মাশরাফির অবসর প্রসঙ্গে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া

আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২০, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


কার কাছ থেকে বিদায় নেবো? সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন রেখেছিলেন মাশরাফি। জাতীয় নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তার অবসর নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেই আলোচনা ডালপালা মেলেছে বিশ্বকাপের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে। পাকিস্তান ম্যাচের আগে তো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল লর্ডসেই অবসরের ঘোষণা দেবেন!
গত কিছুদিনের আলোচনায় বিরক্ত মাশরাফি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অবসর নিয়ে কিছু ভাবেননি। যখন সময় হবে, তখনই অবসর নেবেন। সেই সঙ্গে ‘ঘটা’ করে অবসর নিতে চান না বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশের সফল অধিনায়ক।
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু অবশ্য মনে করেন, এটাই মাশরাফির অবসরের সিদ্ধান্তের সঠিক সময়। বাংলা ট্রিবিউনকে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়ের শেষ বলে কিছু থাকে। খেলোয়াড়কেই বিশ্লেষণ করতে হবে, তিনি কোথায় দাঁড়িয়ে। একটা সময় মাশরাফির পারফরম্যান্সে সারা দেশ আনন্দিত হতো। এখন সেখানে ভাটা। মাশরাফিকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কখন খেলা ছেড়ে দেবেন। আমার মনে হয় কেবল আমিই না, বেশিরভাগ মানুষই মনে করে মাশরাফির অবসরের এটাই সঠিক সময়।’
ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি একজন সংসদ সদস্যও। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালনের জন্য তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়া উচিত বলে মনে করেন গাজী আশরাফ, ‘মাশরাফি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আছেন। এই দায়িত্বকে সম্মান দেখাতে হবে। এলাকায় তার যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাও আছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা বেশ কঠিন। তাই এটাই সঠিক সময় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার। বোর্ডকে এর মধ্যে না রেখে মাশরাফির নিজেরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পরই সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, কবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যাবেন। তবে তরুণদের জন্য অনুকরণীয় হলো, এই বয়সেও তার বলের লাইন-লেন্থ ভালো। গতিটা কেবল নেই। এখান থেকে তরুণদের শিক্ষা নেওয়ার আছে।’
দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা শাহরিয়ার নাফীস মনে করেন, অবসরের সিদ্ধান্তটা মাশরাফির ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। তার মতে, অবসর নিয়ে আলোচনার জন্যই ওয়ানডে অধিনায়ক বেঁকে বসেছেন, ‘বিশ্বকাপের আগে থেকে বোঝাই যাচ্ছিল মাশরাফি ভাই হয়তো আর অল্প কিছুদিন খেলবেন। তবে বিষয়টি নিয়ে এত টানা-হেঁচড়া হচ্ছে যে উনি বিরক্ত হয়ে বলছেন আমি আরও খেলবো। এটা নিয়ে এত কথা বলার কিছু দেখছি না। এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। মাশরাফি ভাইয়ের মতো একজন খেলোয়াড়ের কাছে টাকা-পয়সার চেয়ে সম্মান বড়। তার মতো ক্রিকেটার আক্ষেপ নিয়ে এভাবে বললে সাধারণ ক্রিকেটারদের কী হবে!’
মাশরাফিকে বিসিবি মাঠ থেকে ভালোভাবে বিদায় দিতে চায়। তিনি চাইলেই বিসিবি এমন উদ্যোগ নেবে। বিসিবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে নাফীস বলেছেন, ‘শুধু জাতীয় দল নয়, ঘরোয়া লেভেলেও ক্রিকেট আছে। আমরা কিন্তু ভালোবেসেই ক্রিকেট খেলি। জাতীয় দলে খেলতে পারলে ভালো, ওখানে অর্থ-সম্মানের ব্যাপার আছে। বোর্ডকে ধন্যবাদ মাশরাফি ভাইয়ের জন্য এমন উদ্যোগ তারা নিতে যাচ্ছে। তবে অবসর নেবেন কিনা সেই সিদ্ধান্ত তার একান্তই ব্যক্তিগত।’
বাঁহাতি ওপেনার আরও বলেছেন, ‘তিনি একজন সংসদ সদস্য, বয়স ৩৫ প্লাস। তিনি কি আরও ১০ বছর খেলবেন? বোঝাই যাচ্ছে, দ্রুত অবসরে যাবেন। এটা নিয়ে বেশি কথা না বলাই উচিত। বোর্ড তাকে ভালোভাবে বিদায় দিতে চাইলে সেটা মাশরাফি ভাই আর বোর্ড বুঝুক। প্রিমিয়ার লিগ থেকে বিদায় নিলেও কিন্তু মাঠ থেকে বিদায় নেওয়া হয়। তাই বিষয়টি নিয়ে বেশি আলোচনা না করাই ভালো।’
আঙুলের ১৪টি সেলাইও টলাতে পারেনি মাশরাফিকে, বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচ খেলেছেন ঢাকা প্লাটুন অধিনায়ক। গাজী আশরাফ অবশ্য মাশরাফির এমন ‘পাগলামি’র বিরুদ্ধে, ‘১৪টা সেলাই নিয়ে খেলা সত্যিই বিস্ময়কর। এটা একেবারে পাগলামি। এটা ভালো উদাহরণ হতে পারে না। তার আবেগ থাকতে পারে। কিন্তু কোনও কোনও জায়গায় আবেগ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। মাশরাফি অনেক দুঃসাহস দেখিয়েছে। অন্য খেলোয়াড়দের কাছে এটা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হতে পারে।’