মুশফিকসহ কয়েকজন ক্রিকেটারকে বিসিবির ‘না’

আপডেট: জুন ৪, ২০২০, ২:০৬ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক :


করেনাভাইরাস এখন এক মূর্তিমান আতঙ্ক। কোভিড-১৯’এ সংক্রমণের শঙ্কায় প্রতিটি মানুষ। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে দেশের মানুষের মৃত্যু শঙ্কায় ভীষণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সবাই। খুব জরুরি দরকার ছাড়া বাইরে বের হওয়া ছেড়েই দিয়েছেন অনেক বহির্মুখী মানুষ।
ফুটবলার, ক্রিকেটার, অ্যাথলেটসহ অন্যান্য ক্রীড়াবিদদের জন্য এ সময়টা আরও কষ্টের। খেলা তো বহু দূরে, অনুশীলন করার জন্যও বাইরে যাওয়ার উপায় নেই। করোনা আতঙ্কে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থাকলেও, তারা ঘরে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছেন, অনেকেই ছটফট করছন।
ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ আর খেলার জন্য মুখিয়ে থাকা মুশফিকুর রহীমের জন্য এত দীর্ঘসময় অনুশীলন ও খেলার বাইরে থাকা আরও কঠিন। তার কাছে ক্রিকেট শুধু খেলা নয়, তার ধ্যানজ্ঞান ও সাধনা। অনুশীলনেও তার ব্যাপক উৎসাহ।
যেকোনো প্র্যাকটিসে মুশফিকের উৎসাহ-উদ্দীপনা সবার চেয়ে বেশি থাকে। অন্যরা যখন প্র্যাকটিস শেষ করে ড্রেসিংরুমে গিয়ে বিশ্রাম নিতে থাকেন, তখনও মুশফিককে দেখা যায় নেটে, সেন্ট্রাল উইকেট কিংবা বোলিং মেশিনে ব্যাটিং ঝালিয়ে নিতে।
সেই প্রিয় ক্রিকেট চর্চা করার কোন সুযোগই মিলছে না এখন। মুশফিক যেন খাঁচায় বন্দী পাখি। একবার সুযোগ পেলেই যেন ডানা মেলে উড়বেন আকাশে। সেই প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল।’
কিছুদিন আগে এক টক শো’তে মুশফিক তা বলেও ফেলেছেন। প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, লকডাউন উঠে গেলে প্রথম যেদিন প্র্যাকটিস শুরু হবে, সেদিন ১৪-১৫ ঘন্টা অনুশীলন করবেন শেরে বাংলায়।
সেই তাগিদ থেকেই শেরে বাংলায় প্র্যাকটিসের অনুমতি চেয়েছিলেন মুশফিক। দেশের এ অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান একা নন, জানা গেছে আরও কজন ব্যাটসম্যানও শেরে বাংলায় একা একা অনুশীলনের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে বোর্ড প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজনের কাছে মুশফিকসহ আরও কয়েকজন ক্রিকেটার হোম অব ক্রিকেটে অনুশীলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিসিবি সিইও তাদের সে আবেদন আপাতত নাকচ করে দিয়েছেন।
কারণ ব্যাটিং-বোলিং প্র্যাকটিস তো আর একা একা করা যায় না। বোলিং মেশিনে নেট করলেও মেশিন অপারেট, বল কুড়িয়ে দেয়া এবং আনুসাঙ্গিক মিলে আরও দুই-তিন জন সহকর্মী প্রয়োজন। তাদেরও তো করেনা আতঙ্ক আছে। তাদের কেউ একজন করোনা পজিটিভ থাকলেই তো সর্বনাশ। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে শেরে বাংলায় একা একা ট্রেনিং করায়ও আছে রাজ্যের ঝুঁকি।
এদিকে খোদ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলও জানিয়ে দিয়েছেন, এখন যে অবস্থা তাতে অন্তত জুন মাসে দেশের খেলাধুলা বন্ধ রাখাই উত্তম। বুধবার জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন এখন যে অবস্থা তাতে জুন মাসে খেলাধুলা চালুর প্রশ্নই আসে না। জুনের পর মানে জুলাই বা তার পরে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে বিসিবিও ভেতরে ভেতরে জাতীয় দলের ফিজিক্যাল ও স্কিল ট্রেনিং চালুর চিন্তা ভাবনা করছিল। অবশ্য সেটা পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে। করোনার ভয়াবহতা কমলে পরে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এ ঘোষণায় সেটা হয়তো আরও পিছিয়ে যাবে।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ