মুহূর্তে মৃত্যু ঘটাতে পারে ভিএক্স

আপডেট: মার্চ ১, ২০১৭, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



বিষাক্ত রাসায়নিক ভিএক্স এজেন্ট, যা সম্ভবত কিম জং-ন্যামের মৃত্যু ঘটিয়েছে। মালয়েশিয়া বলেছে, যে পদার্থটি দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সৎভাই কিম জং-ন্যামের মৃত্যুর জন্য দায়ী, তা হলো ভিএক্স এজেন্ট, যা অন্য সব স্নায়ু এজেন্টের চেয়ে বেশি মাত্রায় শক্তিশালী এবং আর্ন্তজাতিকভাবে নিষিদ্ধ।
ভিএক্স কী?
স্বচ্ছ, তেল রঙের, তৈলাক্ত স্বাদহীন, গন্ধহীন এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, যা একে শনাক্ত করতে কঠিন করে তোলে। যুদ্ধে ব্যবহৃত সব ধরনের রাসায়নিক পদার্থের চেয়ে এটি বিষাক্ত। বিষাক্ত সারিন গ্যাসের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ শক্তিশালী। কারো চামড়ার উপর এক ফোটা ভিএক্স এক মিনিট রাখলে এতে তার মৃত্যু হতে পারে। আর নিঃশ্বাসের মাধ্যমে সরাসরি গ্রহণ করলে মুহূর্তে মুত্যু ঘটাতে এটি।
ভিএক্স হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে আমেরিকার দেয়া সাংকেতিক নাম, যার দাপ্তরিক নাম এস-২। এর যৌগ রাসায়নিক নাম ডাইসসোপ্রপাইলেমাইল মিথাইল ফসফনোথায়োলেট। ১৯৯৩ সালে রাসায়নিক অস্ত্র সম্মেলনে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। বলা হয়, কোনো দেশ এ রাসায়নিক উপাদন উৎপাদন করবে না এবং এর মজুত থাকলে তা ধ্বংস করবে।
কীভাবে এটা কাজ করে?
ভিএক্স শ্বাসগ্রহণ, আহার, চামড়া, চোখের সংস্পর্শে এলে শরীরে ঢুকতে পারে। এটা চামড়া ভেদ করে ঢুকে শিরার রক্ত প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করে। শুধু রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় এটা। এই  স্নায়ু এজেন্ট  ছিটিয়ে বা বাষ্পের মাধ্যমে, খাবার ও পানিতে মিশিয়ে রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ছড়িয়ে পড়ার ফলাফল কী?
এর লক্ষণ কীটপতঙ্গের বিষের মতোই এবং ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুভূত হয়। ভিএক্স শরীরের ঢুকলে ওই ব্যক্তির কাশি, বুক কষে আসা, শা শা করে নিঃশ্বাস নেয়া, নিঃশ্বাস শেষ হয়ে আসার মতো লক্ষ্ণ দেখা দেয়। এ ছাড়া দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে,  ক্লান্তি বোধ হওয়া ও মাথাব্যথা হয়ে থাকে। অন্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে চোখ- নাক ভিজে যাওয়া,  পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব ও বমি হওয়া, মাংসপেশী নিস্তেজ হয়ে যাওয়া। যদি এর পরিমাণ যথেষ্ট বেশি হয়, তবে এটা স্নায়ুতন্ত্রতকে বিকল করে দিয়ে নিশ্চিত মৃত্যু ঘটায়। কাপড়ে বাষ্পের ভিএক্স লাগলে তা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ছড়াতে থাকে এবং তা অন্য মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। শুধু রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিএক্স মজুত রাখার অধিকার আছে। কিন্তু বিশ্বাস করা হয়, অন্যান্য দেশেরও এর মজুত রয়েছে।
রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞ এবং স্টিমসন সেন্টারের মূখ্য সহকারী সিন্ডিভারসারগাট জানান, ইরাক নিশ্চিতভাবেই ভিএক্স তৈরি করেছে ১৯৮০ সালের দিকে, কিন্তু এর কোনো নমূনা নেই, যা দিয়ে এটা প্রমাণ করা যায় । ১৯৬৯ সালে যখন জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভিএক্সের মজুত ক্ষেত্র ছিদ্র হয়ে যায়, তখন ২৩ জন সেনা আর একজন বেসামরিক মানুষ এতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। বিষয়টা জাপানে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এর ফলে আমেরিকা স্বীকার করতে বাধ্য হয়, বিদেশে তাদের রাসায়নিক পদার্থের মজুত আছে।
উত্তর কোরিয়া কি ভিএক্স তৈরি করে?
উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ সুদান, মিশর ভিএক্স নিষিদ্ধকরণ চুক্তি সিডব্লিউসি-তে স্বাক্ষর করেনি, সমর্থনও দেয়নি। এক সামরিক বিশ্লেষক জানান, বিশ্বাস করা হয়, উত্তর কোরিয়ায় প্রচুর ভিএক্স মজুত আছে, যা খুব কম খরচে বানানো সম্ভব। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ২০১৪ সালে এক শ্বেতপত্রে বলেন, ১৯৮০ সালে থেকে উত্তর কোরিয়া ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টন রাসায়নিক অস্ত্র বানিয়েছে। ২০১২ সালে আরেক শ্বেতপত্রে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার আটটি স্থোনে রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির কারখানা আছে- উত্তর পূর্বের সানজিন আর উত্তর পশ্চিমের সনজুসহ।
অনুবাদক : সোহাগ অধিকারী (বিবিসি অবলম্বনে), রাইজিংবিডি

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ