মামলা প্রভাবিত কর্মসূচি দেয়া কতটা যৌক্তিক

আপডেট: মে ২৪, ২০২২, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

ড. ইলিয়াস উদ্দীন বিশ্বাস:


মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকসেনা ও তাদের দোসর রাজাকারদের অত্যাচারে নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল অনেক মানুষকে। বিশেষ করে সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে। আমার শৈশবে দেখা লুটেরাগণের সংখ্যালঘুদের ধনসম্পদ লুট করে নিয়ে যাওয়ার স্মৃতি আজও চোখে ভাসে।

ব্যতিক্রম ছিল না আমাদের নবী নগর (বারহাটি) গ্রামের সাঁওতাল জনগোষ্ঠীও। তবে রশিক হাসদার পরিবারের সবাই চলে গেলেও তিনি এদেশ ছেড়ে যাননি। তিনি আমার আব্বা তৈমুর রহমান বিশ্বাস ও চাচা তাইনুসুর রহমান বিশ্বাসের আশ্রয়ে ছিলেন। একদিন পাকসেনারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রশিক হাসদাকে ধরে নিয়ে যায়।

এর পরই রাজাকারেরা এসে আশ্রয় দেওয়ার কারণে আমার চাচাকেও ধরে নিয়ে যায়। রশিক হাসদা নাকি পাকসেনাদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, মরতে হলে এদেশেই মরব কিন্তু ভারতে যাব না। এ চিন্তা করেই ভারতে যাইনি। ‘এমন কথা শুনে পাকসেনারা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিল। এখবর পেয়ে রাজাকারেরা আমার চাচাকেও ছেড়ে দিয়েছিল।

রশিক হাসদার গোয়ালের গরু-বাছুর যারা নিয়ে গিয়েছিল তারাও তা ফেরত দেয়। সেই গরু-বাছুর দেখাশোনা করার জন্য আব্দুস সাত্তার নামের একজনকে রাখাল হিসেবে রেখেছিলেন আমার আব্বা। অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা আব্বার কাছ থেকেই আমার পাওয়া। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক নজরে দেখার শিক্ষাগ্রহণ করেছি। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিভিন্ন পদে থেকে সেটা পালন করার চেষ্টা করেছি। বর্তমান পদে থেকেও সেটা অব্যাহত রেখেছি।

আমাদের গোদাগাড়ী উপজেলার নিমঘুটু গ্রামের দুই সাঁওতাল কৃষকের অকাল মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এই মৃত্যুর রহস্য নিরপেক্ষভাবে উদঘাটন করা প্রয়োজন। অথচ ১৮/৫/২২ তারিখে ষোল দফার আড়ালে গভীর নলকূপের অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার বিচারকার্যকে প্রভাবিত করতে কোর্ট চত্বরের সামনে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সমাবেশ করে আরো বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দিয়েছে।

বিচারাধীন মামলা নিয়ে এধরনের হুমকি-ধামকি দেয়া কতটা যৌক্তিক? সেটা একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার জিজ্ঞেসা? মামলা চলাকালীন অবস্থায় ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলা প্রভাবিত কর্মসূচি দেয়া থেকে বা হুমকি দেয়া থেকে বিরত থাকা উচিৎ। কেননা ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার আসামিরও আছে।
লেখক : উপাচার্য, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ