মোটরচালিত যান-সম্পর্কে সরকারের উদ্যোগ বিধিবদ্ধ ব্যবস্থার মধ্যেই সমাধান

আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২১, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

মোটরচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, ভটভটি বন্ধ না করে এগুলো চলাচলের এলাকা নির্ধারণ করে দেবে সরকার। একইসঙ্গে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি (আরটিসি) এসব যানের সংখ্যা বেঁধে দেবে বা সিলিং নির্ধারণ করে দেবে। সে অনুযায়ী নিবন্ধন দেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এছাড়া এসব যানের ভাড়াও নির্ধারণ করে দেয়া হবে।
এজন্য থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা করছে সরকার। এরই মধ্যে খসড়া ‘থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা, ২০২১’ প্রণয়ন করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নিচ্ছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজে প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে এসব যানের ব্যাপারে এ ধরনের ব্যবস্থার ব্যাপারে আলোচনা হয়ে আসছিল। অবশ্য বিভিন্ন মহল থেকে এ দাবিও করা হয় যে, ওইসব অযান্ত্রিক যান চলাচল বন্ধ করা হোক। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ও কর্মসংসংস্থান বিবেচনায় মোটেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জনবহুল বাংলাদেশে নানা ধরনের সমস্যা আছে। এসব সমস্যা ধরে ধরে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাসমূহকে বিবেচনায় নিয়েই সমাধানে উদ্যোগি হওয়া বাঞ্ছনীয়। আশার কথা যে, সরকার সে পথেই হাঁটছে। এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, মোটরচালিত ওইসব যান গ্রামীণ অর্থনীতির সাথে নিবিড়ভাবে গ্রথিত হয়ে আছে। এটাকে ইচ্ছে করলেই টেনে তুলে ফেলা যায় না। এ ছাড়াও এসব যান কৃষিপণ্যসহ যাত্রি পরিবহণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। এসব যানের ফলে গ্রামীণ জনপদের মানুষের সহজ অভিগম্যতার সৃষ্টি হয়েছে, যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। একটু পিছনে ফিরে দেখলে এসব যানের অবদান সহজেই বোধগম্য হয়। ২০১৩ ও ২০১৪ সালের যে ভয়াবহ জ্বালাও পোড়াও, হরতাল-অবরোধ আর খুনোখুনির মত নৈরাজ্য শুরু হয়েছিলÑ সেই সময় এসব যানই কৃষিপণ্যসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সরবরাহ নিশ্চিত করেছিল। হরতাল-অবরোধ অকার্যকর করতে এসব যানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি তিব্র করোনাকালেও এসব যানের ভূমিকায় পণ্য সরবরাহে তেমন ঘাটতি হতে দেয় নি। সর্বোপরি এসব যান জীবন-জীবিকার বাহনরূপেই ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
নিশ্চয় এসব যানের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের ফলে মারাত্মক ও জটিল কিছু সমস্যারও উদ্ভব হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার বাহুল্যের জন্য এসব যানকে দায়ি করা হচ্ছে। ব্যবস্থাপনার ঘাটতির জন্য এ ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। উন্নত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো অসম্ভব কিছু নয়। সরকার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি বিধিবদ্ধ ব্যবস্থার মধ্যে এনে এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা গেলে উদ্ভুত সমস্যার অনেকখানিই সমাধান হবে বলেই ধারণা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ