মালদ্বীপের মেডিকেল শিক্ষার্থী রাউথার আত্মহত্যা ।। ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হোস্টেল থেকে লাশ উদ্ধার

আপডেট: মার্চ ৩০, ২০১৭, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলে রাওথা আতিফ (২০) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। তিনি মালদ্বীপের নাগরিক। গতকাল বুধবার দুপরে কলেজ হোস্টেল থেকে ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আত্মহননকারী রাউথার বাবার নাম মোহাম্মদ আতিফ। তিনি মালদ্বীপের মালে এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে হোস্টেলে আত্মহননকারী রাউথা আতিফ ছিলেন আন্তর্জাতিক মডেল তারকা। তিনি ভারত ও মালদ্বীপে মডেলিং করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন। বিখ্যাত ম্যাগাজিনগুলো রাউথা আতিফের ছবি তাদের প্রচ্ছদে ব্যবহার করেছে। এছাড়া তার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি গত বছর টুইটারে একটি পোস্ট দেন। রাউথা আতিফের এ ধরনের মৃত্যুতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও তার সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এধরনের আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুকে তারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
ছাত্রী হোস্টেলের সুপার ডা. মাহমুদা বেগম জানান, দেড় বছর আগে আতিফা রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি হোস্টেলের ফরেনার্স স্টুডেন্ট ব্লকের ২০৯ নম্বর কক্ষে থাকতেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাওথা আতিফ তার ঘর থেকে বের না হলে পাশের ঘরের সহপাঠীরা তার দরজায় নক করেন। এরপর দরজা না খুললে জানালা দিয়ে তারা ঊঁকি দিয়ে দেখেন রাওথার শরীর ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম জানান, তার কলেজে মোট ১৩জন বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। ওই ব্লকে ছয়টি কক্ষ রয়েছে। কক্ষগুলোতে ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপের শিক্ষার্থীরা থাকেন। রাওথা আতিফের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইতোমধ্যে ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদেরকে মৃত্যুর সংবাদটি জানানো হয়েছে।
এদিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলামসহ পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আমি নিহত শিক্ষার্থী রাওথা আতিফের পাশে থাকা কক্ষগুলোর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছি। বিষয়টি আত্মহত্যা বা হত্যাকা- কী না- সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অপরদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, পুলিশ রাওথার মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নামানোর পর বিছানায় রাখা হয়। তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন ছিলো না। তবে গলায় কালো আঁচড় ছিলো। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ওড়না পেঁচিয়ে যাবার কারণে কালো দাগ হয়েছে। এসময় তার কক্ষের বিছানাসহ অন্যান্য আসনবাবপত্র ছিলো অগোছালো।
অপরদিকে রাউথা আতিফের সহপাঠীরা জানান, রাউথা ধনী পরিবারের মেয়ে। তার চলাফেরা বেপরোয়া ছিল। এটি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের পছন্দ ছিল না। চলাফেরায় পরিবর্তন আনার জন্য কয়েকবার কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে সতর্ক করেছিল বলেও তার এক সহপাঠি জানায়।
মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) ইফতে খায়ের আলম বলেন, রাউথার মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে খবর দেয়া হয়েছে। তারা আসার পর লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে।
তিনি বলেন, রাউথা মডেলিঙের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তার সহপাঠীরাও এ বিষয়ট নিশ্চিত করেছেন। তবে তার মধ্যে মানসিক ডিপ্রেশন ছিলো বলে জানা গেছে। সব বিষয়গুলোই তদন্ত করে দেখছেন পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।
এদিকে রাউথা আতিফ নামে একটি ফেইসবুক আইডির সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই আইডিটি রাউথার বলে তার সহপাঠিরা নিশ্চিত করেছেন।
ওই আইডিতে রাউথার মডেলিঙের কিছু ছবিও রয়েছে। ২০১৬ সালে ভোগ ইন্ডিয়া ম্যাগাজিনের অক্টোবরের সংখ্যার প্রচ্ছদে অন্যান্য মডেলের সঙ্গে রাওথাও ছিলেন। নবম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অক্টোবরে প্রকাশিত হয় ভোগ ম্যাগাজিনের সংখ্যাটি। মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও আন্তর্জাতিক মডেল তারকা হিসেবে খ্যাতি পাওয়ায় ২০১৬ সালের ২২ অক্টোবর সে দেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল্লাহ ইয়ামিন আব্দুল গাইয়ুম রাউথাকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইটারে একটি পোস্ট দেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ