মিশ্র প্রবণতায় অর্থবছর শুরু

আপডেট: জুলাই ৩, ২০১৭, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মিশ্র প্রবণতায় শুরু হয়েছে নতুন অর্থবছর (২০১৭-১৮)। প্রথম কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়লেও কমেছে প্রধান মূল্যসূচক।
একই অবস্থা অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই)। টানা ছয় কার্যদিবসে মূল্য সূচক বাড়ার পর উভয় বাজারের সূচক কমলো। তবে উভয় বাজারে লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় বেড়েছে।
রমজান মাসের শেষ সপ্তাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে চাঙা হয়ে ওঠে দেশের শেয়ারবাজার। ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে টানা মূল্য সূচক ও লেনদেন বাড়ে। ঈদের পরও শেয়ারবাজারের সেই চাঙাভাব অব্যাহত থাকে। ঈদের পর টানা দুই কার্যদিবসে উভয় বাজারে মূল্য সূচক বাড়ে। সেই সঙ্গে বাড়ে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা রোববারও অব্যাহত থাকে। এ দিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৭৯টি বা ৫৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। অপরদিকে, দাম কমেছে ১১৩টির বা ৩৪ শতাংশের। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৮টির বা ১২ শতাংশের দাম।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮৫৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮০১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৫৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
তবে কিছুটা কমেছে মূল্য সূচক। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় এক পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই- ৩০ সূচক পাঁচ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিহ্ সূচক দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৯৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলম বলেন, রমজান মাসের শেষ সপ্তাহে ঈদকেন্দ্রীক শেয়ারবাজার চাঙা হয়ে ওঠে। যা ঈদের পরের দুই কার্যদিবসও অব্যাহত ছিল। মূলত টানা কয়েক কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকার কারণে রোববার মূল্য সূচক কিছুটা কমেছে। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এতে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
রোববার টাকার অংকে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার। এ দিন কোম্পানির ৩১ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডরিন পাওয়ারের ৩১ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ২৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স।
লেনদেনে এরপর রয়েছে- এএফসি অ্যাগ্রো, আইসিবি, বেক্সিমকো, বারাকা পাওয়ার, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, এসপিসিএল ও ফুয়াং ফুড। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক ১০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫৮১ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
রোববার সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩১টির। অপরদিকে, দাম কমেছে ৯৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির দাম।