মার্কিন মুল্লুকে বর্ণবাদ ও সন্ত্রাস শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ ঠেকানোর উপায় কী?

আপডেট: মে ২০, ২০২২, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ

গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষার দেশ দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সাথে দেশটিতে ভয়ঙ্কর বর্ণবাদ প্রথাও হিংস্র দাঁত মেলে থাকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিপরীতে। আমেরিকা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সবক শিখিয়ে থাকে উন্নয়শীল দেশগুলোকে কিন্তু নিজের দেশের মানবসভ্যতার জন্য ঘৃণিত অধ্যায় বর্ণবাদের অবসান ঘটাতে পারে নি। উন্নয়নশীল দেশসমূহে মানবাধিকারের একটু ঘাটতি হলেই দেশটি নানা ধরনের রাজনৈতিক কৌশলে ওই সকল দেশকে কঠোরভাবে শাসন করে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেÑ তাদের বশ্যতা স্বীকার করার জন্য জিম্মিও করে।
অতিসম্প্রতি নিউ ইয়র্কের বাফেলোয় ১০ কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যার ঘটনায় শোক প্রকাশ অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর জন্য শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ, মিডিয়া, ইন্টারনেট এবং রাজনীতির নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ এক ধরনের বিষ। এটা বিষ- এটা সত্যি- আমাদের রাজনীতির শরীর জুড়ে তা বয়ে চলেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের যতটা সম্ভব স্পষ্ট এবং জোর দিয়ে বলা প্রয়োজন যে আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মতাদর্শের কোনো স্থান নেই। কোথাও নেই।’
এটা তো কথার কথা। একটি জঙ্গি আদর্শ যা মানবতার শত্রু, সভ্যতার অপমান- সেই বর্ণবাদ প্রথা কীভাবে গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী একটি দেশে শত শত বছর ধরে টিকে থাকে? এ প্রশ্ন বারবারই আমেরিকাতে উঠেছে কিন্তু বর্ণবাদ প্রথার অবসান হয়নি। হয়নি, তার কারণও নিশ্চয় রয়েছে। আমরা শান্তি চাই। কিন্তু শান্তি বিঘ্নকারী উপাদানগুলো কিছু কিংবা অনেক মানুষের চিন্তার মধ্যে বিদ্যমান এবং সেগুলো বিলোপ করার টেকসই কোনো ব্যবস্থা যদি না থাকে তা হলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সত্যিই খুবই দুরহ ব্যাপার। এর বিহিত হওয়াটা খুবই সঙ্গত।
সন্ত্রাসী কর্মকা-ও দেশটিতে কম হচ্ছে না। সেখানে এক ধরনের নিরবতা লক্ষ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে- চলতি বছরে সাড়ে ৫ মাসেই প্রাণ গেছে দুই শতাধিক মানুষের। আহত অন্তত এক হাজার। একের পর এক বন্দুক হামলায় উদ্বেগে সাধারণ মানুষ। এই অবস্থায় ব্যক্তিগত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন আইনপ্রণেতাসহ বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা দীর্ঘদিনের সামাজিক সমস্যা। এর সমাধানে নানাভাবে চেষ্টা করছে দেশটির সরকার। কিন্তু কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না। দেশটির বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও বন্দুক হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এখানেও পরিস্থিতিটা তেমনি। এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বর্ণবাদ কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনীতি ও অর্থনীতির হিসাবটা রয়ে গেছে। এটার সমাধান আগে প্রয়োজন। না হলে ঘর সামলানো ক্রমশ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে পড়বে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ