মামুনুল হকের ব্যক্তিগত ব্যাপার হেফাজতের ভাবমূর্তি কোথায় দাঁড়ালো?

আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০২১, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে মামুনুল হকের রিসোর্টেকান্ডের প্রসঙ্গে হেফাজত আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, এটি মামুনুল হকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। ১১ এপ্রিল বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে হাটহাজারী মাদরাসায় প্রেস ব্রিফিং করে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ৩টায় পর্যন্ত মাদরাসায় দেশের বিভিন্ন এলাকার হেফাজত নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন হেফাজত আমীর। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং করেন।
দেশের মানুষের ধারণা ছিল অন্যরকম। মওলানাখ্যাত এক ব্যক্তি একের পর এক বিতর্কিত ও অনৈতিক কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবে এমনই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দেশের মানুষকে হতবাক করে দিয়ে হেফাজতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মামুনুল হক সম্পর্কে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে তা হতাশারই শুধু নয় একজন নীতিহীন মানুষের প্রতি সমর্থনই জানান হয়েছে। যারা ইসলাম ধর্মের নিরিখে ন্যায় সমাজ প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী তারা নীতিহীনতাকেই প্রশ্রয় দিল।
‘ব্যক্তিগত’ বিষয়টি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না। যারা সমাজ-সংগঠনের দায়িত্বে থাকেন, তারা অবশ্যই দায়িত্বশীল মানুষ। নীতি-নৈতিকতার সাথে দায়িত্ব নিয়েই কর্তব্য-কাজ, বক্তব্য ও আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হয়। অন্যথায় ওই ব্যক্তি নেতৃত্বে অযোগ্য হবেন। হেফাজতের সিদ্ধানো এটাই বাঞ্ছনীয় ছিল। কিন্তু হেফাজতে ইসলামী যুগ্ম সম্পাদক মামুনুল হকের ক্ষেত্রে সেটা হয় নি। তার অপরাধ কোনোভাবেই ব্যক্তিগত হতে পারে না। তিনি মানুষকে ইসলামের ধারায় চলতে শিক্ষা দেন, অসংখ্য মানুষ তার কথা শোনেন এবং মানেন তাকে অনুসরণ- অনুকরণ করেন। কিন্তু তিনি এর বিপরীত ধারায় চলতে পারেন না। এবং সেই দায় তাকে বাঁচাতে সংগঠন নিতে পারে না। কিংবা সেই ব্যক্তি সংগঠনের নেতৃত্ব দূরের কথা- সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদে থাকারও অধিকার রাখেন না।
মামুনুল হক সমাজে যে অনৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তা অন্য ইসলামী চিন্তাবিদরাও বলছেন, তার কর্মকা- ইসলাম মোটেও সমর্থন করে না। একে একে তার দুটো গোপন বিয়ের খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। প্রথম স্ত্রী বর্তমান রেখেই, স্ত্রীকে কিছু না জানিয়েই আরো দুটি বিয়ে তিনি গোপনের সেরেছেন। দ্বিতীয় বিয়ের ব্যাপারটি ঠেকাতে গিয়ে তিনি প্রচুর মিথ্যের আশ্রয় নিয়েছেন যা একজন ইসলামী নেতা হিসেবে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একই সাথে তিনি দেশের প্রচলিত আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ওই দুটি বিয়ে করেছেন। নারীদের হেয়-প্রতিপন্ন করার মত বক্তব্যও তিনি দিয়েছেন।
হেফাজতে ইসলামের শীর্ষনেতা যেভাবে মামুনুল হককে দায়মুক্তি দিলেন, তাতে করে সংগঠনেরই চূড়ান্ত ভাবমূর্তির সঙ্কট তৈরি করলেন। পরবর্তীকালে এই দৃষ্টান্তই সংগঠনের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে তুলবে। এটা মূলত ধর্মের নামে অপকর্মকে স্বীকৃতি দেয়ারই সামিল হল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ