মোহনপুরে আধুনিক প্রক্রিয়ায় বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষক

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

মোস্তফা কামাল, মোহনপুর:


মোহনপুর উপজেলা জুড়ে পুরোদমে শুরু হয়েছে আধুনিক পদ্ধতিতে বোরো চাষ। সকল স্থানেই আগাম জাতের ধানের চারা রোপন শেষ হলেও এখন চলছে পুরোদমে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক রোপনকাজ শেষ করলেও কেউ কেউ জমি চাষের মধ্যে রয়েছে। তবে আলু চাষের জমিতে বোরো রোপন কিছুটা পিছিয়ে যাবে বলে জানায় কৃষকরা। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে বোরো চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৩শ হেক্টর জমি।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের উৎপাদিত বোরো ধানের দাম ভাল থাকার কারণে কৃষকরা চলতি মৌসুমে পুরোদমে বোরো চাষ শুরু করেছে। উপজেলার উল্লেখযোগ্য মগরা, তিলাহারি, মতিহার, গুসাই, জাওইবিলসহ সব স্থানেই বোরো চাষে নেমেছে কৃষকরা। আধুনিক চাষ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে এগিয়ে চলছে চাষ পদ্ধতি। আগাম রোপনের সময় পাওয়ার কারণে উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে হাইব্রিড-১১, হাইব্রিড-১২ হাইব্রিড ৭৬, জিরাশাইল এবং আটাশ জাতের ধানের চারা রোপন লক্ষ্য করা গেছে। কৃষকদের ধারনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে গত বছরের মতোএক বছরও তারা ধানের ভাল ফলন পাবে বলে আশাবাদী।
উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার তিলাহারি মহল্লার কৃষক এনামুল হক বলেন, চলতি মৌসুমে আমি চার বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন শেষ করেছি। এখন পরিচর্যা কাজ শুরু করা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভাল হবে বলে আশাবাদী তিনি।
উপজেলার জাওইবিলে বোরো ধানের চারা রোপন করেছেন গোছাগ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, আগাম জাতের বোরোধানের চারা রোপন করা হয়েছে। আর কিছু দিন পর আলু চাষের জমিতে বোরোর চারা রোপন করা হবে। ধুরইল গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর ধানের দাম কম ছিল এজন্য লোকসান গুণতে হয়েছে। তবে গতবছর ধানের ভাল দাম থাকায় লাভ হয়েছে বলে এবার চার বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছি। ভাল ফলন হবে বলে মনে করেন তিনি।
জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার রহিমা খাতুন বলেন, বোরো ধানের চারা রোপন আগেই শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় পণ্য সহজ সরবরাহ পাওয়ার কারণে অধিকাংশ মাঠেই কৃষকদের বোরো রোপনে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। বোরো রোপনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপসহকারি কৃষি অফিসাররা কাজ করছেন। প্রাকৃতিক বালায় না আসলে চলতি মৌসুমেও বোরো ধানের ভাল ফলন হবে বলেন আশাবাদী তিনি।