মোদির শপথের বিরোধিতায় কংগ্রেস-তৃণমূল

আপডেট: জুন ১০, ২০২৪, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


এনডিএ বৈঠকে সংবিধান তুলে মাথায় ঠেকিয়ে প্রনাম, শপথগ্রহণের সকালে গান্ধীজীর সমাধিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। তৃতীয়বার শপথ নেয়ার আগে কি সতর্কতা অবলম্বেন করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি? সেই প্রশ্নে জেরবার রাজধানীর রাজনৈতিক মহল। যদিও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মতে, এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিচারিতা ছাড়া কিছুই নয়।

জোটের সরকার। নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ এবং চন্দ্রবাবুর দল টিডিপির ওপর নির্ভর করে রয়েছে তৃতীয় এনডিএ সরকারের স্থায়িত্ব। তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণ করলেও, এর আগে জোট সরকার চালানোর কোনও অভিজ্ঞতা নেই নরেন্দ্র মোদির। সেই কারণেই এদিন শপথ গ্রহণের আগে ছুটে গেলেন প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং প্রথম এনডিএ সরকারের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ির সমাধিতে।

রবিবার সকালে রাজঘাটে শ্রদ্ধা জানিয়ে অটল বিহারী বাজপেয়ির সমাধিতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান মোদি। পাশাপাশি ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে গিয়ে শহিদ সেনা জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। সংবিধান মাথায় ঠেকিয়ে শ্রদ্ধা জানানো এবং গান্ধীজীর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোকে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস।

দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেছেন, ‘তাঁর আদর্শগত সৌভ্রাতৃত্ব এমন একটি বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করেছিল যে, ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি ঠাণ্ডা মাথায় মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করা হয়।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘তাঁর যে সমস্ত সহকর্মী নাথুরাম গডসেকে নায়ক হিসেবে তুলে ধরেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তিনি কখনও কোনো পদক্ষেপ করেননি।

একবার নয়, দুবার সংসদ ভবনে তিনি গান্ধীজীর মূর্তি স্থানান্তরিত করেছেন।’ জয়রাম রমেশের বক্তব্য, ‘তিনি ভুল দাবি করেছিলেন যে, ১৯৮২ সালে মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে সিনেমা তৈরির আগে পর্যন্ত গান্ধীজীকে কেউ চিনতেন না। বারাণসী, আহমেদাবাদ থেকে শুরু করে তিনি বিভিন্ন গান্ধীবাদী প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছেন। দ্বিচারিতা।

‘ জয়রামের কথায়, ‘২০২৪ সালের ৮ মে দুজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কালো টাকা ভর্তি টেম্পো চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। আমরা ইডি মারফৎ পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছিলাম। আজ সেই দুই ভদ্রলোক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত।’

তৃণমূলের বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদি কেবলমাত্র সংখ্যা পেয়েছেন। তিনি মানুষের রায় পাননি। দলের রাজ্যসভার সাংসদ সাকেত গোখলের কথায়, ‘যে ব্যক্তি পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ, সেই ব্যক্তি আজ শপথগ্রহণ করছেন। দেশের মানুষকে মোদিকে প্রত্যাখান করেছেন।

বিজেপির ব্যালটে তাঁর মুখ থাকার পরেই ২৭২টি আসন পাননি। নরেন্দ্র মোদির নিজের জয়ের ব্যবধান ৬ লক্ষ থেকে কমে হয়েছে ১.৫ লক্ষ। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য ছোটো দলগুলিকে মন্ত্রীত্ত্বের ঘুষ দিচ্ছেন মোদি। জনপ্রিয়তাহীন একজন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একটধীন একটি অস্থির সরকার বেশিদিন চলতে পারে না।’
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ