মান্দায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা, আলু ও গমের চাষ

আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২১, ৮:৫২ অপরাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি:


নওগাঁর মান্দায় চলতি রবি মৌসুমে ১০ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষা, আলু ও গমের চাষ করা হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভের আশায় বোরো ধানের জমিতে আগাম চাষ করা হয়েছে সরিষা ও আলু। এ দুটি ফসল ঘরে তোলার পর কৃষকরা ওইসব জমিতে বোরো ধান রোপণ করবেন। এবারে অনুকুল আবহাওয়া বিরাজ করায় সরিষা ও আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিস্ট সুত্র।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের ৪ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও স্থানীয় জাতের চাষ হয়েছে ৫০ হেক্টর জমিতে। কৃষকদের আবাদ করা জাতের মধ্যে রয়েছে বারী-১৪, ১৫ ও ১৭, বিনা-৪ ও ৯, টরি-৭ এবং স্থানীয় জাত। উচ্চ ফলনশীল জাতের এ আবাদে চাষিরা ধারাবাহিতভাবে লাভবান হতে থাকায় তারা এ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।
তবে বিগত বছরের তুলনায় এ বছর চাষাবাদ কিছুটা কমে গেছে। কারণ হিসেবে অসময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতাকে দায়ী করছেন কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া অনুকুল হলে এ চাষ থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৫০ মণ সরিষা উৎপাদন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
সুত্রটি আরও জানান, ইতোমধ্যে টরি-৭ জাতের সরিষা ঘরে উঠতে শুরু করেছে। পাকার অপেক্ষায় রয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা। এছাড়া এ মৌসুমে ৩ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে আলু ও ২ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে গমের চাষ করা হয়েছে।
উপজেলার পশ্চিম নুরুল্লাবাদ গ্রামের কৃষক আসলাম হোসেন চলতি মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। গতবছর এ চাষে লাভবান হওয়ায় এবার বেশি জমিতে এ আবাদ করেছেন তিনি। শুধু আসলাম নন গ্রামের মাঠজুড়ে হয়েছে সরিষার আবাদ।
কৃষক আফজাল হোসেন, আব্দুল মতিনসহ আরও অনেকে জানান, আমন ও বোরো মৌসুমের মাঝখানে অনেকটা সময় মাঠের জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এসময় উচ্চ ফলনশীল সরিষার আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। তারা বলেন, উৎপাদিত সরিষা বিক্রির টাকা বোরো ধানচাষে ব্যয় করা হচ্ছে। এছাড়া সরিষার কাঁটা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা।
মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন বলেন, চলতি বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ কারণে গতবছরের তুলনায় সরিষার আবাদ কিছুটা কম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত অনুকুল আবহাওয়া বিরাজ করছে। ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত এমন আবহাওয়া থাকলে সরিষাসহ আলু ও গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।