মোহনপুরে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শূন্য একটি গ্রাম

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২, ১১:৩০ অপরাহ্ণ

মোহনপুর প্রতিনিধি:


মোহনপুরের জাহানাবাদ ইউনিয়নের তেঘরমাড়িয়া গ্রামে গভীর নলকূপের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ১২ সেপ্টেম্বর আবু বক্কর ও আবু তাহের গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এঘটনায় আবু বক্কর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। তিনি হাসপাতাল থেকে তার লোকজনকে উস্কে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে আবু বক্করের লোকজন গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গিয়ে আবু তাহেরের লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ খবর প্রচার হলে দু’পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আবু তাহের, বেলাল এবং সুরুজসহ ৬ জন গুরুতরভাবে আহত হয়। এদের মধ্যে আবু তাহের সরুজ এবং বেলালকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে মোহনপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে কয়েক জনকে আটক করে। এরপর ওই এলাকা পুরুষ শূন্য। শুক্রবার বিকেলে তেঘর মাড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নারী, শিশু ও অসুস্থ ছাড়া কোন পুরুষ নায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেঘর মাড়িয়া মৌজার-১ গভীর নলকূপটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করে দীর্ঘদিন ধরে নিজের কুক্ষিগত করে রাখেন আবু বক্কর। এতে খরা মৌসুমে পানি সেচের অভাবে পুড়ে মারা যায় বোরো ধান। পরবর্তীতে কৃষকদের কঠোর দাবির মুখে ওই গভীর নলকূপটি কৃষকদের তদারকিতেই চলতো। আবু বকর পুনরাই গভীর নলকূপটি হস্তগত করার পাঁয়তারা করছিলেন।

জাহানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, এবিষয় নিয়ে ইতোপূর্বে দু’পক্ষকে নিয়ে মিমাংসার চেষ্টা করা হয়। তারা মেনে নিতেও চাই। তবে পরবর্তীতে পশুর মতো আচরণ করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে গ্রামের মানুষরা ভয়ে পালিয়ে রয়েছে।
জানতে চাইলে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ওই গ্রামে শান্তি শৃংখলা রক্ষায় একটি কমিটি রয়েছে।

তারা সঠিক দায়িত্ব পালন করে নি। এর আগে মারামারিতে বাক্কার পক্ষের একটি অভিযোগ দায়ের হয়। এঘটনায় পুলিশ আসামি ধরার জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। শুক্রবার হঠাৎ করে তারা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কয়েক জনকে আটক করে। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে মারামারির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয়। তবে তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।