মিষ্টিময় দুর্গাপূজা!

আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০২২, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

মনীষা আক্তার :


উৎসব সব সময় আনন্দের হয়। দুর্গাপূজাও ঠিক তাই। পূজাকে কেন্দ্র করে নানান আয়োজনের মধ্যে একটি বাহারি খাবার। নিজের ছাড়াও বাহারি খাবারে হয় অতিথি আপ্যায়ন। সেই খাবারের মূলে রয়েছে মিষ্টি মুখ। এই উৎসবে তৈরিকৃত এক-তৃতীয়াংশ খাবারই স্বাদে মিষ্টি। তবে বেশির ভাগ খাবার বাড়িতেই তৈরি হয়।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে পূজায় নিজেদের খাবারের তালিকাজুড়ে বেশির ভাগ স্বাদে মিষ্টি জাতীয় বলছিলেন শ্রী নিতি সাহা।
তিনি জানান, পূজার উৎসবের শুরুতেই দেখা যায়, মা-মাসিরা বাড়িতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন নাড়ু তৈরির কাজে। কোড়া নারকেল, দুধ ও ঘি এর সুবাস বাড়িজুড়ে ভিন্ন এক আবহ নিয়ে আসে। সব উপকরণ মিশিয়ে চুলায় চড়ালে সে সুবাস ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। কখনো কখনো এ-বাড়ি ও-বাড়ির কোনো পার্থক্য থাকে না। সবাই মিলে হাত লাগান নাড়ু তৈরিতে। সঙ্গে বাড়ির শিশুরাও। পূজার মূল আকর্ষণ প্রত্যেক বাড়ির মিষ্টি খাবার। হতে পারে নাড়ু, সন্দেশ, খঁই, মুড়ি, চিড়ার মোয়া,পায়েসসহ বিভিন্ন রকমের খাবার। এই পূজায় প্রতিবাড়িতে থাকা চাই- নারিকেলের নাড়ু, তা হতে পারে গুড়ের কিংবা চিনির।

সঞ্জয় কুমার জানান, ষষ্ঠী থেকে দশমী পূজার প্রসাদে থাকে ভিন্ন স্বাদের খাবার। সপ্তমীতে দুর্গাকে বরণ করে নিতে লাগে রসগোল্লা ও সন্দেশ। এ ক্ষেত্রে নলেন (দুধ, ভিনিগার, ঘি, খেজুরের গুড়, এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা ও কাজু বাদাম দিয়ে তৈরি) গুড়ের সন্দেশ; যেন একটু বেশিই প্রাধান্য পায়। তবে এখন গাজরের সন্দেশও থাকে। আবার অনেক সময় নলেন গুড়ের পায়েশও থাকে।

আরও আছে রসগোল্লা। দুর্গাকে বরণ করতে এই মিষ্টি চাহিদার শীর্ষে। অতীতে এই মিষ্টি বাড়িতে তৈরি করা হলেও এখন দোকানই শেষ ভরসা।

এছাড়া অষ্টমীর দিনে ঐতিহ্য ধরে রাখতে অনেক বাড়িতে জলভরা সন্দেশ তৈরি হয়। এটা দেখতে অনেকটা তালশাঁসের মত। এটি তৈরিতেও লাগে নলেন গুড়। অনেকে এই দিনে কালাকাঁদ মিষ্টি ও তৈরি করে থাকেন। লেবুর রস দিয়ে দুধ কেটে তাতে ঘি ও এলাচিগুঁড়া মিশিয়ে তৈরি হয় এ ধরনের মিষ্টি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ