মুসলিমদের ১২% সংরক্ষণ দিয়ে বিতর্কে তেলঙ্গানা

আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০১৭, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


চাকরি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে মুসলিমদের জন্য ১২ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করল তেলঙ্গানা সরকার। বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই সংক্রান্ত বিলটি সোমবার পাশ করানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হয়েছে বিজেপি।
তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও ‘অনগ্রসর জাতি, তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি সংরক্ষণ বিল ২০১৭’ নামে যে বিলটি আজ বিধানসভার সামনে এনেছেন, তাতে মুসলিমদের পাশাপাশি তফসিলি উপজাতিদের সংরক্ষণ বাড়ানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়। সমাজের অনগ্রসর শ্রেণি (ই)-র আওতায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা অংশের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। এই সীমা ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করা হল। এ ছাড়া, বিলে রাজ্যের তফসিলি উপজাতিদের জন্যও সংরক্ষণ ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
এমন দিনে তেলঙ্গানায় সংরক্ষণ বিল পাশ হয়েছে, যে দিন ভুবনেশ্বরে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুসলিমদের কাছে পৌঁছনোর বার্তা দিয়েছেন। যদিও মুসলিমদের সংরক্ষণের বিরোধিতায় তেলঙ্গানা বিধানসভায় প্রবল ভাবে সরব হয়েছে বিজেপি। আর মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও বিলে দুই ধরনের সংরক্ষণের প্রস্তাবকে একসঙ্গে সামনে নিয়ে আসায় বিপাকে পড়ে গিয়েছে মোদীর দল। কারণ, বিজেপি রাজ্যে তফসিলি উপজাতিদের সংরক্ষণ বাড়ানোর পক্ষে, কিন্তু মুসলিমদের সংরক্ষণের ঘোর বিরোধী। তাদের অভিযোগ, মুসলিমদের সংরক্ষণ দিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে টিআরএস সরকার। বিজেপির এক শীর্ষস্থানীয় নেতার দাবি, ‘‘এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এ ভাবে চললে ভারতে একটা মিনি পাকিস্তানের জন্ম হবে।’’
তেলঙ্গানা বিধানসভায় বিজেপির পাঁচ জন সদস্য রয়েছেন। বিলে মুসলিমদের জন্য সংরক্ষণের প্রতিবাদ করে হইচই করায় তাঁদের বিধানসভা অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই তালিকায় রাজ্য বিজেপির সভাপতি কে এল লক্ষ্মণও রয়েছেন। বিজেপি বিধায়ক জি কৃষ্ণ রেড্ডির অভিযোগ, ‘‘এই বিল অসাংবিধানিক। এর কোনও আইনি ভিত্তিও নেই।’’ তিনি জানিয়েছেন, ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থার বিরোধী তাঁরা। আর মুসলিমদের অনগ্রসর শ্রেণি (ই)-র আওতায় এনে সমাজের অনগ্রসর অংশের অপমান করা হল।
মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও যদিও ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সামাজিক-অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার উপর ভিত্তি করেই সংরক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁর যুক্তি, ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৯.৮ শতাংশ তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের। কিন্তু তাদের জন্য ৬ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। অনগ্রসর শ্রেণির উদ্দেশে তাঁর আশ্বাস, মুসলিমদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা করায় তাঁদের অসুবিধা হবে না। কারণ অনগ্রসর শ্রেণির মোট সংরক্ষণই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে তফসিলি জাতির জন্য ১৫ শতাংশ ও অনগ্রসর শ্রেণির জন্য ২৫ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবের পরে তেলঙ্গানায় সব মিলিয়ে সংরক্ষণের অঙ্ক পৌঁছেছে ৬২ শতাংশে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সংরক্ষণের সীমা ৫০ শতাংশের মধ্যে রাখার কোনও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।- আনন্দবাজার পত্রিকা