মিনুকে জাতির সামনে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান লিটন-ডাবলুর, দ্রুত রাষ্ট্রীয়ভাবেই ব্যবস্থা নেয়ার দাবি বাদশার

আপডেট: মার্চ ৩, ২০২১, ১০:০৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ায় প্রতিবাদে মিনুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র সাবেক এম.পি মিজানুর রহমান মিনু সহ বিএনপির নেতারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে নিয়ে অশোভন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার প্রতিবাদে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। সেইসাথে পৃথক বিবৃতিতে বিভাগীয় সমাবেশে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ায় মিনুকে জাতির সামনে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার এবং পচাত্তরের ১৫ আগস্টের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর বিরুদ্ধে দ্রুত রাষ্ট্রীয়ভাবেই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বুধবার (০৩ মার্চ) সন্ধ্যা ৬.৩০টায় কুমারপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জিরো পয়েন্টে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আজাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগর, থানা আওয়ামী লীগ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজপথের আন্দোলনে বিএনপি ব্যর্থ। ১২ বছর ধরে সরকার পতনের তর্জন-গর্জন জনগণ আর বিশ্বাস করে না। জনগণ বিএনপি’র উপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। জনগণ দেশের স্থিতিশীল, শান্তি-শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী। জনগণ দেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ অন্যান্য দৃশ্যমান দেখে সরকারের প্রতি তারা আস্থা রেখেছে। তারা বিএনপির আন্দোলনের নামে যে অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার।
তিনি আরও বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু সহ বিএনপি’র নেতারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা-কে নিয়ে যে কটূক্তি ও অশালীন বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক সকল শিষ্টাচার বহির্ভূত ও দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার আশা করা যায় না।
তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম বিভাগীয় সমাবেশের নামে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে উপস্থিত হবে। কিন্তু কি দেখলাম! তারা রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে দেশ, জাতির পিতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েই ক্ষান্ত হন নি। তারা ৭৫এর ১৫ আগস্টের মতো কালো অধ্যায় সৃষ্টি হুঙ্কার দেয়। তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেই দিন নেই, এরপর রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে কোন উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে শান্তির শহর রাজশাহীর পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করা হলে জনগণকে সাথে নিয়ে তার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এরপর বিএনপি সমাবেশের নামে যদি কোন অশালীন ও দেশ বিরোধী বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করে তাদেরকে তাৎক্ষনিকভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান।
তিনি মিনু-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনাকে নিয়ে যে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে রাজশাহীবাসীর সামনে ক্ষমা না চাইলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আপনার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হবে।
ডাবলু সরকার বলেন, মিজানুর রহমান মিনু, আপনার ধৃষ্টাপূর্ণ বক্তব্যের জবাব আওয়ামী লীগ রাজশাহীর জনগণকে সাথে নিয়েই দিবে। আপনার দুঃসাহস হয় কি করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা-কে নিয়ে কটূক্তি করার?
তিনি আরও বলেন, যেখানে বিশ্বে আজকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-কে নিয়ে গবেষণা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণটিকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামান্য ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ অন্তর্ভূক্ত করেছে। সেইখানে মূর্খের দল বিএনপি ও তাদের নেতা মিজানুর রহমান মিনু বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করে জাতির সামনে তাদের হীন মানসিকতার পরিচয় তুলে ধরেছে। রাজনৈতিক ভাবে বিএনপি দেউলিয়াদের সংগঠনে পরিনত হয়েছে।
তিনি মিনু-কে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইতিপূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন, সেই দিনও আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ করেছিলো। আওয়ামী লীগের প্রতিবাদে ভীত হয়ে আপনি রাজশাহীবাসীর সামনে ক্ষমা চেয়েছিলেন। মিনু-কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডাবলু সরকার আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সততার দিক দিয়ে বিশ্ব দরবারে তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমান দিয়েছেন। ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধু ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা-কে নিয়ে কটূক্তি করলে আপনাকে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। তিনি মিনু-কে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে অবিলম্বে জাতির সামনে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুকে জাতির সামনে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।
বুধবার (০৩ মার্চ) রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে এই আহ্বান জানানো হয়। মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহী নগরীর পাঠানপাড়ায় একটি কমিউনিটি সেন্টার চত্বরে বিএনপি বিভাগীয় সমাবেশ করে। সেখানে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।
তাদের রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যৌথ বিবৃতিতে তাদের সেসব বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুসহ বিএনপির নেতারা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে সমাবেশে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে ‘অশোভন’ ও ‘উস্কানিমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এই প্রতিবাদলিপিতে।
এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘পচাত্তরের ১৫ আগস্টের মতো তারা বাংলাদেশের মাটিতে আরেকটি কালো অধ্যায় সৃষ্টি করতে চায়। বিএনপির নেতাদের বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়েছে।’
প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি- বিএনপি রাজপথের আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে মিজানুর রহমান মিনু সমাবেশে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে।’
তারা মিজানুর রহমান মিনুকে অনতিবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির সামনে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তা না হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও প্রতিবাদলিপিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লিটন-ডাবলু।
অন্যদিকে বুধবার এক প্রতিবাদলিপিতে পচাত্তরের ১৫ আগস্টের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর বিরুদ্ধে দ্রুত রাষ্ট্রীয়ভাবেই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আজ রাত, কাল আবার সকাল নাও হতে পারে। ৭৫ মনে নাই?’ তার এ বক্তব্যকে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি হিসেবে দেখছেন ফজলে হোসেন বাদশা।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর এ ধরনের বক্তব্য প্রমাণ করে যে ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পেছনে বিএনপির মদদ ছিল। রাজপথের রাজনীতিতে বিএনপি সুবিধা করতে না পেরে এখন হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। এর মাধ্যমে তারা ক্ষমতা দখল করতে চায়। এর অংশ হিসেবেই বঙ্গবন্ধুকন্যাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন জঙ্গি বাংলা ভাইয়ের মদদদাতা মিজানুর রহমান মিনু।’
বিভাগীয় সমাবেশে মিজানুর রহমান মিনু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়েও আপত্তিকর কথা বলেন। সরকার উৎখাতের প্রশ্নে মিনু বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কবর থেকে উঠে আসলেও এই সরকারকে রক্ষা করতে পারবে না।’ মিনুর এ ধরনের বক্তব্যেরও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার অপমানজনক উক্তি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষে মিনু তার প্রতি চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
প্রতিবাদলিপিতে ফজলে হোসেন বাদশা আরও বলেন, ‘মিনু তার বক্তব্যে শুধু জাতির পিতার প্রতিই চরম ধৃষ্টতা দেখাননি, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তাই তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমি সরকারের কাছে এ দাবি জানাই। আমি আশা করি- সরকার তার বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’