মাহমুদউল্লাহর বাদ পড়ার কারণ

আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৭, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বাংলাদেশের শততম টেস্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল তাকে। শ্রীলঙ্কা সফরে ওই ম্যাচের পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও জায়গা হলো না মাহমুদউল্লাহর। ক্রিকেটের সবচেয়ে দীর্ঘ সংস্করণে সময়টা ভালো না যাওয়ায় ১৪ জনের স্কোয়াডে তাকে বিবেচনায় আনেন নি নির্বাচকরা।
শ্রীলঙ্কা সফরে প্রথম টেস্টের একাদশে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। গলে ব্যাট হাতে মোটেও সুবিধা করতে পারেননি, দুই ইনিংসে রান ছিল যথাক্রমে ৮ ও ০। পরের টেস্টে একাদশে রাখা হয়নি তাকে। কলম্বোর সেই টেস্টটি বাংলাদেশের জন্য ছিল ‘স্পেশাল’, টাইগারদের শততম টেস্ট। এমন স্মরণীয় ম্যাচে বাদ পড়ার পর সফরের মাঝপথে ব্যক্তিগত কারণে মাহমুদউল্লাহর দেশে ফিরে আসা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। শোনা যাচ্ছিল, শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডে সিরিজের দলেও সুযোগ পাবেন না তিনি। যদিও এমন গুঞ্জন সত্যি হয়নি, প্রত্যাশিতভাবেই দলে ছিলেন এই অলরাউন্ডার।
ওয়ানডেতে আস্থার প্রতীক মাহমুদউল্লাহ কেন টেস্টে উপেক্ষিত ইদানীং? উত্তরটা পাওয়া যাবে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে। টেস্ট ক্রিকেটে সবশেষ ১৩ ইনিংসে মাত্র একটি হাফসেঞ্চুরি করতে পেরেছেন তিনি। ৬৪ রানের ইনিংসটি ছিল গত ফেব্রুয়ারিতে, ভারতের বিপক্ষে হায়দরবাদ টেস্টে। এর আগে হাফসেঞ্চুরি পেয়েছিলেন সেই ২০১৫ সালে, চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ৬৭ রানের পর মাহমুদউল্লাহর পরের ইনিংসগুলো এরকম- ৩৫, ৩৮, ১৭, ১৩, ৪৭, ২৬, ৫, ১৯, ৩৮, ২৮, ৬৪, ৮ ও ০। অর্থাৎ শ্রীলঙ্কায় খেলা সবশেষ ইনিংসে রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
সাদা পোশাকে ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া মাহমুদউল্লাহকে তাই বাদ দেওয়া হয় কলম্বোয় বাংলাদেশের শততম টেস্ট থেকে। এবার নেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টেও। বাজে পারফরম্যান্স তো আছেই, কলম্বোয় ‘ঐতিহাসিক’ টেস্টে জয়ও তাকে দলে জায়গা পেতে দেয়নি। ৩১ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের বাদ পড়ার কারণ হিসেবে সে কথাই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, ‘মাহমুদউল্লাহ যে থাকবে না, এটা প্রত্যাশিতই ছিল। শ্রীলঙ্কায় সর্বশেষ যে দল আমরা খেলিয়েছিলাম, সেখানে কিন্তু মাহমুদউল্লাহ ছিল না।’
প্রধান নির্বাচকের কথায় স্পষ্ট, প্রথম টেস্টে মাহমুদউল্লাহ তাদের বিবেচনাতেই ছিলেন না। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে বাইরে রেখে তারুণ্যের যে জয়গান আরও একবার গাইলেন নির্বাচকরা, তাতে কতটা ফল মিলবে সেটাই এখন দেখার।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফর্ম করেছেন নাসির হোসেন। তাই তার টেস্ট দলে ফেরার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল কয়েক দিন ধরে। গুঞ্জন সত্যি করে দুই বছর পর পাঁচ দিনের ক্রিকেটে ফিরেছেন এই অলরাউন্ডার। ১৪ জনের স্কোয়াডে মাহমুদউল্লাহর লড়াইটা সম্ভবত হয়েছে নাসিরের সঙ্গে। দুজনেই ব্যাটিং অলরাউন্ডার, দুজনই অফ স্পিনে ঘায়েল করতে পারেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের। প্রধান নির্বাচক নাসিরকে দলে নেওয়ার যুক্তিতেও উল্লেখ করেছেন, অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বেশি থাকায় তারা মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে আরও একজন অফস্পিনারকে বিবেচনায় রেখেছিলেন। নির্বাচকরা সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং শততম টেস্টে পাওয়া জয়কে গুরুত্ব দেওয়ার জন্যই হয়তো কপাল পুড়েছে মাহমুদউল্লাহর!-বাংলা ট্রিবিউন