মুখ দেখে নয়, জরিপ দেখে মনোনয়ন: এমপিদের হাসিনা

আপডেট: মে ৮, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


কারও মুখ দেখে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেছেন, নিজের চালানো জরিপ দেখে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করবেন তিনি।
রোববার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে শেখ হাসিনা দলের সংসদ সদস্যদের এই সতর্ক বার্তা দেন বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।
আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে শেখ হাসিনার জরিপ চালানোর কথা এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও জানিয়েছিলেন।
তিনি গত ৩০ এপ্রিল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তৃণমূলে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে জরিপ চালানো হচ্ছে। শেখ হাসিনা কয়েকটি জরিপ পরিচালনা করছেন। তার ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
রোববারের বৈঠকে থাকা একজন সংসদ সদস্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ছয় মাস পর পর জরিপের কথা বলেছেন। এই জরিপে যারা ভালো করবেন, আগামী নির্বাচনে তাদের মনোনয়ন দেয়ার কথা বলেছেন নেত্রী।”
এক নারী সংসদ সদস্য বলেন, “নেত্রী বলেছেন, জরিপে যাদের নাম আসবে, তাদেরকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। সময় হাতে খুব একটা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
“তবে তিনি একইসঙ্গে বলেছেন, জরিপে যাদের অবস্থা এখন খারাপ, তাদের ওভারকাম করার সুযোগ এখনও আছে।”
বৈঠকে দলীয় সংসদ সদস্যদের তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনার নির্দেশও দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
এক সংসদ সদস্য বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বলেছেন।”
সরকারের উন্নয়ন চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরতেও দলীয় সংসদ সদস্যদের বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এক সংসদ সদস্য বলেন, “সরকারের সময়ে মাধ্যমিক স্তরে কত পুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে, কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে, মাথাপিছু আয়, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি কত টাকা দেয়া হয়েছে; তা কাছে জানতে চান তিনি।
“অধিকাংশই সঠিক উত্তর না দিয়ে ইতস্তত করায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নিজের সরকারের উন্নয়নের চিত্রই ঠিকমতো বলতে পারে না, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কী তথ্য দেবে?”
প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় রোববার এক অনুষ্ঠানে সরকারের অর্জনগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালাতে দলের সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সংসদীয় দলের বৈঠকে শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সক্রিয় করতে সংসদ সদস্যদের ইউনিয়ন পর্যায়ে বৈঠক করতেও বলেছেন।
আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের এই বৈঠকে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ১১ জন যোগ দেন। শুরুতেই তাদের পরিচয় করিয়ে দেন শেখ হাসিনা।
এরা হলেন গাইবান্ধা-৪ আসনের আবুল কালাম আজাদ, নওগাঁ-৩ আসনের ছলিম উদ্দীন তরফদার, কুষ্টিয়া-১ এর রেজাউল হক চৌধুরী, ঝিনাইদহ-২ এর তাহজীব আলম সিদ্দিকী, যশোর-৫ এর স্বপন ভট্টচার্য্য, ঢাকা-৭ এর হাজি মোহাম্মদ সেলিম, নরসিংদী-২ এর কামরুল আশরাফ খান, নরসিংদী-৩ এর সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, মৌলভীবাজার-২ এর আব্দুল মতিন, কুমিল্লা-৩ এর ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এবং কুমিল্লা-৪ এর রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্যে বাকি পাঁচজন মেহেরপুর-২ আসনের মো. মকবুল হোসেন, ফেনী-৩ আসনের রহিম উল্লাহ, পার্বত্য রাঙামাটির ঊষাতন তালুকদার, পিরোজপুর-৩ আসনের রুস্তম আলী ফরাজী এবং ফরিদপুর-৪ আসনের মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনকে ক্ষমতাসীন দলের এই বৈঠকে যাননি।- বিডিনিউজ