মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনতাই এ ঘটনা ভয়ঙ্কর কিছুর ইঙ্গিত দেয়!

আপডেট: নভেম্বর ২২, ২০২২, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

ঢাকার একটি আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আনসার আল ইসলামের মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তাদের সহযোগীরা। এই দুই জনই ২০১৫ সালে বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় এবং জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত। ঢাকার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নেয়ার পথে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের গেটের সামনে চারজন জঙ্গি দায়িত্বরত পুলিশের চোখে স্প্রে করে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
মৃত্যুদ-প্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দিতে পারলে প্রত্যেকের জন্য ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। তদন্ত কমিটি হয়েছে, সারাদেশে অ্যালার্ট জারি হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবেদন দেশের প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচার ও প্রকাশ হয়েছে।
সন্দেহ নেই, এই ঘটনার আকস্মিকতায় সচেতন মহল হতভম্ব হয়েছেন। পুলিশ বাহিনী বিব্রত ও অস্বস্তির মুখে পড়েছে। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গির ছিনতাই হওয়ার ঘটনার জন্য পুলিশের গাফলতিকেই দায়ি করা হচ্ছে। ভয়ঙ্কর জঙ্গি আসামীকে আদালতে নেয়ার ক্ষেত্রে পুলিশি ব্যবস্থা যে যথেষ্ট ছিল না সেটা বেশ পরিষ্কার। তারপরও পুলিশের উদাসীনতা ছিল।
জঙ্গি ছিনতাই প্রথম হয়েছিল ময়মনসিংহের ত্রিশালে, ২০১৪ সালে। এরপর বিভিন্ন সময় ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাও করেছিল জঙ্গিরা। কিন্তু সফল হয়নি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সতর্ক তৎপরতার কারণে। দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পর আবারও সফল হলো জঙ্গিরা।
জঙ্গি সম্পৃক্ত আসামিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঢিলেঢালা ভাব দেখানোয় প্রশ্ন উঠেছে আদালতের বিচারক, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিয়েও। জঙ্গিরা আরও সশস্ত্রভাবে বড় ধরনের হামলা করলে বড় হতাহতের ঘটনাও ঘটতে পারতো বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্ধর্ষ আসামির ক্ষেত্রে ডান্ডাবেড়ি পরানোর নিয়ম থাকলেও জঙ্গিদের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। আসামিদের হ্যান্ডকাফ পরানো ছিল। এর ব্যত্যয় কেন হলো তদন্ত কমিটি নিশ্চয় খতিয়ে দেখবেন।
দুর্ধর্ষ আসামী ছিনতাই গঠনা এই ইঙ্গত দিচ্ছে যে, জঙ্গিরা বড় ধরনের সন্ত্রাসী আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। সংবাদ তথ্যমতে ছিনতাই অভিযানে ১৮ জনই জড়িত আছে- এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। পূর্বেও জঙ্গি-সন্তাসী ঘটনার পরম্পরা ভুলে গেলে চলবে না। যারা এই ঘটনার পরিকল্পনাকারী, জঙ্গি তৎপরতায় উৎসাহ ও অনপ্রেরণা দানকারীদের বেশ বড় একটি অংশ আছে। যারা নানাভাবে জঙ্গিদের সংগঠিত করছে। অবশ্য এরা অনেকেই দৃশ্যমান, তাদের বক্তব্যও স্পষ্ট। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদাসীনতা স্পষ্ট।
জঙ্গিদের যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে তারা কিন্তু সবসময়ই নেপথ্যে থেকে যাচ্ছে। মূলত এরাই জঙ্গি সংগঠনের মূল শক্তি। এদেরকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত জঙ্গি ও সন্ত্রানবাদেন ঝুঁকি থেকেই যাবে। এই ঘটনা পুলিশি ব্যবস্থার দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার তাগিদ দেয় যেমন তেমনি জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের নেপথ্যের কারিগরদের চিহ্নিত করা এবং জঙ্গিদের গণতন্ত্রেও মোড়কে আশ্রয়-প্রশ্রয় দানকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ