মান্দায় ১০ টাকা কেজির চাল না পাওয়ায় হতদরিদ্রদের বিক্ষোভ

আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০১৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি :



নওগাঁর মান্দায় গত নভেম্বর মাসে ১০ টাকা কেজির চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের এক হাজার ১০৮ জন হতদরিদ্র কার্ডধারী। দুইজন ডিলার নিয়োগ থাকা সত্ত্বেও চাল না পাওয়ায় তাদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বঞ্চিতরা।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় ইউনিয়নের তেঁতুলতলি মোড়ে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াদ আলী মন্ডল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সামসুদ্দীন প্রামানিক, প্রচার সম্পাদক সেলিম রেজা, সাবেক ইউপি সদস্য শাহ জামাল ও আফসার আলী, কার্ডধারী লতেজান বিবি, চম্পা বিবি, আকলিমা বেগম ও লছিরুন বিবি প্রমুখ।
বক্তারা দাবি করে বলেন, চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের গাফলতির কারণে ইউনিয়নের এক হাজার ১০৮ জন হতদরিদ্র নারী-পুরুষ গত নভেম্বর মাসে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় পুরাতন তালিকা যাচাই-বাছাই, নতুনভাবে ২২ জন হতদরিদ্র ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তসহ স্বচ্ছ তালিকা তৈরি ও দাখিলের জন্য ৭ সদস্যের কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এ কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পান উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা রাজীব কর্মকার। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সদস্য সচিব ওই ইউনিয়নের সচিব ইউনুছ আলী মন্ডল, সদস্য চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নারী ও পুরুষ সদস্য এবং দুইজন দলীয় প্রতিনিধি।
কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা রাজীব কর্মকার জানান, সঠিক সময়ে তালিকা দাখিলের জন্য কমিটির সদস্যদের নিয়ে দফায় দফায় সভা করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় ২০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন তালিকা তৈরি করে তার দফতরে দাখিলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। দলীয় প্রতিনিধি ও ইউপি সদস্যদের সমন্বয়হীনতার কারণে সঠিক সময়ে তার দফতরে তালিকা জমা দেয়া হয় নি। ২৮ নভেম্বর প্রাপ্ত তালিকা যাচাই-বাছাই করে ২৯ নভেম্বর সেটি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৮ নভেম্বর চাল উত্তোলন ও ২৯ নভেম্বর বিক্রির শেষ দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন কমিটির সঠিক সময়ে তালিকা জমা দেয় নি। এ কারণে নভেম্বর মাসে ওই ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত ৩৩ দশমিক ২৪০ মেট্রিকটন চাল উত্তোলন হয় নি।
ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, ইউপি সদস্য ও দলীয় প্রতিনিধিরা হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরি করেছেন। সঠিক সময়ে তালিকা জমা দিতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ডিলার বেলাল হোসেন জানান, তালিকা তৈরি কমিটির গাফলতির কারণে হতদরিদ্র ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুর রহমান খান বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন কমিটির সমন্বয়হীনতার কারণে সঠিক সময়ে তালিকা জমা না দেয়ায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এর দায়ভার ওই কমিটি এড়াতে পারেন না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ