মাহেরশালা আলিকে অভিনন্দিত করায় তোপের মুখে পাকিস্তানি কূটনীতিক

আপডেট: মার্চ ১, ২০১৭, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



বিশ্বের প্রথম মুসলিম হিসেবে মাহেরশালা আলির অস্কার জয়ে তাকে অভিনন্দিত করায় তোপের মুখে পড়েছেন জাতিসংঘে পাকিস্তানের দূত মালিহা লোদি।
রোববার ৮৯ তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস-এর আসরে ‘মুনলাইট’ সিনেমার জন্য পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনেতার অস্কার জেতেন মাহেরশালা। এর মাধ্যমে তিনিই হয়ে ওঠেন ইতিহাসের সর্বপ্রথম মুসলিম অস্কারজয়ী।
মার্কিন এই অভিনেতা জন্মসূত্রে খৃষ্টান হলেও পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আহমাদীয়া গোষ্ঠীতে যোগ দেন।
পাকিস্তানে সাংবিধানিকভাবে আহমাদীয় জনগোষ্ঠীকে ‘অমুসলিম’ হিসেবে গণ্য করা হয়। দেশটির সংবিধানের ২৬০-৩ নম্বর অনুচ্ছেদে আহমাদিয়াদের ‘অমুসলিম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর তাই মালিহা লোদি বিশ্বের প্রথম মুসলিম হিসেবে মাহেরশালাকে টুইটারে অভিনন্দন জানালে তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে পাকিস্তানিরা। সমালোচনার জেরে নিজের ওই পোস্ট টুইটার থেকে মুছে ফেলতে বাধ্য হন মালিহা।
এবারের অস্কারে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পাওয়া ‘মুনলাইট’-এ মাহেরশালা আলি অভিনয় করেছেন এক মাদক ব্যবসায়ীর চরিত্রে, যে, সিনেমার মূল চরিত্র শিরনের, কৈশরে বৈরি পরিবেশের সঙ্গে তাকে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে।-বিডিনিউজ
এদিকে খুব একটা খ্যাতি এত দিন ছিল না তাঁর ভাগ্যে। কিন্তু ভাগ্য বদলে দিল একটা ছবি-‘মুনলাইট’। পেয়ে গেলেন অস্কারের শ্রেষ্ঠ সহ অভিনেতার পুরস্কার। তিনি মাহেরশালা আলী। আজ তিনি আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু এই আলীই একসময় ডুবে গিয়েছিলেন গভীর হতাশায়। সেই কথা জানালেন হলিউড রিপোর্টার ম্যাগাজিনকে।
আলীর তিন বছর বয়সে তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই খুব কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘আমার ভেতর প্রচ- দুঃখ, হতাশা কাজ করেছিল। সেটা সব সময় আমার সঙ্গী হয়ে রয়েছে।’ তবু মায়ের দুঃখটাকে সামাল দিতে নিজের মনকে শান্ত করেছিলেন শিশু আলী। বয়স যখন ৯/১০ বছর তখন তাঁর মা আবার বিয়ে করেন। সৎ বাবার সঙ্গে খুব একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল না তাঁর। সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হতো তাঁর ওপর। আর এর ব্যাখ্যা তিনি কখনো পেতেন না।
তাঁরা খুব গরিব ছিলেন না, কিন্তু আর্থিক অনটন সংসারে লেগে থাকত প্রায় সময়। শৈশব খুব একটা মন্দ ছিল যে তা নয়। কিন্তু আলী হতাশ ছিলেন চারপাশের পরিবেশ দেখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশের নষ্ট হয়ে যেতে থাকা পরিবেশটা নিয়েও ভাবতেন তিনি। দেখেছেন এইডসে আক্রান্ত হয়ে ২৮-২৯ বছর বয়সেই বাবার বন্ধুদের মৃত্যু। দেখেছেন আত্মীয়-বন্ধুর খুন, জেল খাটা, মাদক ব্যবসা-এমন নানা অপরাধ। আরেক দিকে ছিল নিজের বাবাকে সব সময়ের জন্য কাছে পাওয়ার আকুল আকাক্সক্ষা। এ সবকিছুই তাঁকে ভাবাত। ইনসমনিয়ায় ভুগেছেন। সারা রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন। আর তখনই প্রথম প্রেমে পড়েছেন শিল্পের। সারা রাত বসে কবিতা লিখতেন।
বাবা-মাকে অনেক ভালোবাসেন আলী। কিন্তু জানান, কোনো এক সময়ে দুজনের সঙ্গেই সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। মায়ের সঙ্গে তো কয়েক বছর কথা বলাই বন্ধ ছিল। এরপর অবশ্য সব ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছে। বাবা বেঁচে নেই। মঞ্চে অভিনয় করতেন তিনি। আলীর গর্ব, বাবার মতো কিছু একটা করতে পারছেন অভিনয়ে এসে।
ব্যাপ্টিস্ট পরিবারের জন্ম হওয়া মাহেরশালা আলী ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। আর তিনিই প্রথম মুসলিম অভিনেতা যিনি অস্কার পুরস্কারে সম্মানিত হলেন। হলিউড রিপোর্টার, ওয়াশিংটন পোস্ট অবলম্বনে