মোহনপুরে আ’লীগ নেতার সহায়তায় যুবদল নেতার জমি দখল || অবরুদ্ধ একটি পরিবার

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

কেশরহাট প্রতিনিধি


মোহনপুরে যুবদল নেতার নির্মাণাধীন দোকান ঘর-সোনার দেশ

রাজশাহীর মোহনপুরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অন্যের জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় সংঘর্ষে দুইজন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দখলকারিদের ক্ষমতার অপব্যবহারে আইনগত ব্যবস্থা ছাড়াই ফিরে যায় পুলিশ।
সরেজমিন গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বেলনা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলামের সাথে পৈতৃক জমি নিয়ে একই গ্রামের সেলিম উদ্দিনের ছেলে যুবদল নেতা উজ্জল হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ইতোপূর্বে গ্রাম্য মিমাংসা বৈঠকে ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা ওই জমির সীমানা নির্ধারন করে দেয়। পরবর্তীতে উজ্জল হোসেন স্থানীয়দের মিমাংসা অমান্য করে রবিউলসহ ১০ জনকে আসামি করে মোহনপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গত সোমবার আদালত থেকে রবিউলসহ অন্যরা জামিন নেন। এ খবর পাওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম বাবলু, ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেনের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন যুবদল নেতা উজ্জল হোসেন জোর করে রবিউল ইসলামের জমিতে দোকানঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এসময় রবিউল ঘর নির্মাণে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দুই জন আহত হন। আহতরা হলেন রবিউল ইসলাম (৪০) ও বুলবুল হোসেন (৩২)।
রবিউল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যানের আজাহারুলের সহয়তায় উজ্জল ঘর নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া তারা আমার পরিবারের লোকজনকে এখন পর্যন্ত ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাদের হুমকিতে এখনো আমরা বাড়িতে অবরুদ্ধ আছি। এমন কি আমরা ভাল চিকিৎসা নিতেও পারি নি।
এঘটনার পর থেকে ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম বাবলুর ব্যবহৃত ০১৭১১- ০১৩৮৮৪ নম্বরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সকালে তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায় নি।
ওই গ্রামের আ’লীগের নেতা আবদুল মান্নান বলেন আ’লীগ পরিবারকে সহযোগীতা না করে স্থানীয় আ’লীগ নেতারা একজন যুবদলের নেতার পক্ষ নিয়ে কাজ করায় দন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানাতে চাইলে মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ বলেন, আমার জানা মতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজাহারুল এবং স্থানীয় লোকজন উভয় পক্ষের দিকে লক্ষ্য রেখে সীমানা নির্ধারন করেছিল। পরবর্তীতে উজ্জল হোসেন আজাহারুল চেয়ারম্যানের সহয়তায় সাধারণ লোকজনের উপর মামলা দিয়ে হয়রানী করে। এমন কি গত সোমবারের ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সহযোগিতায় ঘর নির্মাণসহ জমির মুল মালিককে মারপিট করেছে। এখানে পুলিশ প্রশাসনকেও তারা তোয়াক্কা করে নি। এছাড়াও সাংসদের সাবেক পিএস ও বড়ভাই চেয়ারম্যান আজাহারুল পুলিশ ও জনসাধারনের কাছে খারাপ আচরণ করেছেন। সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।
মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন ঘটনাস্থলকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন পূর্বে একটি মামলা হয়েছিল মামলার আসামিরা জামিনে আছে। গত সোমবার রাতে ঘর নির্মাণের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে পুলিশ ফিরে আসার কথা অস্বীকার করেন তিনি। তিনিি আরো বলেন, এবিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করে নি তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ