মা-বোনকে হত্যার পর টিনেজ জুটি…

আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০১৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
মা বোনকে হত্যার মতো লোমহর্ষক কাজ করল এক টিনেজ প্রেমিক-প্রেমিকা জুটি। হত্যাকা-ের সময় ছেলেটির বয়স ছিল ১৫ ও মেয়েটির ১৪। বয়স সংবেদনশীল বিষয় বলে আদালত ওই ছেলে ও মেয়েটির নাম প্রকাশ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে।
মেয়েটির মা ও ছোটবোনকে হত্যা করেছিল তার প্রায় সমবয়সী ছেলেবন্ধু। হত্যার পর দুজন গোসল করে এবং শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয়। তারপর টুইলাইট সিরিজের চারটি ভ্যাম্পায়ার মুভি দেখে কাটায়। লিংকনশায়ারের স্পাল্ডিং এ মা ও বোনকে লোমহর্ষক হত্যার অভিযোগে টিনেজ প্রেমিক-প্রেমিকা জুটির বিচার চলছে নটিংহাম ক্রাউন কোর্টে।
ব্রিটেনে হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে কমবয়সী জুটি হিসেবে সংবাদের শিরোনাম সেই তরুণ-তরুণী। নিহত মা এলিজাবেথ এডওয়ার্ডের বয়স ছিল ৪৯ বছর এবং বোন ক্যাটির বয়স ছিল ১৩।
ব্রিটেনের সবগুলো প্রধান পত্রিকার শিরোনামে উঠে এসেছে এই টিনেজ প্রেমিক-প্রেমিকা জুটির হাতে মা ও বোন হত্যার খবরটি। বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য টেলিগ্রাফ, ইনডেপেনডেন্ট সহ সবগুলো প্রধান ব্রিটিশ গণমাধ্যমেরই শিরোনামে অবস্থান করছে এ ইস্যুটি। আদালতের নির্দেশনার কারণে তাদের নাম প্রকাশ থেকে বিরত থাকছে গণমাধ্যমগুলো।
টেলিগ্রাফের বরাতে জানা যায় দুজন ব্রিটিশ তরুণ-তরুণীর মধ্যে সম্পর্ক শুরু হয় ২০১৫ সালের মে মাসের দিকে। স্কুলে তাদের পরিচয়ের সূত্রে সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। সে বছরের অক্টোবরের দিকে পুলিশের নজরে এসেছিল তারা। ২০১৬ এর মার্চের প্রথমদিকে অস্বাভাবিক আচরণের জন্য স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হয় ছেলেটি। তারপরও ছেলে ও মেয়েটি স্কুলের বাইরে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ রাখতো। মার্চের ১৭ তারিখে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। তাকে হাসপাতালে নিতে হয়। হাসপাতাল থেকে শিশু-কিশোর পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। ২০১৬ সালের ৯ এপ্রিল বাসার কাছের ম্যাকডোনাল্ড এর একটি দোকানে বসে হত্যার পরিকল্পনা সাজানো হয়। ১২ এপ্রিল আবার ম্যাকডোনাল্ডে বসে পরিকল্পনা সারা হয়। ১৩ এপ্রিল কাঁধে ব্যাগ নিয়ে মেয়েটির বাসায় আসে ছেলেটি। ব্যাগে তখন ছিল চারটি ছুরি। ১৪ এপ্রিল রাতের এক অংশে ছেলেটি প্রথমে প্রেমিকার মা এলিজাবেথ এডওয়ার্ডকে (৪৯) ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। তারপর পাশের কক্ষে প্রেমিকার ছোটবোন ক্যাটিকে (১৩) বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। এর আগে ঘাড়ে কয়েকবার ছুরিকাঘাতও করেছিল। তখন ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়ে দেয়ালে ও ছেলেটির গায়ে লেগেছিল। হত্যাকা-ের পর পিঠের ব্যাগে করে সেসব পোষাকাদি ও ছুরিগুলো বাইরে ফেলে আসে ছেলেটি।
কেন এই হত্যাকা- করা হলো এটা নিয়ে তদন্তে বেরিয়ে আসে আরও লোমহর্ষক তথ্য। স্রেফ মজা করার ছলে একে অন্যের সাথে শেয়ার করেছিল খুন করতে চান তারা। তারপর এই মজা করা থেকেই মেয়েটির মাকে খুন করার পরিকল্পনা চলে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় ছোট বোনও। পরিকল্পনায় আরও ছিল খুন করার পর তারা নিজেদের জীবনও নিয়ে ফেলবে।
কিন্তু দুজনকে হত্যা করার সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারলেও নিজেদের জীবনের বেলায় সে পথে থাকেনি তারা। ঘটনা শেষে প্রায় বিশ মিনিট লাগিয়ে গোসল করেন টিনেজ প্রেমিক-প্রেমিকা জুটি। তারপর তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। ভ্যাম্পায়ার মুভি টুইলাইট সিরিজের ৪টি মুভি দেখে হত্যাকা-ের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পরও ঐ বাড়িতে অবস্থান করে টিনেজ প্রেমিক-প্রেমিকা। পুলিশ এসে তাদের আটক করার আগে ওই বাসাতেই অবস্থান করছিলো।
তাদের পক্ষের আইনজীবী তাদের মানসিক ভারসাম্যহীনতার দিকে জোর দেওয়ার চেষ্টা করলেও আদালতে এটা স্পষ্ট যে এ হত্যাকা- দুটি পূর্বপরিকল্পিত এবং ঠা-া মাথার খুন। এ খুনের জন্য তাদেরকে অনুশোচনা করতেও দেখা যায় নি।
মেয়েটি সরাসরি খুন না করলেও পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সব কাজেই জড়িত ছিল মেয়েটি। আর আদালতের সিদ্ধান্ত হলো তারা দুজন একসাথে না হলে, না থাকলে এ হত্যাকা- সংগঠিত হতে পারতো না। এজন্য মেয়েটিও হত্যাকা-ের দায়ে অভিযুক্ত। এখনো রায় ঘোষণা না হলেও খুব শীঘ্রই আদালতের রায় পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকা-ে লিংকনশায়ারের স্পাল্ডিংয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আর গণমাধ্যমগুলোতে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি, ইনডেপেনডেন্ট