মুফতি হান্নানের হাতে সময় আর ৫ দিন

আপডেট: মার্চ ২৪, ২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত জঙ্গি মুফতি হান্নানের হাতে রয়েছে আর পাঁচ দিন।
আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হওয়ার রায় এবং মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানোর পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় গণনা শুরু হয়েছে।
বুধবার এ সময় গণনা শুরু হয় বলে কারা মহাপরিদর্শক ইফতেখার উদ্দীন জানিয়েছেন।
বুধবার শুরু হয়ে দুদিন ইতোমধ্যে চলে যাওয়ায় রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার জন্য আর পাঁচ দিন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সে নবনিয়োগপ্রাপ্তদের শপথগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যার মামলায় হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, যা আপিলেও বহাল থাকে। আপিল পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হওয়ার পর এখন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়াই বাকি আছে।
এদের মধ্যে হান্নান ও বিপুল কাশিমপুর এবং রিপন সিলেট কারাগারে রয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনজনই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে কারাকর্তৃপক্ষ বলেছে।
ইফতেখার উদ্দীন বলেন, “বুধবার মুফতি হান্নানের মৃত্যু পরোয়ানাসহ রায়ের কপি আমারা পেয়েছি দাপ্তরিকভাবে। সেটা এখন জেলকোড অনুযায়ী ও জেলকোডের নীতিমালা অনুযায়ী এক্সিকিউট করা হবে। বুধবারই আমরা তা পড়ে শুনিয়েছি এবং আমাদের ডেট কাউন্ট শুরু হয়েছে।
“উনি যেহেতু জেলকোড অনুযায়ী মার্সি পিটিশনের জন্য সাতদিন সময় পাবেন, সাতদিন সময় তাকে দেওয়া হয়েছে। সাতদিনের মধ্যেই উনি জানাবেন মার্সি পিটিশন করবেন কিনা।”
কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার মিজানুর রহমান জানান, মঙ্গলবার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ার পর ওই কারাগারের বন্দি মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল বিপুলকে রায়ের কপি ও মৃত্যু পরোয়ানা বুধবার পড়ে শোনানো হয়।
“এ সময় তারা রাষ্ট্রপতির কাছে মার্সি পিটিশন করবেন বলে কারা কর্মকর্তাদের কাছে জানিয়েছেন।”
সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ২০০৪ সালের ২১ মে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী গ্রেনেড হামলার মুখে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই পুলিশের এএসআই কামাল উদ্দিন নিহত হন।
এছাড়া পুলিশ কনস্টেবল রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি মারা যান হাসপাতালে। আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ৪০ জন ওই ঘটনায় আহত হন।
ওই ঘটনায় করা মামলার চূড়ান্ত রায়ে আপিল বিভাগ গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তিন আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় বহাল রাখে।
এ মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডিত দুই আসামি মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে হাই কোর্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। আপিল না করায় তাদের ওই সাজাই বহাল থাকে।
আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। তাদের আবেদন গত ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে যায়। ফলে চূড়ান্ত বিচারেও ফাঁসির রায় বহাল থাকে।
প্রাণ বাঁচাতে এই তিন জঙ্গির সামনে এখন কেবল কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কৃপা চাওয়ার সুযোগই বাকি।
দুপুরে কাশিমপুর কারাগার কমপ্লেক্সে ৪৯তম কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সে নবনিয়োগপ্রাপ্তদের শপথগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক ইকবাল হাসান, ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদ, গাজীপুর জেলা প্রশাসক এসএম আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সুলাইমানসহ কারা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।- বিডিনিউজ