিনিধি :


ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে নওগাঁর মান্দা উপজেলার সবখানে বইছে ভোটের আমেজ। হেমন্তের হালকা শীতে চা ও ডিম খাওয়ার ধুম শুরু হয়েছে। হোটেল, রেস্তোরা ও চায়ের দোকানে প্রার্থীর কর্মি-সমর্থক ও ভোটারদের জমজমাট আলোচনায় তৈরি হয়েছে উৎসব মুখর পরিবেশ।

অনেকে আবার নিজের পছন্দের প্রার্থী নিয়ে তর্ক-বির্তকে জড়িয়ে পড়ছেন। তবে প্রতিক বরাদ্দ ও প্রচার-প্রচারণা শুরু না হলেও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, দলবেঁধে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে।

এবারের ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন। ৪ নভেম্বর বাছাই ও ১১ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা যাবে। আগামি ১২ নভেম্বর প্রতিক বরাদ্দ করা হবে প্রার্থীদের মাঝে। কিন্তু আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে প্রার্থীরা কর্মি-সমর্থক আর ভোটারদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন। অনেককে আবার মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, গণসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে হোটেল, রেস্তোরা, চায়ের দোকানসহ গ্রামগঞ্জের মোড়ে মোড়ে চলছে জমজমাট আড্ডা। পছন্দের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের বিষয় তুলে ধরে সাফাই ও গুনকীর্তনে মেতে উঠছেন কর্মি-সমর্থক ও ভোটাররা। একই সঙ্গে হেমন্তের হালকা শীতে চা ও ডিম খাওয়ার ধুম পড়ে গেছে।
জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন ও জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রত্যেক ইউনিয়নে এ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জামায়াতের প্রার্থীরাও উপজেলার অন্তত চারটি ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে পারেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ভোটার হাবিবুর রহমান জানান, অনেকদিন পর ভোটারদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। পছন্দের প্রার্থী নিয়ে হইচই চলছে। তবে নির্বাচনের সমীকরণ নিয়ে মতামত প্রকাশ করছেন বেশির ভাগ ভোটার। নির্বিগ্নে ভোটদান নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।

কশব ইউনিয়নের আরেক ভোটার আব্দুল জব্বার বলেন, হাট-বাজারসহ সবখানেই চলছে ভোটের হাওয়া। হালকা শীত হওয়ায় প্রচার-প্রচারণা জমাজমাট হবে। যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ভোটের সমীকরণ এবার পাল্টে যেতে পারে। বেশিরভাগ জয় যেতে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঘরে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, দলবেঁধে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে। এ বিষয়ে সকল প্রার্থীদের সর্তক করে দেওয়ার পরও তাঁরা বিধিনিষেধ মানছেন না। আগামি ৬ নভেম্বর প্রার্থীদের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হবে। এরপরও যদি কোন প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।