মুক্তিযোদ্ধাদের তোপের মুখে জেলা ডেপুটি কমান্ডার

আপডেট: মার্চ ২৮, ২০১৭, ১:২০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


সম্প্রতি রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় আসল অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এর বিপরীতে টাকার বিনিময়ে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার সাহাদুল হক মাস্টার।
গত রোববার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের এক অনুষ্ঠানে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদেরই তোপের মুখে পড়েন তিনি। এ নিয়ে ওই সময় অডিটোরিয়ামের ভেতর তীব্র হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সাহাদুল হক মাস্টার দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।
ঘটনার সময় উপস্থিত বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জানান, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রোববার উপজেলা পরিষদের নতুন অডিটোরিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। জাতি তাদের অনেক সম্মান করে। বর্তমান সরকারও তাদের অনেক সম্মান করেছে। তাই খেয়াল রাখতে হবে, তাদের এই সম্মান যেন অক্ষুণœ থাকে। তাদের ঘিরে যেন কোনো বিতর্ক না ওঠে।’ এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী এমন বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষে চলে যান। এরপরই শুরু হয় হট্টগোল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠান শেষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার সাহাদুল হক মাস্টারও চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা তাকে ঘিরে ধরেন। ওই সময় তারা সাহাদুল হক মাস্টারকে বলেন, ‘আপনি কাজটা ঠিক করলেন না। আমাদের অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকা থেকে বাদ দিলেন। আর টাকার বিনিময়ে ভূয়াদের মুক্তিযোদ্ধা বানালেন। কাগজপত্র থাকা সত্বেও টাকা দিতে না পারায় আমাদের অনেক মুক্তিযোদ্ধা ভাই তালিকা থেকে বাদ পড়লেন। তারা আমাদের চোখের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দেখে খারাপ লাগছে। কাজটা আপনি মোটেও ঠিক করলেন না।’
এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ডেপুটি কমান্ডার সাহাদুল হক মাস্টারের কিছু সময় ধরে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সাহাদুল হক মাস্টার অডিটোরিয়াম থেকে চলে যান।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার সাহাদুল হক মাস্টার বলেন, সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা কিছু ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু যাদের নতুন করে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেয়া হয়েছে, তাদের পক্ষে সাক্ষী দিয়েছেন এসব মুক্তিযোদ্ধারাই। তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই তাদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তারা কেন এখন এসব কথা বলছেন তা বলতে পারব না। যাচাই-বাছাইয়ের সময় কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়া হয়নি।
তবে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, সাহাদুল হক মাস্টার মুক্তিযোদ্ধার যাচাই-বাছাই কমিটিতে থেকে অনেকের কাছ থেকে বহু টাকা আদায় করেছেন। আগে তিনি অটোরিকশায় চড়ে এখানে-সেখানে এখন তিনি প্রাইভেট কার ভাড়া করে ঘোরেন। ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে যোগ দিতেও তিনি প্রাইভেট কার নিয়ে যান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ