মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে কর্মচারীর হাত ভেঙে দিল সাবেক ছাত্রদল নেতা ।। বিক্ষুব্ধ জনতার বাড়ি ঘেরাও

আপডেট: মে ৬, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌর সদরে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে রহিদুল ইসলাম (২০) নামের বিস্কুট কারখানার এক কর্মচারীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের এক সাবেক নেতা। ওই ছাত্রদল নেতার নাম সানোয়ার হোসেন টুকুল। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার গ্রামের বাড়ি বরিদ বাঁশাইলে হলেও গত কয়েক বছর ধরে দুর্গাপুর সদরে শ্বশুর চাঁদ মিয়ার বাড়িতে ঘরজামাই থাকেন।
অপরদিকে নির্যাতিত কর্মচারী রহিদুলের বাড়ি উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামে। রহিদুল ওই গ্রামের সবির মণ্ডলের ছেলে। দুর্গাপুর সদরের হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা শ্রী মুহিত সরকারের বিস্কুট কারখানার কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন রহিদুল। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ছাত্রদল নেতা টুকুলের বাড়ি ঘেরাও করলে পুলিশ খবর পেয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। তবে ঘটনার পর থেকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় ছাত্রদল নেতা টুকুল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২৮ এপ্রিল ছাত্রদল নেতা টুকুলের একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। ওই মোবাইল ফোনটি ওই দিন রাতেই বিস্কুট কারখানার শ্রমিক রহিদুল ইসলাম ৪০০ টাকা দিয়ে কিনে নেয়। পরের দিন ওই মোবাইল ফোনটি টুকুল রহিদুলের হাতে দেখতে পেয়ে নিজের ফোন দাবি করে রহিদুলকে চড় থাপ্পড় মেরে কেড়ে নেয়। ওই দিন স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মিমাংসাও করে দেন।
কিন্তু গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠে বসে থাকা রহিদুলকে ডেকে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে পেটাতে থাকেন। এ সময় রহিদুল হাত দিয়ে বাধা দিতে গেলে তার হাতেও আঘাত করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে টুকুল পালিয়ে বাড়িতে অবস্থান নেয়। পরে ওই এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে টুকুলের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুর্গাপুর থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে এবং টুকুলের বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাশি চালায়। এ ঘটনার পর রহিদুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, টুকুলের ফোনটি রহিদুল চারশ টাকা দিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনে নেয়।
দুর্গাপুর থানার এসআই আব্দুস সালাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা হয় এবং টুকুলের বাড়ি ঘেরাও করা হয়। তবে সেখানে পৌছার আগেই পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায় টুকুল। টুকুলের বিরুদ্ধে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের মারধরসহ ৫ থেকে ৬টি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ