মুশফিকের ব্যাটে বড় স্বপ্ন বাংলাদেশের

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৭, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


রৌদ্রজ্জ্বল দিনে চট্টগ্রামের সবুজ গালিচায় শুরুটা ভালো না হলেও শেষটা রঙিন করে রাখল বাংলাদেশ। মধ্য দুপুর এবং পড়ন্ত বিকেলের লড়াইয়ে রকেট বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনটি বাংলাদেশের।
টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৫৩ রান। মুশফিকুর রহিম ৬২ ও নাসির হোসেন ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।
ঢাকা টেস্ট হারের পর অস্ট্রেলিয়াকে কতকিছু করাতে বাধ্য করেছে বাংলাদেশ তা বলে শেষ করা যাবে না। রীতি ভেঙে পরশু দল ঘোষণা করে তারা। গতকাল দল সাজানোতেও চমক! ১৯৭৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সবশেষ টেস্টে এক পেসার নিয়ে খেলেছিল। ৪০ বছর পর আবারো অতীতে ফিরে গেল সফরকারীরা। প্যাট কামিন্সকে রেখে তিন স্পিনার নিয়ে মাঠে নামেন স্টিভেন স্মিথ। এক পেসার থাকায় দ্বিতীয় ওভারেই বোলিংয়ে স্পিনার নাথান লায়ন। ৭৮ বছর পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার কোনো স্পিনার ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বোলিং উদ্বোধন করেন। সবশেষ ১৯৩৮ সালে নতুন বলে শুরু করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিল ও’রিলি। সব মিলিয়ে দিনের প্রথম ঘন্টায় চট্টগ্রাম টেস্ট সব আলো কেড়ে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামলেও ধীর গতিতে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার পেসার প্যাট কামিন্স ও অন্য তিন স্পিনার শুরু থেকেই বাংলাদেশকে চাপে রাখে। তবে দিন যত গড়ায় বাংলাদেশ দ্রুতই খোলস থেকে বেরিয়ে আসে। সেশন টু সেশন পরিসংখ্যান দেখলেই তার স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
মূলত ষষ্ঠ উইকেটে পাল্টে যায় বাংলাদেশের চেহারা। ১১৭ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ ষষ্ঠ উইকেটে ১০৫ রানের জুটি পায়। মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমান ১০৫ রানের জুটি গড়েন। গত বছর অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ মাঠেই ৮৭ রান করেছিলেন তারা। এবার প্রথমবারের মতো তাদের জুটি শতরানের স্বাদ পায়। জুটিতে সাব্বিরের অবদান ৬৬ রান। ৬২ বলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটির স্বাদ পাওয়া সাব্বির টেস্ট সেরা ইনিংস খেলে আউট হন স্ট্যাম্পড হয়ে। সেটাও দূর্ভাগ্যবশত। শরীরের ভারসাম্য রাখতে না স্ট্যাম্পড হন এ ব্যাটসম্যান। তার ফিরে যাওয়ার পর নাসির অধিনায়ক মুশফিককে সঙ্গ দিয়ে দিনের বাকিটা সময় দারুণভাবে কাটিয়ে দেন। ৪ রান নিয়ে টেস্টে হাজারী ক্লাবে প্রবেশ করা নাসির দিন শেষে ১৯ রানে অপরাজিত।
পুরোদিন সবার থেকে আলাদা হয়ে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। সোজা ব্যাটে ব্যাট করে দিনটি রাঙিয়ে তোলেন মুশফিক। ক্যারিয়ারের ১৮তম ফিফটির দেখা পান ১২৪ বলে, মাত্র ৪ বাউন্ডারিতে। পরিসংখ্যানই বলছে কতটা লড়াই করেছেন মুশফিক। ৬২ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিক গতকাল ব্যাটিং করেছেন ২২২ মিনিট। তবে তার কাঁধে রাজ্যের চাপ। পুরো দলই এখন তাকিয়ে তার ব্যাটের দিকে। মুশফিক দ্বিতীয় দিন হাসলে, হাসবে বাংলাদেশও।
তামিম ইকবাল দিনের শুরু থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না। পেসার প্যাট কামিন্সের অফস্ট্যাম্পের বাইরের অনেকগুলো বলে পরাস্ত হয়েছিলেন। খোঁচা দিয়ে একবার তৃতীয় স্লিপে জীবন পেয়েছিলেন। কিন্তু ঢাকা টেস্টের পার্শ্বনায়ক দ্বিতীয় জীবনেও ইনিংসটিকে বড় করতে পারেন নি। নাথান লায়নের বলে এলবিডব্লিউ হন মাত্র ৯ রানে। ধারাবাহিকভাবে অফফর্মে থাকা ইমরুল কায়েস দলকে চাপে ফেলে আউট হন মাত্র ৪ রানে। অফস্ট্যাম্পের উপরের বল টেনে সুইপ করতে গিয়ে নিজের উইকেট হারান ইমরুল। আম্পায়ার নাইজেল লং প্রথমে আউট দেন নি। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উইকেট আদায় করে নেন লায়ন।
তৃতীয় উইকেটে সৌম্য সরকারকে দারুণ সঙ্গ দেন মুমিনুল হক। ৪৯ রানের জুটি গড়ে দলকে ধংসযজ্ঞ থেকে বের করে আনেন। দুই টেস্ট পর দলে ফেরা মুমিনুল হক ব্যাট করছিলেন স্বাচ্ছন্দ্যে। চার নম্বর ব্যাটিং পজিশনে নিজেকে পুরোই মানিয়ে নিয়েছিলেন। স্পিনার নাথান লায়নের করা দ্বিতীয় ওভারেই ফিরতে পারতেন সৌম্য। শূন্য রানে থাকা সৌম্যকে জীবন দেন উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েড। বল তার হাত থেকে ফসকে চলে যায় বাউন্ডারিতে। সৌম্যর রানের খাতা খোলার সঙ্গে বাংলাদেশেরও রানের খাতা খোলে ওই বাউন্ডারিতে। ১৬তম ওভারে তার ব্যাট থেকে আসে দ্বিতীয় বাউন্ডারি। ওই ওভারেই ডাউন দ্যা উইকেটে এসে ছক্কা মারেন। বড় ইনিংস খেলার আভাস ভালোই দিচ্ছিলেন। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির দুই বল আগে তাকে ফিরিয়ে প্রথম সেশন নিজেদের করে নেন লায়ন। ৮১ বলে ৩৩ রানে তাকেও এলবিডব্লিউ করেন ডানহাতি স্পিনার।
বিরতির পর আবারও বাংলাদেশ শিবিরে লায়নের আঘাত। ৬৭ বলে ২ বাউন্ডারিতে ৩১ রান করা মুমিনুল হক ব্যাকফুট পাঞ্চ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন। এ উইকেট নিয়ে লায়ন প্রথম বোলার হিসেবে টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লিউ করার রেকর্ড গড়েন। পঞ্চম উইকেটে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম জুটি বাঁধেন। তবে ৩২ রানের বেশি আসেনি তাঁদের ব্যাটে। ৫২ বলে ৩ বাউন্ডারিতে সাকিব ২৪ রান তুলে অ্যাস্টন অ্যাগারের বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দেন।
এরপরই বাংলাদেশের ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দেন মুশফিক-সাব্বির। তাদের শতরানের জুটিতে হাসিমুখে দিন শেষ করতে পেরেছে টিম বাংলাদেশ। রাইজিংবিডি