মিশরীয় তরুণীর চিকিৎসার খরচ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৭, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



পৃথিবীর সবচেয়ে ওজনদার মহিলা! একেবারে আক্ষরিক অর্থেই। না, ভারতীয় ইনি নন। জাতে মিশরীয়। তবে, স্থুলতা রোগে শয্যাশায়ী, শারীরিকভাবে বিপন্ন এই মেয়েটির চিকিৎসা হচ্ছে ভারতেই। মুম্বইয়ে। নাম? ইমান আহমেদ। দেশের বাণিজ্য নগরীর বারিয়াট্রিক সার্জেন ড. মুফাজ্জল লাকদাওয়ালা সম্প্রতি বিছানায় শোওয়া ইমানের সঙ্গে দেখা করার পর তাঁর চিকিৎসা করতে সম্মত হন। এখানেই শেষ নয়, এই চিকিৎসার খরচও বিপুল। সেজন্য স্বতপ্রনোদিত হয়েই ডা. মুফাজ্জল সোশ্যাল মিডিয়ায় জনসাধারনের কাছে সাহায্যের আবেদন রেখেছেন। মিশর থেকে ইমানকে মুম্বই নিয়ে আসা এবং সেখানে হাসপাতালে রেখে তাঁর চিকিৎসার জন্য অন্তত লাখ পঞ্চাশেক টাকার দরকার! নিজের টুইটারে ডাক্তারবাবু তাই ‘হ্যাশট্যাগ হেল্প সেভ ইমাম’ নামের একটি সাইট খুলে ফেলেছেন। নিজেদের সাধ্যমতো এই তরুনীর স্থুলতার চিকিৎসার বিশাল খরচ তুলতে যে কেউ বাড়িয়ে দিতেই পারেন সহায়তার হাত। ওযেবসাইটের বার্তায় বলা হয়েছে, ‘চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে আসতেই হবে ইমামকে। ডা. মুফাজ্জল মেয়েটিকে সারিয়ে তোলার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেও ইমামের পরিবারের যা আর্থিক পরিস্থিতি তাতে চিকিৎসার বিপুল খরচ মেটানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। এমনই বিশাল চেহারা যে ইমানকে এদেশে নিয়ে আসতে একটি কার্গো জেট প্লেন ভাড়া করতে হচ্ছে! তারপর হাসপাতালে রেখে মেয়েটিকে সুস্থ করে তোলার খরচও কম নয়। সবমিলিয়ে মোটামুটিভাবে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ধাক্কা! আর এজন্যই ডা. মুফাজ্জল সাধারনের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন।’
মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ার বাড়ি থেকে ইমানের ছোট বোন সাইমা জানাচ্ছেন, ‘ডাক্তারবাবু আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। দিদিকে দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন যে মুম্বইতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাবেন। আমরা অভিভূত। বস্তুতপক্ষে, ডাক্তারবাবুর সঙ্গে আমাদের এই প্রথম আলাপ। আর শুরুতেই আমাদের মন কেড়ে নিয়েছেন। আমাদের পরিবার ওঁর কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে।’
ইমানকে ভারতে এনে চিকিৎসার ছাড়পত্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের হস্তক্ষেপে প্রায় দেড়মাস আগেই পাওয়া গিয়েছে। জোগাড় করা গিয়েছে মেডিকেল ভিসাও। তবুও, মেয়েটি অন্তত এই লেখার সময় পর্যন্ত মিশরেই আটকে। কেন? ভারতগামী কোনও বিমান কর্তৃপক্ষই ইমানকে তাঁদের ফ্লাইটে জায়গা দিতে রাজি নয়! ভাগ্যের কী পরিহাস দেখুন। বিভিন্ন বিমান পরিষেবা সংস্থার নানান অমানবিক কাজের দৃষ্টান্ত সংবাদমাধ্যমে আমরা প্রায়শই পাই। ইমানের ঘটনাও সেই তালিকায় নব্য সংযোজন বলা যেতেই পারে।
বোন সাইমা বলছেন, ‘দিদির শরীরের অবস্থা দিনদিন খারাপ হচ্ছে। আগে হামাগুড়ির মতো শরীরটাকে আস্তে আস্তে টেনে নিয়ে যেতে পারত। এখন আর সেটাও পারছে না। এক্কেবারে বিছানায় শোওয়া। শরীরের চলৎশক্তি বলে অবশিষ্ট নেই কিছুই। বছরদুয়েক আগেও চেয়ার এগিয়ে দিলে কিছুক্ষণ বসতে পারত। গত কয়েকমাস একেবারে বিছানায় শোওয়া অবস্থা। শরীরে বাসা বাধছে নানান রোগ। এক্ষুনি ভারতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা না করালে হয়ত দিদিকে আর ফিরেই পাব না!’ বলতে বলতে গলা ধরে আসে সাইমার।
অসুখটা আদতে কী? চিকিৎসা পরিভাষায়, জটিল লিমফোয়েডেমা। শরীর থেকে জলের পরিমান হ্রাস পাচ্ছে দ্রুত। একবার হৃদরোগ হয়ে গিয়েছে। সেজন্য ডানহাত ও ডান পা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কথা বলতে পারছেন না। টাইপ টু ডায়াবেটিস। হাইপার টেনশন। ফুসফুসের রোগ, গাউট। সবমিলিয়ে রোগের ‘ডিপো’ আমরা যাকে বলি এখনকার ইমান ঠিক যেন তাই!
গত প্রায় একবছরেরও বেশি ধরে ইমানের সারাদিনের খাওয়া বলতে সকালের ব্রেকফাস্ট আর দুপুরের হালকা লাঞ্চ। সকালের মেনুতে চা, সঙ্গে পাঁউরুটি ও চিজ। আর দুপুরের পাতে রাইস স্যুপ ও চিকেন। যদিও, ডাঃ মুফজ্জলের আওতায় আসার পর পুরোপুরি বদলে গিয়েছে ইমানের ডায়েট চার্ট।
ইমানকে ফের সুস্থ, সবল দেখতে আপাতত প্রার্থনায় সমস্ত মানবিকবোধ সম্পন্ন মানুষই। গণ প্রার্থনা শেষমেশ সাফল্যের মুখ দেখে কী না আপাতত সেটাই দেখার।- আজকাল