মৃত্যুর পরে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন আতাহার

আপডেট: নভেম্বর ৩০, ২০২২, ১১:২৪ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি :


অবশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন আতাহার হোসেন। বুধবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে নাটোর সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক শুনানীতে আতাহার হোসেনকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা খাতুন।
তবে ২০০৫ সালে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হন আতাহার হোসেন। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে সে সময় তার স্থায়ী ঠিকানা ছাতনী ইউনিয়ন অন্তভুক্ত হওয়ায়। মৃত্যুর পরে ‘অমুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে মন্ত্রনালয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।
এ শুনানীতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জামুকার নাটোর সদর প্রতিনিধি হোসেন আহমেদসহ এমপির প্রতিনিধি, অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। শুনানিতে তিনজনসহ মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
জানা যায়, অতিন চন্দ্র দাস নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে বলা হয়, নাটোর সদর উপজেলার আটঘরিয়া এলাকায় হিন্দুদের বাড়িতে লুটকারী আতাহার হোসেনকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, আতাহার হোসেন ২০০৫ সালে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট ভুক্ত হন। সে সময় তার স্থায়ী ঠিকানা ছাতনী ইউনিয়ন অন্তভৃক্ত হয়। এরপর দুই দফা যাচাই-বাছাই হলেও তারা সে গেজেট সংশোধন করে নি।
এনিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বরাবর অভিযোগও করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে বুধবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এবিষয়ে শুনানি হয়।
এবিষয়ে নাটোর সদর উপজেলার ৪নং লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা ইউনিয়নের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম মিয়াও একই বিষয়ে প্রত্যয়ন দেন। শুনানীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা অতিন চন্দ্র দাস স্বাক্ষ্য প্রদান করেন।
যদিও শুনানীর সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা অতিন চন্দ্র দাস ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম মিয়া তাদের স্বাক্ষরিত অভিযোগ ও প্রত্যয়ন করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তারা উভয়েই জানান, তাদের স্বাক্ষর জাল করে কে বা কারা এমনটি করেছেন সেটা তাদের জানা নেই।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাহার হোসেনের ছেলে অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম জানান, এলাকার কিছু স্বার্থন্বেষী মহল তাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিতে না পারায় তারা মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করার চেষ্টা করেছে। আজ সত্যিটা প্রমাণ হয়ে গেল, আমার বাবা একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা।
সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও ইউএনও আফরোজা খাতুন জানান, শুনানিতে নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে স্বাক্ষিরা ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধার মতামতের ভিত্তিতে আতাহার হোসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে সকলেই সন্তুষ্ট।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ