‘মুজিব পল্লী’ মসজিদের লক্ষাধিক টাকা গিলে খেলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা

আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২২, ১০:৩০ অপরাহ্ণ

ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:


তর্ক—বির্তকের মাঝে চরধরমপুর টাংগন মোহনায় অবশেষে গড়ে উঠেছে ভূমিহীন গৃহহারা মানুষের জন্য ১০০টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহারের বাড়ি। বিশাল এ জায়গাটিতে বাড়ি নির্মাণে স্থানীয় ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের সুদৃষ্টি ছিলো এ জায়গাটি ঘিরে। নক্সা করা হয় ১০০টি বাড়ি নির্মাণের সাথে পানির ব্যবস্থা, রাস্তা, মসজিদ, স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার ও কবরস্থানের।

১০০টি বাড়ি তৈরি হয়ে ভূমিহীন ১০০টি গৃহহীন পরিবার বাড়িতে উঠে বসবাস করছেন। আলো, পানি সুবিধা পেয়ে বেশ খুশি তাঁরা। স্থানীয় ঊর্ধ্বতন প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ স্থানটির নামকরণ করেন ‘মুজিব পল্লী’। এখানে রাস্তা, মসজিদ, স্কুলসহ অন্যান্য সুবিধা দেয়ার কথা। কিন্তু সেখানে শতভাগ ইসলাম ধর্মপ্রাণ মানুষ বসবাস করছেন।

কথা অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের সময় শ্রমিক থাকার জন্য একটি গোডাউন ঘর নির্মাণ করা হয়। সেই ঘরটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করেন উপকারভোগিরা। হঠাৎ মসজিদ কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতিদের ভোলাহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার কাউসার আলম সরকার তাঁর অফিসে ডেকে পাঠান। কমিটির সদস্যরা অফিসে গেলে মসজিদের নামে প্রকল্প আছে মর্মে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকার প্রকল্প দেখিয়ে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বরাদ্দের টাকার চেকে স্বাক্ষর নেয়া হয়। মসজিদের উন্নয়নে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকার চেকে প্রকল্প সভাপতি মসজিদ কমিটির বীর মুক্তিযোদ্ধা কয়েশ উদ্দিনের স্বাক্ষর নিলেও একটি টাকাও তাঁদের দেয়া হয়নি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা টাকা না দেয়ায় তর্কে জড়ালেও একটি টাকাও তাঁদের না দিয়ে অফিস থেকে পাঠিয়ে দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) মো. কাউসার আলম সরকার তাঁদের বলেন, এ চেকের টাকা দেয়া যাবে না। ওখানে আমার পকেট থেকে টাকা খরচ করে কাজ করেছি।

এদিকে মসজিদ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কয়েশ উদ্দিন জানান, পিআইও আমাদের মসজিদ কমিটিকে অফিসে ডেকে অনেক কাগজপত্রে সই করিয়ে নিয়েছে। মসজিদের নামে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকার চেকে সই করিয়ে নিয়ে টাকা দেয়নি।

পিআইও বলেছেন, তাঁর পকেট থেকে খরচ করেছে তাই টাকা কেটে নিয়েছেন। এদিকে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাকিব বলেন, যেটা মসজিদ আছে এটা নির্মাণ শ্রমিকদের গোডাইন ঘর ছিলো। কাজ শেষ হলে আমরা মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উপরে টিন ও মেহেরাব তৈরি করেছি। পিআইও এ মসজিদে কোনো টাকা খরচ করেনি বলে জানান।

মসজিদ কমিটির সহসভাপতি ময়েজ আলী বলেন, ১ লাখ ২৪ টাকার চেক সহি করে টাকা না দেয়ার জন্য পিআইওর সাথে ঝগড়া করেছি। তারপরও টাকা দেয়নি।

এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার কাউসার আলম সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মসজিদের উন্নয়নে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকার প্রকল্প দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত টাকা খরচ করে মসজিদ নির্মাণ করেছিলাম তাই প্রকল্প দিয়ে টাকা উঠিয়ে নিয়েছি বলে জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ