মেসিকে অপহরণ করেছিল আইএস!

আপডেট: এপ্রিল ২৮, ২০১৭, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



মেসিকে তারা খুব ভালোবাসে। মেসির ডাইহার্ট ফ্যান যাকে বলে। যে কারণে বাবা তার ছেলের নামই রেখে দিয়েছিলেন মেসি। মুসলিম ঘরের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র মেসিকে ভালোবেসে ছেলের নাম রাখলেন আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলারের নামে। এটাই ছিল তাদের অপরাধ। এ অপরাধে ২ বছর আগে ইরাকি মেসি, তার মা এবং বোনকে অপহরণ করেছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠি আইএস-এর জঙ্গিরা।
২০১৪ সালে অপহরণ করার পর ২ বছর আইএসের বন্দিত্বে ছিল ইরাকি মেসি এবং তার মা ও বোন। এরপর ৬ মাস আগে মুক্তি পান তারা। এখন রয়েছে সিরিয়া সীমান্তের কাছাকাছি একটি উদ্বাস্তু শিবিরে। কুর্দিস্থান২৪ নামে একটি সংবাদ সংস্থা ইরাকি মেসির সাক্ষাৎকার, তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
কুর্দিস্থানের ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের সেই ইরাকি মেসির জন্ম। বাবা ফুটবলপ্রেমী। শুধু তাই নয়, খুব বার্সা এবং মেসি ভক্ত। এ কারণে, ছেলের নামও রেখেছিলেন মেসি। ২০১৪ সালে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় আইএসের সন্ত্রাসীরা। ওই সময় প্রচুর মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যায় আইএস এবং তাদেরকে দাসত্বের জীবন গ্রহণ করতে বাধ্য করে।
সম্প্রতি সেই বন্দীশালা থেকে ২০১৪ সালে অপহরণকৃতদের অনেককেই উদ্ধার করা গেছে। মুক্তি পেয়েছে ইরাকি মেসি এবং তার মা ও বোন। ধারণা করা হচ্ছে অন্তত তিন হাজার মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে আইএসের বন্দিশালা থেকে। আরও অনেকে এখনও বন্দি রয়েছে।
কুর্দিস্থান২৪ এর বরাত দিয়ে ইরাকি মেসির অপহরনের সংবাদ এখন বিশ্ব মিডিয়ায় জায়গা করে নিয়েছে। ইরাকি নিউজ রিপোর্ট করেছে, ইরাকি মেসির মাকে আইএস তার ছেলের নাম পরিবর্তনে বাধ্য করেছে। আইএস তাদেরকে বলেছে, ‘অবশ্যই অবিশ্বাসীদের নাম রাখা যাবে না। এটা পরিবর্তন করতে হবে। মেসি থেকে নাম পাল্টে রাখতে হবে হাসান।’
তিন বছর বয়সে অপহৃত হওয়া সেই মেসির বয়স এখন পাঁচ। এখন সে পুরোপুরি বুঝতে শিখেছে কে আসল মেসি। তার বাবা কেন সেই মেসির ভক্ত। ইরাকি মেসিও এখন স্বপ্ন দেখে একদিন বড় মাপের ফুটবলার হবে।
গত বছর আফগানিস্তানে আবিস্কার হয়েছিল এক ক্ষুদে মেসির। মুর্তজা আহমদি নামে ৫ বছরের সেই শিশু পলিথিন কেটে মেসির আর্জেন্টাইন জার্সির মত করে বানিয়ে গায়ে পরেছিল। সেই ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর মেসি নিজে তার সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দেন এবং গত ডিসেম্বরেই আফগান মেসির সঙ্গে দেখা হয় আসল মেসির। জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম