মিয়ানমার: মুক্ত হলেন রাতভর ‘আটকা’ পড়ে থাকা বিক্ষোভকারীরা

আপডেট: মার্চ ৯, ২০২১, ১:১০ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো ইয়াঙ্গুনের একটি এলাকায় রাতভর শতাধিক তরুণ বিক্ষোভকারীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, পরে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে পেরেছেন।
মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
আটকা পড়া এসব তরুণকে ছেড়ে দিতে জাতিসংঘ ও প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশগুলো আহ্বান জানিয়েছিল।
রয়টার্স জানায়, ইয়াঙ্গুনের সানচুং এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর ফাঁদে আটকা পড়া এসব তরুণের সমর্থনে রাতেই কারফিউ উপেক্ষা করে কয়েক হাজার লোক শহরটির রাস্তায় নেমে আসে। এই তরুণরা ১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিদিন এই সানচুং এলাকায় বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছিলেন।
বিবিসি জানায়, সোমবার নিরাপত্তা বাহিনী চার রাস্তার এলাকা সানচুং ঘিরে ফেললে ভেতরে প্রায় ২০০ জন তরুণ প্রতিবাদকারী আটকা পড়েন।
পুলিশ আগেই জানিয়েছিল, বাইরে থেকে এসে কেউ এলাকার বাড়িগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে প্রত্যেক বাড়িতে তল্লাশি চালাবে তারা এবং তাদের লুকিয়ে রাখার কারণে যারা ধরা পড়বে তাদেরও শাস্তি হবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের তথ্য অনুযায়ী, যারা আটকা পড়েছিলেন তাদের অনেকেই নারী এবং তারা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন।
রাতে ওই এলাকা থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, সেগুলো স্টান গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আটকা পড়াদের ‘নিরাপদে মুক্তি’ দেওয়ার জন্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে অনুরোধ করে জাতিসংঘ, তাদের ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানান গুতেরেস।
মঙ্গলবার ভোরে একজন বিক্ষোভকারী বিবিসিকে জানান, নিরাপত্তা বাহিনী ভোরের দিকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর সকাল সাড়ে ৬টার (স্থানীয় সময়) দিকে ওই এলাকা থেকে বের হতে পেরেছেন তিনি।
তিনি জানান, রাতে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিরা সকাল পর্যন্ত লুকিয়ে থেকে পরে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে পেরেছে।
আরেক বিক্ষোভকারী মঙ্গলবার সকালে এক টুইটে বলেছেন, “সানচুং এলাকার একটি স্থানে সারারাত থাকার পর নিরাপদে বাড়িতে ফিরেছি।”
তরুণ আন্দোলন কর্মী শার ইয়া মোনে জানিয়েছেন, আরও প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের সঙ্গে তিনি একটি ভবনে ছিলেন, কিন্তু এখন বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জান্তাবিরোধী আন্দোলনের আরেক কর্মী জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী সরে যাওয়ার পর ভোর ৫টার দিকে ওই এলাকা ছেড়ে আসতে পেরেছেন তিনি।
সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর নেওয়া কঠোর পদক্ষেপে এ পর্যন্ত ৬০ জনের বেশি প্রতিবাকারী নিহত ও ১৮০০ জনেরও বেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে আইনজীবীদের একটি গোষ্ঠী জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ