মৃত্যুশূন্য ২৪ ঘণ্টা সংখ্যা শূন্য হলেও ‘শঙ্কাশূন্য নয়’

আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০২১, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ


মাহাবুল ইসলাম :


রাজশাহীতে নিম্নমুখী করোনা পরিস্থিতি। এই নিম্নমুখী পরিস্থিতির মধ্যেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রতিদিনিই চার-পাঁচজন করে রোগী করোনার লক্ষণ ও আক্রান্ত হয়ে হয়ে মৃত্যুবরণ করছিলো। তবে দীর্ঘ সময় পর রাজশাহীতে করোনার মৃত্যু সংখ্যা ‘শূণ্য’। রোববার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনায় কেউ মারা যায় নি। যেটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তবে ‘সংখ্যা’ শূণ্য হলেও ‘শঙ্কা’ শূণ্য নয় বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা যায়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর গত এই কয়েক মাস ধারাবাহিকভাবেই করোনা ইউনিটে আসা রোগিদের মৃত্যু হয়েছে। তবে সংখ্যা আগের চেয়ে কম। চলতি অক্টোবর মাসেও করোনা পজিটিভ ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে মোট ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে করোনা ও উপসর্গে ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আগস্টে ৩৬৪ জন, জুনে ৪০৫ জন এবং জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ৫৩১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু গত রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় কেউ মারা যায় নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে করোনার নিম্নমূখী অবস্থা চলছে। একারণে মৃত্যু সংখ্যা কম। এবং গত ২৪ ঘন্টায় সেই সংখ্যাটা শূণ্যও এসেছে। যেটা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে শঙ্কামুক্ত নয়। কেননা বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যায়। অন্যান্য সময়ে সংক্রমণ তুলনামূলক কমই থাকে। সুতরাং নিম্নমূখী সংখ্যাটা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে শঙ্কা আছে। আর শঙ্কা থাকলে সচেতনও থাকা একান্তই প্রয়োজন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. নওশাদ আলী জানান, দুইটি কারণে করোনার নিম্নমূখীতা হচ্ছে। এক করোনা ভাইরাস প্রাকৃতিকভাবেই চলে যাচ্ছে; অথবা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে যে কারণেই হোক করোনার এই নিম্নমূখীতা আমাদের জন্য ইতিবাচক।

তিনি আরও জানান, আগের চেয়ে আক্রান্ত রোগির জটিলতায় পরিবর্তন তেমন আসে নি। শারীরিক অবস্থা বুঝে ভাইরাস আগের মতোই আচরণ করছে। তবে বর্তমানে সংক্রমণটা অনেক কমেছে। তাই বলে শঙ্কাটাকে একেবারে অবহেলা করলে চলবে না। কেননা গত বছরে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মাঝামাঝিতে সংক্রমণটা বাড়তে দেখা গেছে। আগামী দিনে করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিবে এটা বুঝতে হলে এই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে এই সময়টাই একেবারে হেলাফেলা করা যাবে না।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৮ জন। যা বিগত সময়ের চেয়ে নিম্নমূখী। আবার চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৮ জন রোগি। সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন ৫৪ জন রোগি। যেখানে গত একমাস আগেও এক’শ এর উপরে ছিলো।

পরিচালক আরও জানান, হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ৫১৪ থেকে ডেডিকেটেড শয্যা সংখ্যা কমিয়ে ১৯২টি করা হয়েছে। এছাড়া রোববার (২৪ অক্টোবর) রাজশাহী জেলায় মোট ১৯১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে রাজশাহীতে সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ। যেটা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে শঙ্কা বিবেচনায় তাদের প্রস্তুতি আছে। আগের চেয়ে রোগিদের সেবার মানও উন্নত হয়েছে।