মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান পরিদর্শনে মান্দার মুক্তিযোদ্ধারা

আপডেট: মার্চ ১১, ২০১৭, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি



স্বাধীনতার মাস উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর, ভোলাহাট ও শিবগঞ্জ উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল। গত বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এ সফরের নেতৃত্ব দেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আফসার আলী মন্ডল। তাদের সফরসঙ্গী ছিলেন মান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলামসহ সাংবাদিক জিল্লুর রহমান, মাসুদ রানা ও খলিলুর রহমান।
এদিন সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ফেরিঘাট হতে তিনটি বাসে করে ১২২ জন মুক্তিযোদ্ধা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মুক্তিযোদ্ধাদের দলটি বেলা ১২টার দিকে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে পৌঁছালে ভোলাহাট উপজেলার পঞ্চানন্দপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আফসার হোসেন গাইড দেওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে যুক্ত হন।
মুক্তিযোদ্ধার দলটি প্রথমে গোমস্তাপুর উপজেলার কাশিয়াবাড়ী গ্রামের বোয়ালিয়া ইউনিয়ন কাউন্সিল রাজাকারদের অস্থায়ী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ১৯৭১ সালের ২ আগস্ট রাজাকারদের এ ক্যাম্প আক্রমণ করেন পঞ্চানন্দপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আফসার হোসেন, মান্দা উপজেলা কমান্ডার আফসার আলী মন্ডল, নামো মুশরীভূজা (তামাগ্রাম) গ্রামের মরহুম মুক্তিযোদ্ধা আবদুস শুকুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মরহুম মুক্তিযোদ্ধা সাইফুদ্দীন। এ সম্মুখ যুদ্ধে রাজাকার কমান্ডার আবদুল খালেক নিহত হন। মুক্তিযোদ্ধারা ওই ক্যাম্প থেকে রাজাকার আবদুল খালেকের লাশসহ একটি স্ট্রেনগান, তিনটি রাইফেল, বিপুল পরিমান ফেলিফোনের তারসহ সেট উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
পরিদর্শনকারী দলটি মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত মকরমপুর শহীদ সুলতান সেতু পরিদর্শন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন ৪ জুলাই সোমবার ভোলাহাটের পঞ্চানন্দপুর গ্রামে পাকসেনা ও রাজাকারদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আলী নিহত হন। তৎকালিন সময়ে ভোলাহাটের মাটিতে এটিই ছিল মুক্তিযোদ্ধা নিহত হওয়ার প্রথম ঘটনা। তার নামানুসারে সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে।
এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের অস্থায়ী ক্যাম্প মুশরীভূজা আফসার আলী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শন করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও সুধীজনের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা আফসার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আফসার আলী মন্ডল ও মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আবদুল মান্নান। এসময় প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আজগর হোসেন মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্যালুট প্রদান করে। পরে পরিদর্শনকারী দলটি ভোলাহাট সদরে দুপুরের মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে শিবগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
এদিন বিকেলে সফরকারীরা সোনামসজিদ ও ক্যাপ্টেন মহীউদ্দিন জাহাঙ্গীরের (বীরশ্রেষ্ঠ) কবরসহ গণকবর জিয়ারত করেন। পরে সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় নিজ এলাকায় ফেরার জন্য রওনা দেন। রাত সাড়ে ১০টায় মান্দা ফেরিঘাট পৌঁছার পর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সফরসঙ্গী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে সফরের সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ