মাশরাফিকে জয় উপহার দিতে চান সাকিবরা

আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



প্রিয় ক্যাপ্টেনকে একটা জয় উপহার দেয়াটাই টিম টাইগার্সের আজ রোববারের মিশন। দল জিতলে বাংলাদেশ জিতবে, জিতবেন মাশরাফিও। নতুবা বাংলাদেশে ফেরার পথে নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার যত সুন্দর সব শহরে পর্যটকের সাজে ঘুরে বেড়ানো হোক না কেন বাংলাদেশ কাপ্তানকে তা সারাক্ষণ পোড়াবেই। আর জিতলে ফুরফুরে থাকবে তার মন।
শুক্রবার মাউন্ট মাঙ্গানুইর প্রেসবক্সে পাশে বসেছিলেন কিউই সাংবাদিক কলিন। মাঝে মাঝে নিচু লয়ে কথা বলছিলেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিয়ে। তাদের খুঁটিনাটি তথ্য জানতে চাইছিলেন। মাশরাফি সম্পর্কে বললেন, ‘ওতো আর বড়জোর বছরখানেক খেলবে বোধ হয়। তোমাদের দেশে নিশ্চয় সে খুব জনপ্রিয়।’ জবাব দিতে গিয়ে বলা হয়, মাশরাফির পর হয়তো বাংলাদেশ দলে বড় একটি শূন্যতার সৃষ্টি হবে। কারণ দলে তিনি এক রকম অভিভাবকের মতো। তার ভূমিকাটি খেলোয়াড়দের বড় ভাই, বন্ধু অথবা পিতার মতো। আর মাশরাফির জনপ্রিয়তা? সে তার গ্রামের বাড়ি গেলে এলাকার লোকজন তাকে শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে আসেন। সিনিয়ররা অনুরোধ করে বলেন, ‘কৌশিক (মাশরাফির ডাক নাম), তুমি এবার এখানকার এমপি ইলেকশন কর। আমরা সবাই তোমার জন্য কাজ করব।’ এসব শুনে কলিনের চোখ-মুখ যেন বিস্ফোরিত হয়। তার মুখ দিয়ে বেরোয় পরপর দুটি শব্দ- ‘এমেজিং’, ‘গ্রেট’।
সেই মাশরাফি বিন মর্তুজা, রবিবার বাংলাদেশ দলের ক্যাপ্টেনের মাউন্ট মাঙ্গানুইর ম্যাচটি নিউজিল্যান্ড সফরে তার শেষ ম্যাচ। কারণ এরপর দুটি টেস্ট, যেই ফরম্যাট থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন তিনি। সে কারণে আপাতত ক্রিকেট ভুলে পর্যটক হয়ে যাবেন। তার স্ত্রী-সন্তানরা এর মাঝে এখানে এসে পৌঁছেছেন।  রোববারের ম্যাচ শেষে দলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তিনি সপরিবারে নিউজিল্যান্ড ঘুরবেন তিন-চারদিন। এরপর এখান থেকে যাবেন সিডনি। সেখানে দিন তিনেক থেকে তারা ফিরে যাবেন দেশে।
নিউজিল্যান্ড সফরে এসে কঠিন এক পরিস্থিতিতে পড়েছে মাশরাফি বাহিনী। এখন পর্যন্ত জয়ের দেখা নেই। ওয়ানডে সিরিজে এরমাঝে তারা হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। পরপর দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হেরে এ সিরিজেও তারা হোয়াইটওয়াশ হওয়ার ঝুঁকির মুখে। সমর্থকদের জন্যে সবচেয়ে আক্ষেপের হলো বারবার আশা জাগিয়ে বাংলাদেশ দল হেরে যাচ্ছে। একই অবস্থা ওয়ানডের পাশাপাশি পরপর দুটি টি-টোয়েন্টিতেই হয়েছে। দলের এ পরিস্থিতির সবকিছুর ধকল যায়-যাচ্ছে ক্যাপ্টেন মাশরাফির ঘাঁড়ের উপর দিয়ে।
কোচ এবং অন্যরা কালেভদ্রে মিডিয়ার কাঠগড়ায় দাঁড়ান। বহু বছর ধরে দলের সঙ্গে থাকায় মিডিয়ার লোকজনের সঙ্গেও বিশেষ একটি ঘনিষ্ঠ সৌহার্দের সম্পর্ক তার। অতএব মিডিয়ার লোকজন তাকে পেতে অফিসিয়াল ব্রিফিংয়ের অপেক্ষা করতে হয় না। সে জন্যে খেলার ভেন্যুগুলোতে একটু হাঁটাচলা করলে কোথাও না কোথাও মাশরাফির সঙ্গে কোনও না কোনও ক্রিকেট সাংবাদিককে কথা বলতে দেখা যাবেই। সেখানে শুধু খেলা নয়, ব্যক্তিগত কুশল ও সুখদুঃখ ভাগাভাগি হয়। নড়াইলের আঞ্চলিক ভাষার টানে তাদের সঙ্গে অনেক মজাও করেন মাশরাফি। এই হলেন গিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কাপ্তান।
নিউজিল্যান্ড সফর কভার করতে আসা বাংলাদেশের সাংবাদিকরা এখানে প্রায় প্রতিদিনই মাঠে, অনুশীলনের আগে-পরে বা খেলার পরে, টিম হোটেলে, বা আশেপাশের কোনও খাবারের দোকানে প্রায় পেয়ে যান মাশরাফিকে। বিদেশ গেলে সবাই এমন কিছুটা ক্যাজুয়াল মুডেও থাকেন। এই সফরের প্রায় প্রতিটি ম্যাচে হারার পর মিডিয়ার কাঠগড়ায় এসে বসছেন মাশরাফিই। ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকরা তাই ব্রিফিংয়ের আগে মাশরাফিকে মজা করে বলেন, আবার একবার পুরনো রেকর্ডটা বাজিয়ে যান আর কী! মাশরাফি মজাটা বুঝতে পারেন। এসব টিপ্পনিতে মনে কিছু করেন না। কখনোবা মজা করে জবাব দেন, দিন আমাগোও আইবো। এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আর কোনও ক্রিকেট পাগল দেশের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে সাংবাদিকদের আছে?
এই মাশরাফির রবিবার শেষ ম্যাচ নিউজিল্যান্ড সফরের। হোয়াইটওয়াশড ওয়ানডে সিরিজের পর টি-টোয়েন্টির দুটি ম্যাচে হেরে গেলেও বাংলাদেশ দল এখন শুধু একই জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত পর্যটক! রবিবারের ম্যাচটি জিততে পারলে দেশবাসীর সঙ্গে মাশরাফির চেয়ে বেশি খুশি হবেন আর কে? দলের খেলোয়াড়রাও তা জানেন। খেলোয়াড়রাও মুখিয়ে আছেন একটি জয়ের জন্যে। অতএব জ্বলে ওঠো টিম বাংলাদেশ। আরেকটিবার। আজ রোববারের শেষ টি-টোয়েন্টি খেলাকে সামনে রেখে এই ম্যাচ প্রিভিউটিও মাশরাফির জন্যে উৎসর্গ করা হচ্ছে। মাউন্ট মাঙ্গানুইর বে ওভাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায়। বাংলাদেশ দলে একটা পরিবর্তন আছে আছে এদিন। মুস্তাফিজকে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। তার জায়গায় খেলবেন তাসকিন। চোট শেষে নিউজিল্যান্ড সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন মুস্তাফিজ। কিন্তু এখনও যেন সেই স্বতঃস্ফূর্ত ‘ফিজ’ অনুপস্থিত! ফিজিওর পরামর্শে প্রথম টেস্টের মতো শেষ টি-টোয়েন্টিতেও তাকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে।-বাংলা ট্রিবিউন