মেসিকে হারিয়ে ফিফা বর্ষসেরাও রোনালদো

আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



ব্যালন ডি’অরের পর লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে ফিফার বর্ষসেরার পুরস্কারও জিতেছেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
বছর জুড়ে ব্যক্তিগত দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মোট চারটি শিরোপা জেতা রোনালদোর ফিফার নতুন চালু করা ‘দ্য বেস্ট ফিফা মেনস প্লেয়ার’ পুরস্কার জেতাটা অনুমিতই ছিল। দ্বিতীয় হওয়া চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড মেসি সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় সুইজারল্যান্ডের জুরিখে হওয়া এই অনুষ্ঠানেই আসেন নি।
মোট ভোটের ৩৪.৫৪ শতাংশ পেয়েছেন রোনালদো। পাঁচ বারের বর্ষসেরা মেসি পেয়েছেন ২৬.৪২ শতাংশ। তিন জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা অপর ফুটবলার আতলেতিকো মাদ্রিদের অঁতোয়ান গ্রিজমানকে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের মতো এখানেও দুই মহাতারকার পেছনে থাকতে হলো। ফরাসি এই ফরোয়ার্ড পেয়েছেন ৭.৫৩ শতাংশ ভোট।
২০০৮ সালে প্রথম ফিফার বর্ষসেরা ও ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর ব্যলন ডি’অর পুরস্কার জিতেছিলেন রোনালদো। দুটি পুরস্কার একীভূত হওয়ার পর ২০১৩ ও ২০১৪ সালের ‘ফিফা ব্যালন ডি’অর’ জেতেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। দুটি পুরস্কার আলাদা হয়ে যাওয়ার পর ২০১৬ সালের ব্যালন ডি’অর জেতার পর ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ হয়ে চতুর্থবারের মতো তিনি হলেন বর্ষসেরা ফুটবলার।
বছর জুড়ে অসাধারণ খেলা রোনালদোর ব্যক্তিগত ও দলগত সাফল্য ছিল আকাশচুম্বী। রিয়ালের হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার দুই মাসের মধ্যে গত জুলাইয়ে দেশকে প্রথমবারের মতো ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতাতে নেতৃত্ব দেন ৩১ বছর বয়সী এই তারকা। এ বছর ক্লাবের হয়ে মোট ৪২ গোল ও দেশের হয়ে ১৩ গোল করেন রোনালদো।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গত আসরে সর্বোচ্চ ১৬ গোল করা ও চারটি গোল করানো রোনালদোকে সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে ঠিক স্বরূপে দেখা যায়নি। কিন্তু আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ফাইনালে টাইব্রেকারের জয়সূচক গোলটি করেছিলেন তিনি।
গত মৌসুমে লা লিগায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৫ গোল করেছিলেন রানার্সআপ হওয়া রিয়ালের এই তারকা ফরোয়ার্ড। সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছিলেন পাঁচটি গোল। এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১১টি গোল করেছেন তিনি।
ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে দেশকে প্রথম শিরোপা জেতাতে নেতৃত্ব দেওয়া রোনালদো চোট পেয়ে ফাইনালের শুরুতেই ছিটকে পড়েছিলেন। তবে তিন গোল করে ও সতীর্থদের দিয়ে দুটি করিয়ে দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল তার।
জার্মান মিডফিল্ডার মেলানি বেহরিনগের ও ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড মার্তাকে পেছনে ফেলে বর্ষসেরা নারী ফুটবলারের পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার কার্লি লয়েড।
বর্ষসেরা ফুটবলার নির্ধারণে সমান ২৫ শতাংশ করে অবদান রাখেন ফুটবল বিশ্বের সব জাতীয় দলের অধিনায়ক, কোচ, বিশ্বজুড়ে ফিফা নির্বাচিত সাংবাদিক ও অনলাইনে ফুটবলপ্রেমীরা। ২০১৬ সালের ৪ নভেম্বর থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ভোট দেন তারা। ফুটবল বিশ্বকে চমকে লেস্টার সিটিকে প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন করানোর মূল কারিগর ক্লাওদিও রানিয়েরি ফিফা বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার পেয়েছেন।
ফিফা বর্ষসেরা গোলের পুরস্কার ‘পুসকাস অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছেন মালয়েশিয়ার মিডফিল্ডার মোহাম্মদ ফাইজ সুবরি।
ফিফা ফেয়ার প্লে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে আতলেতিকো নাসিওনালকে। বিমান দুর্ঘটনায় অধিকাংশ খেলোয়াড় হারানো ব্রাজিলের ক্লাব শাপেকোয়েনসেকে কোপা সুদামেরিকানার চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে বলে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়ার এই ক্লাব।
আগের ১০ বারের বিজয়ীরা:
ফিফা বর্ষসেরা: ২০০৬: ফাবিও কান্নাভারো, ২০০৭: কাকা, ২০০৮: ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ২০০৯: লিওনেল মেসি,
একীভূত ফিফা ব্যালন ডি’অর: ২০১০: লিওনেল মেসি, ২০১১: লিওনেল মেসি, ২০১২: লিওনেল মেসি, ২০১৩: ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ২০১৪: ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ২০১৫: লিওনেল মেসি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ