মুজিববর্ষ : আজ থেকে ক্ষণগণনা উজ্জীবিত বাংলাদেশ, উদ্দীপ্ত বিশ্ব

আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০২০, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। ১৯৭২ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে রক্তস্নাত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। স্বাধীন বাংলাদেশে মহান এই নেতার প্রত্যাবর্তনে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় পূর্ণতা পায়। এবারে এ দিবস উদযাপনে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ঘিরে আগামী বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে- তার ক্ষণগণনা শুরু হবে আজ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন থেকেই। এ নিয়ে দেশে- বিদেশে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
উল্লিখিত সময়কে রাষ্ট্র কর্তৃক মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী হবে এ বছর ১৭ মার্চ। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ গ্রামগঞ্জে নানাভাবে নানা আঙ্গিকে স্মরণ করা হবে সেই মানুষটিকে, যার জন্ম ও ৫৫ বছরের জীবনের কীর্তি বাঙালি জাতিকে করেছে মহান এবং দিয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা।
‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনে বছরব্যাপি নানা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিশ্বের ১৯৫টি দেশে অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার আয়োজনে যোগ দিতে আসবেন বিশ্বনেতারা। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উন্নয়ন, টানা তিন দফায় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরা হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৮ জন বিশ্বনেতা ঢাকায় আসতে পারেন। এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ মুজিববর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, ভুটানের রাজা জিগমে নামগিয়েল ওয়াংচুক প্রমুখ মুজিববর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন।
ইউনেসকো শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। ৫০ বছর বা এর গুণিতক যেকোনো বার্ষিকী যদি ইউনেসকোর কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়, তাহলে ওই দিবস যৌথভাবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই হিসাবে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষের বিশ্বস্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেসকো। এর ফলে ইউনেসকো বা এর ১৯৫ সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ বা দ্বিপক্ষীয়ভাবে এই দিবসটি পালনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নিঃসন্দেহে মুজিববর্ষ পালনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। বঙ্গবন্ধু বিশ্ব নেতা ছিলেন- তিনি বিশ্ব মর্যাদায় সম্মনিত হবেন এটাই স্বাভাবিক। মুজিববর্ষ তাই বাঙালি জাতির আত্মশ্লাঘারও বছর। মুজিববর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে নিশ্চিতভাবেই বিশ্ব বঙ্গবন্ধুকে, বাংলাদেশকে, বাঙালি জাতির অদম্য সাহস ও বিজয়ের বীরত্বগাথাকে জানবে- যা তরুণ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করবে, জাগরিত করবে, ন্যায়নিষ্ঠতা, সৌন্দর্য-সততা-সাহস ও ধৈর্য, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা, শান্তি ও সাম্যের পথে থেকে একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আকাক্সক্ষায় সঞ্চারিত হবে। শুধু বাংলাদেশ নয়- বিশ্ব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ- শান্তি- সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্যই ‘মুজিবচর্চা’ খুবই প্রাসঙ্গিক এবং অনুকরণীয়। মুজিববর্ষ শক্তি ও সাহসে সঞ্চারিত মানুষ থেকে মানুষে, জাতি থেকে জাতিতে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ