মোহনপুরে আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: অক্টোবর ২৭, ২০১৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ


মোস্তফা কামাল, মোহনপুর
রাজশাহীর মোহনপুরে চলছে আমন উৎসব। বাড়িতে কৃষাণী এবং মাঠে মাঠে চলছে কৃষকের ব্যস্ততা। শুখনো আবহাওয়ার কারণে অনেকটায় আনন্দের সঙ্গে কাজ করছেন শ্রমিকরা। পান বরজের ছাউনিতে অতি প্রয়োজনীয় হিসেবে আমন ধানের আউড়ের চাহিদা ও দাম বেশি। এজন্য ধানের পাশাপাশি খড়ের প্রতি বেশি যত্মশীল কৃষকরা। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ মণের বেশি ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহনপুরে আমন চাষের পরিমাণ কিছুটা কম হলেও অতিবৃষ্টি, বন্যার কারণে সম্প্রতি উপজেলার ঘাসিগ্রাম, বেলনা, গোছাহাট, আথরায়, শ্যামপুর, বিদিরপুর, চক আলম, মরমইল, আমরাইল, শিবপুর, কুঠিবাড়ি, মেলান্দি, বাদেজুল, বিষহারাসহ অনেকস্থানেই আমন চাষ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের জরিপ অনুযায়ী, এ উপজেলায় প্রায় দুই হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে কিছু খেতে পোকার আক্রমণ হলেও ভালো ফলনের আশাবাদী কৃষকরা। বাজারে ধানের পাশাপাশি আউড়ের দাম বেশি বলে ভালো লাভের আশা করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হলেও আগামী সপ্তার দিকে পুরোদমে ধানকাটা শুরু হবে। আবার পরিবারে চলছে উঠান তৈরির কাজ।
উপজেলার গোছা গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ১২ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। প্রতিটি খেতেই ভালো ধান হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২০ মণ থেকে ২২ মণ হারে ধানের ফলন হবে বলে আশা করছেন তারা। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভালো থাকায় সেচকাজে কোনো সমস্যা হয় নি। বাজারে ধানের দাম ভালো আছে। এছাড়াও গোখাদ্য এবং পান বরজে ব্যবহারের জন্য আউড়ের খুব ভালো দাম থাকায় ভালো লাভ হবে বলে আশাবাদী তিনি।
মেলান্দি গ্রামের কৃষক নঈম উদ্দিন জানান, প্রথম অবস্থা থেকে আমন চাষে কোনো সমস্যা না থাকলেও শেষ মহূর্তে কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের ধান একবারে কাটার অনুপোযোগীও হয়ে পড়েছে। তবে খড়ের দামে ক্ষতির মাত্রা অনেকটাই কমে আসবে। আগাম জাতের ধানের ফলন ভালোই হচ্ছে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার রহিমা খাতুন বলেন, চলতি মৌসুমে দুই একটি খেতে পোকার আক্রমণের সঙ্গে কৃষকদের সচেতন করতে উপসহকারিদের দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শে পোকা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কৃষকরা আমনের ভালো ফলন পাবে বলে তিনি আশাবাদী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ