মারজানের মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, বিচার হয়েছে

আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০১৭, ১১:০২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গুলশান হামলার ‘অন্যতম হোতা’ নব্য জেএমবির নেতা নুরুল ইসলাম ওরফে মারজানের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মৃত্যুকে তার কৃতকর্মের শাস্তি বলে মনে করছেন তার মা।
মারজানকে যারা জঙ্গি বানিয়েছে, তাদের বিচার চাওয়ার পাশাপাশি ছেলের বউ আর তাদের সন্তানকে ফেরত দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন পাবনা সদর উপজেলার আফুরিয়া গ্রামের এই নারী।
ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে মারজান ও জেএমবির আরেক জঙ্গি সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালে এ খবর পাবনায় মারজানের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
মারজানের মা সালমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আজ এই তা হয়ে গেল। যা হওয়ার হয়ে গেছে। ছেলের বিচার হয়ে গেছে খুশি হইছি। দেশের ক্ষতি করেছে আমার ছেলে। আমার ছেলের বিচার হইছে আমি খুব খুশি হইছি। কিন্তু আমি খুব দুঃখিত, আমার ছেলে একটা নিষ্পাপ শিশু রাইখে গেল, আমার ব্যাটা বউটা জেলের ভেতরে রয়ছে। দেখার মানুষ কেউ নেই।”
গুলশান হামলার পর সারা দেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মধ্যে গতবছর ১০ সেপ্টেম্বর পুলিশ আজিমপুরের একটি বাড়িতে অভিযানে গেলে আরও দুই জঙ্গির স্ত্রীর সঙ্গে গ্রেপ্তার হন মারজানের স্ত্রী আফরিন আক্তার প্রিয়তী ওরফে ফাতেমা ফেরদৌসী (২২)। ২০ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। প্রিয়তি ও তার মেয়েকে ফেরত দিতে সরকারের কাছে আবেদন জানান মারজানের মা।
মারজানের বাবা হোসিয়ারি শ্রমিক নিজাম উদ্দিন বলেন, “আমার ছেলে অনেক মেধাবী ছিল। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। মারজান পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছে। দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়। তারপর তাকে ভর্তি করাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।”
মারজানের জঙ্গি কর্মকা- সম্পর্কে কিছু শোনেননি দাবি করে তিনি বলেন, “২০১৫ সালের জানুয়ারির পর বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সে। এরপর হঠাৎ করেই জানলাম, সে জঙ্গি দলে নাম লিখিয়েছে। আমার সব স্বপ্ন এক মুহূর্তে ভেঙে দেয়ার আগে একবারও সে পরিবারের কথা ভাবল না।” মারজানের লাশ নেয়ার ইচ্ছার কথা বললেও ঢাকায় গিয়ে নিয়ে আসার সামর্থ্য নেই বলে জানান তিনি।
পাবনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন মারজান। কিন্তু ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা অসম্পূর্ণ রেখে তিনি নিরুদ্দেশ হন। এরপর ২০১৫ সালের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে পুলিশি তল্লাশিতে উদ্ধার কয়েকটি ল্যাপটপ ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের নথিপত্র পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, মারজান ছিলেন ওই সংগঠনের একজন সাথী।
আফুরিয়া গ্রামের আজিম উদ্দিন বলেন, “তাকে ভালো ছেলে বলে জানতাম। দীর্ঘ এক বছর বাড়ি না আসায় আমরা বুঝতে পারি নাই সে কী করেছে। “তবে সন্তান বাড়ির বাইরে থাকলে সব পরিবারেরই খোঁজখবর নেয়া উচিত। শুনলাম মারজান নাকি প্রায় এক বছর ধরে বাড়ির কারও সঙ্গে যোগাযোগ করে নাই।”
মারজানের সাবেক শিক্ষক পাবনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আনসারুল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কাফের হত্যা করলে বেহেশতে যাওয়া যাবে এ কথা ইসলামের কোথাও লেখা নেই।
“যারা এমন মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে ইসলামকে বিতর্কিত করে তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।”- বিডিনিউজ