‘মুক্তিপণের ৮ লাখ টাকা নিতে গিয়েছিলেন সিআইডির এএসপি’

আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০২১, ৬:২৪ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


দিনাজপুরের চিরিরবন্দর এলাকার মা-ছেলেকে অপহরণের পর রংপুরের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সারোয়ার কবীর সোহাগ ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন। এমনটাই অভিযোগ করেছেন অপহরণের শিকার নারীর মেয়ের জামাই কামরুল হক।
তিনি বলেন, ‘গত ২৩ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি মোবাইলফোন নম্বর থেকে এএসপির কল আসে। এ সময় তিনি বলেন, আপনার শ্যালক ও শাশুড়িকে আমরা নিয়ে এসেছি। টাকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। এ সময় আমার কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে আমি এতগুলো টাকা দিতে পারবো না বলে জানাই। এ সময় এক ঘণ্টার মধ্যে টাকা দিতে বলা হয়, না হয় অপহরণ হওয়া দুই জনকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। আমি আট লাখ টাকা দিতে পারবো বলে জানাই। কিন্তু আমার কাছে আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। কথা বলা শেষ হলে এ বিষয়ে চিরিরবন্দর থানায় অভিযোগ করি। এরপর পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের টাকা দিতে যাই। অভিযুক্তরা প্রথমে আমাদের রানীরন্দর যেতে বলেন। রানীরবন্দরে গেলে লোকেশন চেঞ্জ করে দশমাইল এলাকায় যেতে বলেন। সেখানে গেলে আবার বাঁশেরহাটে আসতে বলা হয়। সেখানে যাওয়ার পর আমার কাছে একটি প্রাইভেটকার এসে থামে এবং টাকা দিতে বলে। ওই সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদেরকে দেখিয়ে দিলে তারা অভিযুক্তদের আটক করেন।’
এদিকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনও অনুমতি না নিয়ে এমনকি কোনও মামলা এবং অভিযোগ ছাড়াই অভিযানে গিয়ে অভিযুক্ত সারোয়ার কবীর সোহাগসহ তিন জন আটক হন বলে জানিয়েছেন সিআইডির রংপুরের ভারপ্রাপ্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আতাউর রহমান। তার সঙ্গে এএসআই হাসিনুর রহমান ও পুলিশ কনস্টেবল আহসানুল ফারুখ মিলন ছিলেন বলেও জানান তিনি।
পুলিশ সুপার আতাউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তারা আমার অনুমতি না নিয়ে সেখানে (চিরিরবন্দর) অভিযানে গেছেন। তাদের আটকের বিষয়টি শুনেছি। তারা কেন সেখানে গেলেন, কাকে অপহরণ করলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিআইডি রংপুরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আতাউর রহমান জানান, তিনি ২১ আগস্ট রংপুর সিআইডি কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেছেন। এর আগে সারোয়ার কবীর সোহাগ ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্বে ছিলেন। ২২ আগস্ট এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল ফারুখ মিলনকে ছুটি দেন সোহাগ। পরে তিনি অফিসের জন্য ভাড়া করা একটি কালো রঙয়ের মাইক্রোবাস নিয়ে চিরিরবন্দর যান। তার সঙ্গী হন এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল ফারুখ। তারা চিরিরবন্দরের নান্দেরাই গ্রামে ওসমান আলীর ছেলে লুৎফর রহমানের বাসায় গিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান। এ সময় লুৎফর তার বিরুদ্ধে কোনও লিখিত অভিযোগ থাকলে তা দেখাতে বলেন। কিন্তু সহকারী পুলিশ সুপার সোহাগ কোনও মামলা বা অভিযোগ দেখাতে পারেননি। উল্টো তার কষ্টিপাথর পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে জানান।
এ ঘটনা জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকে ও সিআইডি সদস্যদের ঘিরে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা চিরিরবন্দর থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার সোহাগসহ তিন জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
আতাউর রহমান আরও বলেন, তারা কেন ও কার নির্দেশে চিরিরবন্দরে গেলো তার কিছুই আমি জানি না। আমাকে তারা অভিযানে যাওয়ার বিষয়টি অবহিত করেনি। এমনকি জিডি করে অভিযানে যেতে হয়, সেটাও তারা করেনি। অভিযানের বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক কোনও ধরনের অনুমতিও নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, কোনও মামলা নেই, কোনও লিখিত অভিযোগ নেই, এ ধরনের ঘটনা আমি জানলে কোনোভাবেই তাদের যেতে দিতাম না। ঘটনা জানাজানি হলে আমি নিজেই দিনাজপুরে যাই। তবে যেহেতু পুলিশ বিষয়টি দেখভাল করছে, সেখানে সিআইডি পুলিশের কোনও করণীয় নেই।
তিনি আরও জানান, ওই পুলিশ সদস্যরা বর্তমানে জেলা পুলিশের হেফাজতে আছেন। এখন পর্যন্ত কোনও মামলা হয়েছে বলে তার জানা নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ