মেহেদির রঙ না মুছতেই নির্যাতনের শিকার কুলছুম

আপডেট: November 21, 2020, 10:22 pm

নওগাঁ প্রতিনিধি:


নওগাঁর রাণীনগরে হাত থেকে বিয়ের মেহেদীর রঙ না মুছতেই নির্যাতনের শিকার হয়েছে নববধূ উম্মে কুলছম (১৮) নামের এক কলেজ পড়ুয়া মেয়ে। বিয়ের ২২দিনের মাথায় শ্বশুর, শ্বাশুড়ি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মারপিটের চিহ্ন নিয়ে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যায় শুয়ে শুয়ে কাতরাচ্ছেন উপজেলার কনৌজ গ্রামের সামছুল ইসলামের মেয়ে কুলছুম। এদিকে হাসপাতালে ভর্তির প্রায় ২সপ্তাহ পার হলেও এখন পর্যন্ত কুলছুমের স্বামী কিংবা ওই পরিবারের কোনো সদস্যই কুলছুম দেখতে আসেনি এবং কোনো খোঁজ খবরও নেয়নি।
নববধূ কুলছুম জানায়, সে বর্তমানে রাণীনগর শের-এ বাংলা সরকারি মহাবিদ্যালয়ে এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। গত অক্টোবর মাসের ২৫ তারিখে একই গ্রামের আক্তারের ছেলে রাসেলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় লেনদেন কোনো কথা ছিলো না। কিন্তু বিয়ের ১৫দিন পার হতে না হতেই ফুফা শ্বশুর ময়েজের নেতৃত্বে স্বামী রাসেল, তার মা, বাবা ও বোন বাবার বাড়ি থেকে আমাকে যৌতুক হিসেবে ৩ লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলে। এরপর থেকে তারা আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। গত ১৬ নভেম্বর তার শ্বশুর, শ্বাশুড়ি ও ননদ কুলছুমকে কোনো যৌতুকের টাকার ব্যবস্থা না করার অপরাধে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে। মারপিটের এক পর্যায়ে কুলছুম জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর খবর পেয়ে কুলছুমের বাবা সামছুল ইসলাম মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে দেয়। কুলছুম আরো জানান, ইতোমধ্যেই তার স্বামীকে অন্য এক জায়গায় বিয়ে দেয়ার পাঁয়তারাও করছে তার শ্বশুর, শ্বাশুড়ি ও ময়েজ উদ্দিন।
কুলছুমের বাবা সামছুল ইসলাম বলেন, আমি অসহায় মানুষ। দিনমজুরের কাজ করে খাই। বিয়ের সময় যদি তারা আমাকে যৌতুকের কথা বলতো তাহলে আমি সেইভাবে আমার মেয়েকে বিয়ে দিতাম। আর তারা আমাকে বলবে কত টাকা লাগবে? কিন্তু আমার মেয়েকে যেভাবে তারা মারপিট করেছে আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এই বিষয়ে কুলছুমের স্বামী রাসেলকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করেন নি। রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, আমাকে বিষয়টি মেয়ের বাবা মৌখিকভাবে জানিয়েছে। কিন্তু লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ দেয়নি। লিখিতভাবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ