মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ চিকিৎসক পদের ১৮টি শূন্য || বন্ধ হওয়ার উপক্রম বৈকালিক চিকিৎসাসেবা

আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০১৭, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি


চিকিৎসক সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। ২১ চিকিৎসকের পদের মধ্যে শুন্য রয়েছে ১৮টি। নেই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাও। তিনজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে জরুরি বিভাগের সেবা। বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে আউটডোরের বৈকালিক চিকিৎসাসেবা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৩৩ তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ ২২ জন নবীণ চিকিৎসক এ উপজেলায় যোগদান করেন। এদের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতজন ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১২ জনকে পোস্টিং দেয়া হয়। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওএসডি তিনজনকে পদায়ন করা হয় এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দুইবছর পূর্ণ হওয়ায় ইতোমধ্যে ১৮ জন চিকিৎসক বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। গতবছরের ৩১ ডিসেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কালী কিশোর দাস অবসরে গেলে এ পদটি শুন্য হয়ে পড়ে। আবাসিক চিকিৎসকের পদটিও শুন্য রয়েছে দীর্ঘদিন। চিকিৎসা কর্মকর্তা ভাস্কর চন্দ্র মন্ডল বর্তমানে এ দুইটি পদে একাই দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ছাড়াও জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ রয়েছে দশটি। এগুলো হলো মেডিসিন, শিশু, গাইনি, সার্জারি, চক্ষু, নাক-কান-গলা, অর্থোপেডিক, কার্ডিওলজি, অ্যান্সেথেসিয়া, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে এসব পদগুলোর সবই শুন্য। উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের ১৩টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকের পদও শুন্য রয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন মনোরঞ্জন মন্ডল, ফজলে রাব্বী ও মিজানুর রহমান রাজু। চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে কাঞ্চন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ফারহানা শিরিন ও ভালাইন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে নাহিদ আক্তারকে সাময়িকভাবে পদায়ন করা হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে (সকাল) ৭০ হাজার ৯২ জন এবং বৈকালিক চিকিৎসাসেবায় ১০ হাজার ৪ জন রোগি সেবা গ্রহণ করে। চলতি বছরে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সকালে ৪ হাজার ১৩২ জন ও বিকেলে ৫৭১ জন রোগি চিকিৎসাসেবা নিয়েছে। রোগিদের অভিযোগ, চিকিৎসক সঙ্কটে এখন আর প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না তারা।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈকালিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও হাসপাতালের পর দেশে প্রথম শুরু হওয়া এ চিকিৎসাসেবায় এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়ে। চিকিৎসা নিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন নানা বয়সের নানা রোগি। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই চিকিৎসাসেবায় পাল্টে যায় উপজেলার চিত্র। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসক সঙ্কটে ভাটা পড়েছে বৈকালিক সেবায়। জরুরি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক দিয়ে একই সঙ্গে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে দুই বিভাগের কাজ।
উপজেলার গোটগাড়ী হাইস্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম জানান, নওগাঁ জেলার বৃহত্তম উপজেলা মান্দা। প্রতিদিন কয়েকশ রোগি সেবা নিতে আসেন উপজেলার একমাত্র এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন তারা। এ সঙ্কট নিরসনে বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও স্থানীয় সাংসদ বস্ত্র ও পাটমস্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামানিকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভাস্কর চন্দ্র মন্ডল জানান, প্রায় সাড়ে চার লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এলাকায় স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে কোনোভাবে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে বৈকালিক চিকিৎসাসেবার কাজ। এলাকাবাসীর সুবিধার্থে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বিনা পারিশ্রমিকে এ সেবা চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। অচিরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক পদায়ন করা না হলে আউটডোর বৈকালিকসেবা চালু রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি।