মুজিববর্ষ ব্যবহার করে মহাপ্রতারণার ফাঁদ সহায়তাকারীদেরও শাস্তি দিতে হবে

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা তাকে কোনো উপাধি দেয় নি। কিন্তু তাতে কী নিজেই নিজের মত করে একটা উপাধি ঠিক করে নিয়েছেন। নিজের দেয়া ‘বনবন্ধু’ উপাধি যোগ করে নিজেকে পরিচয় দিতেন ‘বনবন্ধু’ জাহিদুর রহমান ইকবাল নামে। নিজের ব্যবহৃত গাড়ির চারপাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাণী সংবলিত ছবি। স্বঘোষিত বনবন্ধু রাজশাহীর বাগমারা এলাকাতে বিচরণ আছে। তিনি বরাবরই বিতর্কিত মানুষ। এ পর্যায়ে তার স্বরূপ বেরিয়ে এসেছে। তিনি মুজিববর্ষ উদযাপনের সুযোগ নিয়ে পেতেছেন মহাপ্রতারণার ফাঁদ। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী কথিত বনবন্ধু মুজিববর্ষের লোগো, প্রধানমন্ত্রীর বাণী ব্যবহার করে প্রায় ৪০ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে অনুদান চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। মুজিবর্ষে গাছ লাগানোর কথা বলে অভিনব পন্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন এ মহাপ্রতারক। এর বাইরে নিজেকে একাধিক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন তিনি। ব্যাংক লোন পাইয়ে দেয়া, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদনসহ নানা ধরনের কনসালটেন্সির নামে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
অবশেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কারওয়ান বাজারের শাহআলী ভবনে নিজের কথিত অফিস থেকে জাহিদুর রহমানকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। এরপর বেরিয়ে আসতে থাকে তার অভিনব পন্থায় নানা প্রতারণার তথ্য।
গ্রেফতারের সময় কাছ থেকে ২৭০টি সিল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডকুমেন্টস প্রসেসিং ফাইল ১৮৪টি, মুজিববর্ষের লোগো ব্যবহার করা ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী সংবলিত চিঠি ৫০০টি, সিপিইউ দু’টি, প্রিন্টার দু’টি, স্ক্যানার একটি, মনিটর দু’টি, ল্যাপটপ একটি, মোবাইল দু’টি ও একটি টয়োটা করোলা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর নামে, প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে ফায়দা হাসিলে বিভিন্ন মহল বিভিন্নভাবে তৎপর আছে। এরা নানা উপায়ে প্রতারণার ফাঁদা পেতে মানুষকে প্রতারণা করছে, অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছে। বঙ্গবন্ধু নামের সাথে এ দেশের মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক, আবেগের সম্পর্ক। প্রতারকগোষ্ঠি বঙ্গবন্ধুকে ব্যবহার করবে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয় কেননা স্পর্শকাতর ও আবেগীয় বিষয় নিয়ে এদেশে প্রতারণা করা বেশ সহজ। মানুষ যাঁর নামে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে তিনি হলেন. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ব্যবহার করে প্রতারণা সুযোগ থাকা একেবারে উচিৎ নয়। এবং এটা শিগগিরই বন্ধ হওয়া উচিৎ। কোনো প্রতারক যাতে কথিত বনবন্ধু হয়ে উঠতে না পারে। তার আগেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া দরকার। শুধু তাই নয় অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে প্রতারক বনবন্ধুরা প্রভাবশালীদের সহায়তা পেয়ে থাকে। সহায়তা না পেলে তারা বছরের পর বছর কীভাবে প্রতারণা চালিয়ে যেত পারে। এই সহায়তাকারীদেরও চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বঙ্গবন্ধু ও মুজিববর্ষ ব্যবহার করে আর কেউ যাতে প্রতারণার ফাঁদ পেতে রাখতে না পেরে সে ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসনের সতর্ক পদক্ষেপ থাকা বাঞ্ছনীয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ