মাহাতাব চৌধুরী বেঁচে থাকবেন তার কাজের মধ্যে || স্মরণ সভায় বক্তারা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭, ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


স্মরণ সভায় বক্তব্য দেন রাজশাহী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান-সরবরাহকৃত

রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক সাংবাদিক মাহাতাব চৌধুরীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড় ৫টায় রাজশাহী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি আবু সালে মো. ফাত্তাহ্র সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন, রাজশাহী প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য বিশিষ্ট কলামিস্ট প্রশান্ত কুমার সাহা, মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার ইকবাল বাদল, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, রাজশাহী প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলা, শিক্ষা স্কুল অ্যান্ড কলেজ অধ্যক্ষ ইব্রাহিম হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক সুব্রত দাস, কামাল মালিক, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংগ্রাহক ওয়ালিউর রহমান বাবু, আওয়ামীলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, সমাজ উন্নয়ন কর্মী ইকবাল হাসান টাইগার, যুবসংহতি কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হক দুখু, ফটোসাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ টকি, সাজ্জাদ মৃধা প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন, রাজশাহী প্রেসক্লাব কোষাধ্যক্ষ এসএম আতিক।  এ সময় বক্তারা, প্রয়াত সাংবাদিক মাহাতাব চৌধুরী যে পত্রিকার সাথে আমৃত্যু যুক্ত ছিলেন, সে পত্রিকাটি তাঁর মৃতবার্ষিকীর দিনে কোনো সংবাদ পরিবেশ না করায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
এসিডি: মাহাতাব চৌধুরী বেঁচে থাকবেন তার কাজের মধ্য দিয়ে। একজন সৎ মানুষ কেমন হয় তা মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীকে দেখে বোঝা যেত। মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি’র স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এসিডি’র ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর পংকজ কর্মকারের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য দেন, এসিডি’র এইচআর ম্যানেজার শাহীনুর আলম প্রকল্প সমন্বয়কারী এহসানুল আমিন ইমন, রায়হানুল ইসলাম প্রজেক্ট অফিসার, আহ্সানুল্লাহ সরকার মনিটরিং অফিসার বিলকিস চৌধুরী, ডিস্ট্রিক প্রোগ্রাম ফ্যাসিলেটেটর ফরিদ আহমেদ প্রমুখ।
স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, মাহাতাব চৌধুরীর মৃত্যুর পর হাসপাতাল সংক্রান্ত প্রতিবেদন এখন কম দেখা যায়। এছাড়া তিনি অপরাধ বিষয়ক সংবাদ, নারী ও শিশু নির্যাতন ও মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক, তামাক নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য সামাজিক সচেতনতামূলক সংবাদ পরিবেশন করতেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই মাহাতাব চৌধুরী একদিকে সাংবাদিকতা এবং অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মী হিসেবে কাজ করে গেছেন।
উল্লেখ যে, মাহাতাব চৌধুরী ১৯৮৫ সাল থেকে সাপ্তাহিক সোনার দেশ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৯১ সালে ‘সোনার দেশ’ দৈনিক হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে নিয়মিত সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৯৫ এর শেষের দিকে রাজশাহীর বহুল প্রচারিত দৈনিক সোনালী সংবাদ পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করেন। এছাড়া তিনি ২০০৫ সালে রোটারী ক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মাননা, ২০০৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সোনালী সংবাদের যুগপূর্তি উপলক্ষে পত্রিকায় কাজের অবদান স্বরূপ সম্মাননা, ২০০৭ সালের ২৯ অক্টোবর মানবপাচার প্রতিরোধ বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য দেওয়াকা ফাউন্ডেশনের পুরস্কার লাভ, ২০১১ সালের মার্চ মাসে রাজশাহীর নিক্কণ নৃত্য শিল্পী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ডিআইজি মামুন মাহমুদ ও এসপি শাহ্ আব্দুল মজিদ স্মৃতি সম্মাননা লাভ, ২০১০ সালে ম্যানেজমেন্ট এন্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিসিয়েটিভ (এমআরডিআই) থেকে স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য ফেলোশিপ লাভ ও ২০১২ সালের ৩০ মে প্রজ্ঞা তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার লাভ করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এসিডি’র ইনভেস্টিগেশন অফিসার ও দৈনিক সোনালী সংবাদ পত্রিকার চিফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।