‘মা’ পৃথিবীর এক শ্রেষ্ঠ নাম

আপডেট: মে ৯, ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

শাহাদাত আনসারী:


আজ ৯ মে অর্থাৎ বিশ্ব ‘মা’ দিবস। মায়ের প্রতি ভালবাসা আর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রতি বছর বিশ্বব্যাপি বেশ উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে পালিত হয় মা দিবস। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ দিবসটি পালিত হয় বেশ মর্যাদার সাথে। পৃথিবীতে মায়ের চেয়ে প্রিয় আর কেউ নেই। ‘মা’ শব্দটি খুব ছোট হলেও এর তাৎপর্য অনেক। আজকের এই দিনে বিশ্বের সকল মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানাচ্ছি।
‘মা’! মা শব্দটি উচ্চারণ করলে কেন যেন গা শিহরিত হয়। সন্তানের প্রতি ভালবাসার কারণেই হয়তো এটা হয়ে থাকে। পৃথিবীতে মায়ের মর্যাদা সবচেয়ে বেশি। এ শব্দটির মাঝে লুকিয়ে রয়েছে অসীম ভালবাসা আর প্রশান্তি। নেপোলিয়ান বলেছেন ‘আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও আমি একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো।’ নেপোলিয়ানের এ উক্তি থেকে সহজেই উপলব্ধি করা যায় শিক্ষিত জাতি গঠনে আমাদের মা জননীর একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। আবার ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।’ মা বেঁচে থাকতে মায়ের সম্মান ও মর্যাদার মূল্য বোঝা যায় না। যাদের মা নেই কিংবা ছোট কালেই মাকে হারিয়েছে তারা জানে মা হারানোর ব্যথা মনের মধ্যে কতটুকু পীড়া দেয়।
একটি পরিবারে মায়ের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। আমরা অনেকে মনে করি মায়ের কাজ কেবল রান্না করা আর সন্তান জন্ম দেয়া। কিন্তু সন্তান লালন-পালন করা এবং কচি শিশুকে প্রাথমিক আচরণ কিংবা শারীরিক বিকাশে প্রত্যেকটি মায়ের ভূমিকা নিশ্চয় বাবার চেয়ে বেশি। ‘মা’ শব্দটির সাথে কেমন যেন একটা মায়া-মমতা এবং মধু জড়িয়ে আছে। কারণ পরিবারের কারও সাথে বেয়াদবি করলে কিংবা কোনো ভুল করলে অন্য কেউ বকা দিলেও কেবল মা আদর করে সন্তানকে ভুল কাজ না করতে উৎসাহ দিয়ে থাকেন। আবার কখনও মা সন্তানের ভুলের জন্য বকা দিলে কিংবা শাসন করার জন্য হাল্কা পিটুনি দিলেও ঘুমানোর সময় গায়ে হাত দিয়ে আদর করেন। একটি পরিবারে মায়ের ভূমিকা কতটুকু তা মনীষীদের উক্তির দ্বারাই ভালভাবে প্রমাণিত হয়। যেমন, হযরত মুহাম্মদ (স.) এর কাছে এক ব্যক্তি পিতা-মাতার সেবা সম্বন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘প্রথমে তুমি তোমার মায়ের সেবা করবে’ এমন বক্তব্য তিনবার বলার পরে বাবার সেবা করতে বলেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে মায়ের মর্যাদাকে পরিবারের সবার উর্ধ্বে স্থান দেয়া হয়েছে।
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আর মানুষের কাজ হবে সব প্রাণীর চেয়ে ভালো। কিন্তু মানুষ এমন কাজ করে যা সমাজে তাদের মর্যাদাকে পশুর চেয়েও নিচে নিয়ে যায়। আর এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য একটি পরিবারে মা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখেন।
পৃথিবীতে মানুষ একমাত্র প্রাণী যা অন্যান্য প্রাণী থেকে ভিন্ন। তবে অন্যান্য সবকিছু কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকার জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যান্য প্রাণীর সাথে তুলনা করলে সহজেই বোঝা যাবে মানুষ কত উন্নত। যেমন, মুরগি তার বাচ্চাকে ডিমে তাপ দিয়ে বের করার কয়েক মাস পর্যন্ত দেখাশোনা করে। কিন্তু পরে তাদের মধ্যে মা ও সন্তানের ভালবাসা তেমন লক্ষ্য করা যায় না। হাঁসকে ডিম থেকে বের করার পর মুরগি পানির চারদিকে ঘুরলেও বাচ্চাগুলো পানিতে খেলা করে। আর্থাৎ তাদের মধ্যে মা ও সন্তানের ভালবাসা বেশিদিন টিকে না। অন্যদিকে মানব সমাজের ক্ষেত্রে মা পেটে রাখা অবস্থায় সন্তানের সাথে একটা নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলে। তাইতো সুস্থ সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ ভালো হবে বলে এখন গর্ভবতী মায়েরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। সন্তানের জন্য মা ভালো খাবার খেয়ে থাকেন। শত ব্যথা কেবল সন্তানের জন্য সহ্য করেন।
দীর্ঘ দশ মাস দশদিন পেটে ধারণ করে মা যখন সন্তান জন্মের জন্য ধাত্রী কিংবা প্রসূতি বিশেষজ্ঞের কাছে যান তখন মায়ের মনে অনেক ভয় অনুভূত হয়। শত কষ্ট হবে জেনেও মা এটি করেন। রাত্রে ঘুমানোর সময় সন্তান যখন পেটে পায়ের গুতো দেয় তখন মায়ের খুব কষ্ট হয়। সন্তান প্রসবের সময় পৃথিবীতে সবচেয়ে কষ্ট অনুভব করেন মা। সন্তান প্রসবের পর মা যখন ভূমিষ্ঠ শিশুর মুখ দেখেন তখন অতীতের সব ব্যথা-বেদনা ভুলে যান। সন্তানকে কোলে নিয়ে মা যখন দুধ পান করান তখন সন্তানের সাথে মায়ের সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হয়।
মা সন্তানকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য কত কষ্ট করে তা কেবল আমাদের মায়েরাই বোঝেন। সংসারের সকল আরাম-আয়েশ পরিহার করে শিশুকে ভালভাবে বেড়ে উঠার জন্য মা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেন। পরিবারের অন্যান্যদের কোলে শিশু প্রসাব করলে তারা ক্ষিপ্ত হয় কিংবা পরবর্তীতে আর কোলে নিতে চায় না। কিন্তু মা একমাত্র ব্যক্তি যিনি শতবার প্রসাব করলেও বিরক্ত হন না। রাত্রে শোয়ার সময় শিশু যখন বিছানায় প্রসাব করে তখনও মা রাগান্বিত হয়ে গালে একটা চড় বসান না। মা কি পৃথিবীর অন্যান্য মানুষের ক্ষেত্রে এমন কষ্ট করতে পারবেন? নিশ্চয় না।
নিজের খাবার সন্তানকে দিয়ে মা তৃপ্তি অনুভব করেন। আব্বা যখন বাজার থেকে মিষ্টি বা অন্যান্য খাবার এনে পরিবারের সকল সদস্যদের মাঝে বণ্টন করেন তখন মা তার নিজের ভাগটা সন্তানদের মাঝে বিলেয়ে দিয়ে নিজে না খেয়ে থাকেন। আর এতেই তিনি আনন্দ পান। বাড়িতে ভালো কিছু রান্না করলে মা সর্বপ্রথম সন্তানদেরকে খাওয়ান। নিজের খেতে হবে এমন চিন্তা মা কখনো করেন না। সন্তানদেরকে খাওয়াতে পারলেই মায়ের ক্ষুধা দূর হয়। সন্তান যখন স্কুল কিংবা খেলার মাঠ থেকে এসে ‘মা’ বলে ডাক দেয় তখন শত ব্যস্ততার মাঝেও মায়ের উপস্থিতি সন্তানের মনে তৃপ্তি দিয়ে থাকে। আসলে মায়ের মতো আপন পৃথিবীতে নেই।
মা সন্তানের বন্ধু, অভিভাবক, পরিচালক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। ছোটবেলায় সন্তানের ঘুম পাড়াতে মা’ই সহায়ক। মায়ের ঘুম পাড়ানো গান ও গল্প শিশুর ঘুমে সহায়তা করে। মা যেমন কখনো কখনো ভুলের জন্য বকা দেন, হাল্কা পিটুনি দেন তেমনি পরক্ষণে তিনিই আবার বুকে নিয়ে আদর করেন। মা আমাদেরকে ছোট থেকেই আদব-কায়দা থেকে শুরু করে সকল প্রকার প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে থাকেন। বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে পৃথিবীর অন্যান্য জিনিস পরিমাপ করা গেলেও সন্তানের প্রতি মায়ের ভালবাসা কতটুকু তা কোন এককে পরিমাপ করা যায় না। সকালে ব্রাশ করা থেকে শুরু করে রাত্রে ঘুমানো পর্যন্ত সর্বদা মায়ের যে ভুমিকা তা অপরিশোধযোগ্য।
যে মা না হলে আমাদের পৃথিবীতে আসা কল্পনা করা যায় না সে মায়েরা কী আজ ভালো আছেন? তাদের সবাই কী তিনবেলা খাবার পাচ্ছেন? বৃদ্ধ বয়সে সন্তানেরা কী তাদেরকে ঠিক মতো সেবা দিচ্ছেন? উত্তরটা হ্যাঁ ও না দুটিই হতে পারে। দেশে আজ শত মা নিজ সন্তান দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন। সন্তানের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকেই এ অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। যে মা দীর্ঘদিন পেটের মধ্যে সন্তানকে রেখেছেন এবং ছোট থেকে বড় করে তুলেছেন সে মায়েরা আজ সন্তানের কাছে ভালো ব্যবহার পান না। সন্তানের বিরাট অট্টালিকা থাকলেও মায়ের জন্য একটি কুঁড়ে ঘরেরও ব্যবস্থা করেন না। সন্তান ও বউ নিয়ে তিন বেলা পোলাও মাংস দিয়ে খাবার খেলেও মায়ের জন্য সাদা ভাতের ব্যবস্থাও হয় না। কিন্তু কেন? এর নাম কি মা-সন্তান সম্পর্ক?
আজ পত্রিকার পাতা খুললে শত মায়ের মৃত্যুর খবর চলে আসে। কোনো মা চিকিৎসার অভাবে, কোনো মা তীব্র শীতে গরম কাপড়ের অভাবে- আবার কেউ খাদ্যাভাবে মারা যাচ্ছেন। যে মা তার সন্তানকে খেয়ে না খেয়ে মানুষ করেছেন। নিজের ভাগের খাবারটুকু সন্তানকে দিয়েছেন। সে মা আজ সন্তান বেঁচে থাকতে এমন অবহেলায় মারা যাবে তা মেনে নেয়া যায় না। পরিবারে ছেলে-মেয়ে ও বউয়ের জন্য খাবার ও কাপড় ক্রয়ে যে টাকা ব্যয় করা হয় মায়ের ক্ষেত্রে করা হয় তার উল্টো। অথচ কোটি টাকা দিয়েও মায়ের ঋণ শোধ করা যাবে না। সন্তানের গায়ের চামড়া দিয়ে মায়ের জুতো বানালেও সন্তান লালন পালনের ঋণ শোধ হবে না এমন ঘটনা জানা।
গরিব-ধনী সকলের মা তার সন্তানকে ভালবাসেন। এ ভালবাসা কেমন তার একটা ঘটনা না বললে স্পষ্ট হবে না। গ্রামের এক মা সংসারে ভালো খাবার বা পরার মতো তেমন ভাল কাপড় জোটাতে পারতেন না। তার তিন ছেলে এবং তিন মেয়ে। কিন্তু ছয়টা সন্তানকে তিনি লেখা-পড়া শিখিয়ে আদর্শ মানুষ তৈরি করবেন বলে ইচ্ছা করেছেন। গ্রামের অনেকেই তাকে দাদি বলে। যাহোক সন্তানদেরকে তিনি স্কুলে ভর্তি করালেন। অভাবের সংসারে খাতা কলম কেনার মতো টাকা থাকে না। মুরগির ডিম বিক্রি করা টাকা দিয়ে তিনি সন্তানদের খাতা-কলম কিনে দিতেন। তার স্বামী অন্যের জমিতে কাজ করতেন দিনমজুর হিসেবে। যে টাকা পেতো তা দিয়ে তেমন সংসার চলতো না। তাদের সে রকম কোনো জমিও ছিল না যা থেকে সংসারে সহায়তা পাবে। তবে অনেক দিন থেকেই তারা বাড়িতে ছাগল-গরু পালন করতেন। ছোটতে তার ছেলেরা স্কুল থেকে এসে গরু-ছাগল নিয়ে মাঠে যেতো। গ্রীষ্ম কিংবা অন্যান্য ছুটিতে ছেলেরা অন্যের কাজ করতো। আবার রাতে ঠিকই পরিবারের সব ভাই-বোন একই বাতিতে লেখা-পড়া করতো। সে মায়ের তিন সন্তান এখন স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরি করেন, দু’জন উচ্চমাধ্যমিকে এবং মাধ্যমিকে লেখা পড়া করছে। তার সন্তানরা লেখা-পড়ায় যেমন ভালো চারিত্রিক দিক দিয়েও একটু কম না। তাকে রতœগর্ভা বলা যায়। আগের চেয়ে তাদের পরিবারের অবস্থা এখন কিছুটা ভালো হয়েছে। দিন বাড়ার সাথে সাথে তাদের পরিবার আরও সুখের হবে। নিশ্চয় সে মা আমাদের জন্য শিক্ষনীয়।
আজকের এই শুভ দিনে নিজের মাকে নিয়ে কিছু না লিখলে তার প্রতি অসম্মান হয়ে যাবে। আমার ‘মা’ একজন সরকারি চাকরিজীবী। গ্রামের অন্য মায়ের সাথে তার পার্থক্য থাকলেও তিনি গর্ভধারিণী। গ্রামের মধ্যে বেড়ে উঠায় আমার জীবনের কোনো লক্ষ্য ছিলো না। খেলা দেখার সময় আকরাম খান, ভোটের সময় চেয়ারম্যান কিংবা এমপি হওয়ার ইচ্ছা জাগতো। অর্থাৎ লক্ষ্যহীন জীবন। স্কুলে যাওয়া শুরু হয়েছে কখন তা মনে নেই। তবে স্কুলে যাবো না বলে আব্বার পিটুনি আর বই ছেড়ার ঘটনা আমার এখনও মনে পড়ে। প্রথমে স্কুলে যাওয়ার সময় আম্মা আমাকে আব্বার পিটুনি থিকে বাঁচিয়েছেন এটাও মনে আছে। আম্মু চাকরি করায় আমরা সময়মতো দুপুরের খাবার খেতে পারতাম না। এখনও দুপুরের খাবার দুইটার আগে খাওয়া হয় না। এই সুযোগে আমি খাওয়া ও গোসল বাদ দিয়ে শুধু খেলায় মেতে থাকতাম। মাঝে মাঝে মা আমাকে খাওয়া আর গোসলের জন্য হাল্কা পিটুনি দিতেন। একদিন গোসলের সময় আমার বিরক্তি দেখে মা খুব করে মেরে গোসল করালেন। আর এ সুযোগে আমি না খেয়ে বাড়ি পালিয়ে খেলা-ধুলায় ব্যস্ত ছিলাম। আমার খাওয়া হয়নি বলে সেদিন মা খায়নি। আমাকে কাছে ডেকে মারা জায়গায় হাত দিয়ে মা কেঁদে ফেললেন। তিনি বললেন, ‘তোর জন্য আমি এখনও খায়নি।’ ছোট থেকেই মা আমাকে স্বপ্ন দেখান বড় হওয়ার এবং আব্বা কোনোদিন শহরে গেলে আমাদের জন্য বিভিন্ন রকম খাওয়ার নিয়ে আসতেন। আমরা খেয়ে নিলেও মা তার ভাগ রেখে দিতেন এবং পরের দিন স্কুলে যাওয়ার আগে আমাকে ও ছোট বোনকে পুরোটা দিয়ে দিতেন। মা কখনো অফিসের কাজে শহরে গেলে হাল্কা নাস্তা পেতেন। কিন্তু তিনি সেটা না খেয়ে আমাদের জন্য নিয়ে আসতেন। আজকের এই দিনে ‘মা’ তোমার কল্যাণ কামনা করছি। মা তুমি সুখে থেকো। আমি যেন কখনো তোমার অবাধ্য না থাকি আল্লাহর কাছে তা প্রার্থনা করছি।
মা দিবসের এ দিনে আমাদের মায়েদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। যিনি আমাদেরকে গর্ভে ধারণ করে- খেয়ে না খেয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। একদিকে রান্না-বান্নার কাজ অন্যদিকে সংসার দেখাশোনার সাথেও যিনি তার সন্তানকে বুকের মধ্যে কষ্ট করে ধারণ করেছেন সে মা’ই পৃথিবীতে সবচেয়ে সম্মানের দাবিদার। বাবা বেঁচে না থাকলেও সন্তানের জন্য খুব একটা কষ্ট হয় না। কিন্তু মা হারিয়ে গেলে সে ঘাটতি কখনো পূরণ হয় না। মায়ের আদর এবং স্নেহ পেয়ে পিতার ভালবাসার কথা মনে থাকে না। অর্থাৎ মা পরিবারে বাবার চেয়ে প্রিয় হওয়ায় সকল দুঃখ-বেদনা দূরীভুত হয়। সামান্য কষ্ট পেলে মা যখন সন্তানের নাম ধরে ডাকেন তখন মনের মধ্যে প্রশান্তি অনুভব করা যায়। আবার বড় ধরনের বিপদেও মা যখন কাছে নিয়ে উৎসাহ দেন তখন সকল বাধা ও জীর্ণতা সন্তানের কাছে পরাজিত হয়। আজকের এ দিনে আমরা শপথ নেবো শুধু মা দিবসেই নয়- প্রতিটি দিনে, প্রতিটি সময়ে তিনি যেন আমাদের সেবা-পরিচর্যা ও ভালবাসা পান। শিশু থেকে বিবাহ পরবর্তী জীবনে মা যেন সন্তানের চিকিৎসা-সেবার অভাবে অবহেলার পাত্র না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তারা ছোট বেলায় আমাদের জন্য যে কষ্ট করেছেন তার জন্য আমরা তাকে সর্বদা মান্য করবো। সর্বোপরি আল্লাহ যেন আমাদের মাকে সুস্থ রাখেন তার জন্য দোয়া করবো। গাঢ় হোক মায়ের সাথে ভালবাসার বন্ধন আর আর খুশিতে থাকুক আমাদের মায়েরা তা হোক আজকের প্রত্যাশা।
লেখক: ব্যাংক কর্মকর্তা ও কলাম লেখক

ansarisahadat4@gmail.com