বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের জীবন চলে অর্ধাহারে-অনাহারে

আপডেট: December 4, 2016, 11:31 pm

একে তোতা,  গোদাগাড়ী :



রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিদিরপুর গ্রামের মৃত হাজি সোলেমন সরকারের ছেলে নুরুল ইসলাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ডাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। চার নম্বর ক্যাম্প লালগোলা ৭ নম্বর সেক্টর তরঙ্গপুর দিনাজপুর ভারত থেকে  প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে রাজশাহীর গোদাগাড়ী তানোর, পবা, বোয়ালিয়া, মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যুুদ্ধে অংশ নেয়।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকলীন সময়ে গ্রুপ লিডার নুরুল ইসলামের সহযোগী যোদ্ধা ছিলেন আনারুল ইসলাম, কসিমুদ্দীন, আবু তাহের ভুইয়া সৈইবুর রহমান, জয়নুউদ্দীন, আরমান আলী, লুৎফার রহমান। উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালে ১৩ আগস্ট রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে ছয়ঘাটি স্থানে পাকবাহিনীর একটি জিপ ধ্বংস করে। এরপর নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা  দুয়ারী বীজ ধ্বংস করতে গিয়ে পাকবাহিনীর আক্রমণে ছত্রভঙ্গ হয় মক্তিযোদ্ধারা। রাতেই সাতার দিয়ে নদী পার হয়ে ধুরইল আশ্রয় গ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধারা। সকালে আবারো পাকবাহিনীর আক্রমণে ধুরইল গ্রাম ছেড়ে মুক্তিযোদ্ধারা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় মুক্তিযোদ্ধারা।
ভারতের লালগোলা আমবাগানে ইয়োথ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আরো বলেন, তানোরের বিল্লিগ্রাম থেকে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে তানোর থানায় আটকে রাখে পাক বাহিনী। আটক মুক্তিযোদ্ধাদের উপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা তসিকুল ইসলাম রাজা ভাইয়ের প্রচেষ্টায় ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধা তানোর থানায় আক্রমণ চালিয়ে আটককৃত ৭ মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্ত করে আনা হয়। ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধাদের দলে ছিল নুরুল ইসলাম, বাবালু মাস্টার, ইউসুফ অলী, আমিনুল ইসলাম, আনারুল ইসলাম, লুৎফার রহমান। বাকিদের নাম স্মরণে নেই। একদিন তানোরে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে তারা অংশ নেই। এই সময় পাকবাহিনীর গুলিতে নিহত হয় গোদাগাড়ী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের মঞ্জুর ভাই। ওই দিন আমরা প্রাণে বেঁচে যায়। রনাঙ্গনের বীর সৈনিক নুরুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে লাল বার্তা গেজেট (নং ০৩০২০৯০১৫৩), অন্তভূক্ত হলেও রাষ্ট্রীয় স্মৃকৃতি পাননি এখনো। বয়সের ভারে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে রয়েছে নুরুল ইসলাম।
অর্ধাহারে-অনাহারে জীবনযাপন করলেও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ভাতা পাওয়া থেকে বঞ্চিত। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা কোথাও থেকে কোন সাহার্য পায়নি। অসহায় এই মুক্তিযোদ্ধা তার ভাতা চালুর দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।
এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অশোক কুমার চৌধুরী বলেন, নুরুল ইসলামের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কাগজপত্র থাকলে অবশ্যই সে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাবে। এজন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের আবেদন করতে হবে নুরুল ইসলামকে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ বলেন, নুরুল ইসলামের আবেদন যাচাই বাচায়ের জন্য তার দপ্তরে আসামাত্রই  গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।