মোহনপুরে আউশ কাটা শুরু, ফলন বিপর্যয়

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

মোস্তফা কামাল, মোহনপুর :


মোহনপুরে শরতের শুরুতেই আউশ ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। মাঠজুড়ে কৃষক শ্রমিকদের ব্যস্ততার শেষ নেই। আধুনিক যন্ত্রের ব্যপক পরিচিতি ও প্রচলন না ঘটার কারণে এখনও রয়েছে শ্রমিকের চাহিদা। গভীর রাত পর্যন্ত চলছে সেই থ্রেসার মেশিনে ধান মাড়াইয়ের কাজ। তবে ধানের গাছপাত ভাল হলেও ফলন বিপর্যয়ের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন কৃষকরা।

সরোজমিন উপজেলার, উল্লেখযোগ্য, মগরা, মহবতপুর, আমরাইল ও হাটরা বিলসহ সকল মাঠের খেতের আউশ ধান পেকে পরিপূর্ণ। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। যা বিগত পাঁচ বছরের তুলনায় প্রায় ২হাজার হেক্টর কম। চলতি মৌসুমে বেশিরভাগ জমিতেই উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে। মৌসুম শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলে পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃস্টিপাত না হওয়ার কারণে স্থানীয় জাতের ধান ভাল হয়নি বলে জানিয়েছেন অনেক কৃষকরা। কৃষি বিভাগের দাবী কিছু কৃষকদের অসাবধনতার কারণে দুই এক স্থানের খেতে নতুন রোগ এবং ইঁদুরের সামান্য ছিল। বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির ফলে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের ভাল ফলনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তারা।

মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার বাকশৈল মহল্লার কৃষক আবদুস সাত্তার জানিয়েছেন আউশ ধান কাটা মাড়াই শেষ পর্যায়ে। এবার খরা এবং পোকার আক্রমণের কারণে ফলন কিছুটা কম হয়েছে। আশা ছিল প্রতি বিঘায় ২০ মণ ধান ফলবে কিন্তু প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ১৬ থেকে ১৭ মণ।

হরিদাগাছি মহল্লার কৃষক ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন ধানের গাছপাত খুব ভাল হয়েছিল। আশা ছিল ভাল ফলন হবে। তবে জমিতে গিয়ে দেখছি শীষ হালেনি। অর্ধেক ধান চিটা। এ থেকে ধারনা করছি ফলন ভাল হবে না। আবদুর রাজ্জাক নামের অপর একজন কৃষক জানিয়েছেন ধান কাটা-মাড়াইয়ের মন খুব খারাপ। বেশি ভাগ ধান মরা। ফলন অর্ধেক হয়েছে। পোকা লাগছিল কিন্তু বুঝতে পারিনি।

জানতে চাইলে মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা. রহিমা খাতুন বলেন, এবার ইঁদুরের আক্রমণ তেমন ছিলনা। গুরুত্বহীন কিছু সংখক কৃষকের ধান খেতে নতুন রোগ লক্ষ্য করা গছে। তবে ফলন কম হওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কিছু জানায় নি।